প্রবাসে প্রাকৃতজন: পরিবেশ পরিচিতি (১ম ভাগ)

পূর্বের পর্ব: প্রবাসে প্রাকৃতজন: যাত্রা পর্ব – The Exodus

ডাক্তারের রুম থেকে বেরিয়ে আমাদের লাগেজ সংগ্রহ করে বেরিয়ে এলাম । এখন যাবো মাসুমের বাসায়, সে থাকে ইষ্ট লন্ডনের বেথনাল গ্রীন এলাকায়। ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে সার বেঁধে দাঁড়ানো অনেক ট্যাক্সি। নিয়মানুযায়ী সবার সামনে দাঁড়ানো ট্যাক্সির ড্রাইভার আমাদেরকে নিতে বাধ্য। কিন্তু গন্তব্য শুনেই বলল যে, সে যাবেনা। তবে আমরা কিছু বলার আগে সেই তাড়াতাড়ি বলল, চিন্তা কর না, আমাকে এক মিনিট সময় দাও, আমি তোমাদেরকে আরেকটা ট্যাক্সি জোগাড় করে দিচ্ছি। এরপর সে তাঁর পেছনের ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করল বেথনাল গ্রীন যাবে কিনা। সেই ড্রাইভার বলল, ইটস নট মাই টার্ন মেট! প্রথম ড্রাইভার কথা না বাড়িয়ে তার পেছনের ড্রাইভারের কাছে গেল। আমরা তাঁদের কথাবার্তা আর কথা শুনতে পাচ্ছি না, কিন্তু ভদ্রলোকের পাংশু মুখটা ঠিকই দেখতে পাচ্ছিলাম। এভাবে একের পর এক ট্যাক্সি পার হয়ে সে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। এদিকে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের পেছনে ছোট খাট একটা লম্বা কিউ জমে গেছে। আমাদের একটা হিল্লে না হওয়া পর্যন্ত অন্য কেউ ট্যাক্সি নিতে পারছে না। এরকম অস্বস্তিকর অবস্থার মাঝেও নিজেকে মনে মনে মৃদু বাহবা দিলাম, ঢাকা থেকে আসতে না আসতেই লন্ডনে জ্যাম বাঁধিয়ে দিলাম! শাবাশ! আমাকে দিয়েই হবে।

কয়েক মিনিট পরে দেখি অনেক পেছন থেকে একটা ট্যাক্সি এসে আমাদের সামনে দাঁড়ালো। ভেতর থেকে নেমে এল গাট্টা গোট্টা এক তরুন ড্রাইভার এবং সাথে সেই প্রথম ড্রাইভার। চোখে মুখে বিশাল পরিতৃপ্তির ছোঁয়া নিয়ে সে আমাদেরকে বলল, কিছু মনে কর না ইয়ার, এ তোমাদেরকে বেথনাল গ্রীন পৌঁছে দেবে, খুব ভালো ছেলে। আমরা বিদায় নিয়ে উঠে বসলাম ট্যাক্সিতে। পেছনে তাকিয়ে সেই লম্বা কিউ এর পানে তাকালাম, সেখানেও সবার মাঝেও কেমন একটা হাঁপ ছেড়ে বাঁচার মত ভাব দেখতে পেলাম। যেন রবি ঠাকুরের ভাষায় – ধর্মরাজ্যে পুনর্বার শান্তি এল ফিরে।

সহি সালামতেই মাসুমের বাসায় পৌঁছলাম। মাসুম তখনও কাজ থেকে ফেরেনি, ভাবীই আপাতত আমাদের খাওয়া-দাওয়া সহ সব দায়িত্ব নিলেন। আমাদের জন্য সপ্তাহ দুয়েক থাকার মত একটা বাসা ঠিক করে রাখার কথা মাসুমকে আগেই বলে রেখেছিলাম। কাজ থেকে ফিরে সে আমাদেরকে নিয়ে চলল আমাদের নতুন বাসায়। শ্যাডওয়েল টিউব ষ্টেশনের কাছেই বাসা। বাসার সামনে পার্ক পেরোলেই বিখ্যাত টেমস নদী। বাসার মালিক বাংলাদেশের এক সাংবাদিক, সিলেটী। এদেশে আসা-যাওয়ার ওপরে আছেন বহু বছর, সম্প্রতি পলিটিকাল এসাইলাম পেয়েছেন। কাউন্সিল থেকে একটা বড় বাসা বরাদ্দ পেয়েছেন পুরো পরিবার নিয়ে থাকার জন্য। ১৪ বছরের ছেলে অন্তুকে নিয়ে তিনি সেখানে থাকেন, স্ত্রী এবং অন্যান্য সন্তানদেরকে বাংলাদেশ থেকে এদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এখন আপাতত তার বাসার অর্ধেকটা আমাদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। এই বাসাতে দিন দশেকের মত থাকার পরে ম্যানরপার্কে একটা ছোট্ট ভাড়া বাসায় উঠলাম।

এই দশ দিনের মাঝে হেঁটে হেঁটে আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখলাম। নদীর পাড় ধরে হাঁটতে আমার খুব ভালো লাগতো। আর এদিকে অন্তু আমার মত একজন নবাগত কে পেয়ে তাকে লন্ডনের জীবন-যাত্রা সম্পর্কে জ্ঞান দেবার জন্য কোমর বেঁধে নেমে গেল। বাসে চড়া, অয়েস্টার কার্ড ব্যবহার করা, টিউব চড়া, সুপারশপে গিয়ে কেনাকাটা করা, ইত্যাদি হেন কোন বিষয় নেই যেখানে সে তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার উজাড় করে দেয় নি। এর মাঝে একদিন ওকে জানালাম যে, অয়েস্টার কার্ডে মাত্র সাড়ে চার পাউন্ড খরচ করেই সারাদিন বাসে-টিউবে ঘুরে বেড়ানো যায়, আর অনুর্ধ ১৬ হবার সুবাদে তোমার জন্য খরচটা আরও কম হবে। আমার কথা তার বিশ্বাস হল না। সে বলল, আমি এক বছরের উপরে এই দেশে আছি, আর আপনি দুই দিন হয় লন্ডনে এসে আমার চেয়ে বেশী জেনে ফেলেছেন? অতএব, কি আর করা? হাতে কলমে প্রমাণ দিতে হল। লন্ডনের যে কোন রেল ষ্টেশনে গেলেই এসব ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সহ প্রচুর লিফলেট-পোষ্টার-পুস্তিকা পাওয়া যায়, বিনা মুল্যে। শুধু তুলে নিয়ে পড়ার অপেক্ষা। এই ঘটনার পর থেকে কেন জানি না, আমার প্রতি উপদেশবারি বর্ষণে অন্তুর মাঝে আর বিশেষ কোন উৎসাহ দেখা গেল না।

শ্যাডওয়েল ষ্টেশনের কাছেই দেশী মাছের বিশাল বাজার, স্থানীয়রা বলেন শেড্যুল মাছ-বাজার। হাঁটতে হাঁটতে একদিন সেখানেও গেলাম। গিয়ে দেখি সারি সারি দোকান, এক একটা ছোট-খাট সুপারস্টোর। শুধু মাছ না, যাবতীয় সব বাঙালী শাক-সব্জি, মশলা-মিঠাই, পান-সুপারি সেখানে পাওয়া যায়, এমন কি জর্দা-চুন ও বেশুমার! দোকানগুলির সাইনবোর্ড সব বড় বড় করে বাংলায় লেখা। জাত বেজাতের বাঙালীতে পুরো এলাকা রীতিমত আবজাব করছে। বাতাসেও কেমন যেন বাংলা বাংলা গন্ধ, আবহটাই একেবারে দস্তুরমত বাঙালী! এই বিভূঁইয়ে এমন একটুকরা বাংলাদেশ সাজানোর জন্য মনে মনে স্থানীয় সিলেটীদের প্রতি একধরনের কৃতজ্ঞতার আর্দ্রতা অনুভব করলাম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবেগের আবেশ বেশ খানিকটা ফিকে হয়ে গেল। দেখি এক দোকানের সামনে বড় করে লেখা – “পয়সা দিয়ে বেজাল কেন কাবেন? একমাত্র আমরাই নিরবেজাল বেঙ্গালী খাবার …” ইত্যাদি ইত্যাদি! কথ্য ভাষা যেরকমই হোক না কেন, লিখিত ভাষাটা তো যতটা সম্ভব নির্ভেজাল হওয়া উচিত! আর, আমরা বাদে বাকী সবাই ভেজাল – এরকম কথাবার্তা লেখাটাও তো একধরনের অসুস্থতা।

পরেরদিন বাসে করে ব্রিকলেন দেখতে গেলাম। বাসা থেকে খুব দূরে না, হেঁটেও যাওয়া যায়। ব্রিকলেনে ঢোকার একটু আগেই রাস্তার উল্টোপাশে আলতাব আলী পার্কের ভিতরে শহীদ মিনার দেখলাম। রাস্তার দুই পাশেই সারি সারি বাঙালী রেস্টুরেন্ট আর অন্যান্য দোকান। সোনালি ব্যাংক হাতের বামে রেখে আরও এগিয়ে গেলাম। হঠাত দেখি মিষ্টির দোকান, বাংলাদেশের বনফুল! তাঁদের মিঠাই-মন্ডার কালেকশানও প্রচুর। এরপরে যতদিন লন্ডনে ছিলাম সুযোগ পেলেই শিঙাড়া আর রসগোল্লা খাবার জন্য এখানে চলে আসতাম। মনে মনে একটা মোক্ষম অজুহাত তৈরি করে ফেলেছিলাম। যেহেতু এই ঠান্ডার দেশে টিকে থাকার জন্য স্থানীয়রা দেদারছে এলকোহল পান করে, সেহেতু আমাকেও এই পরিবেশে টিকে থাকতে হলে এলকোহলের বিকল্প হিসাবে প্রচুর পরিমানে মিষ্টি খেতে হবে। শরীরে এনার্জি জোগানোর ক্ষেত্রে আমাদের মিঠাই-মণ্ডাগন এলকোহলের মত এতটা করিৎকর্মা না হলেও একেবারে ফেলনা নয়!

স্থানীয় অনেক বাঙালীর সাথেই পথে-ঘাটে, দোকানে-বাসে কথা হত। উপমহাদেশীয় চেহারার অপরিচিত মানুষ দেখলে সাধারণতঃ ওঁরাই পাশে এসে জিজ্ঞাসা করেন, “বেঙ্গালী নি?” – এই ‘নি’ শব্দটা এতই অনুচ্চারিত যে অনভ্যস্ত কানে সহজে ধরা পরবে না। আর এর ফলে তাঁদের প্রশ্নটা ইংরেজ, বাঙালী, সিলেটী কারুরই বুঝতে অসুবিধা হয়না। ঠিক যেমন ঢাকাইয়া টানে “আইছি!” বলে হুঙ্কার দিলে সেটার মর্মার্থ বাঙালী, ফিরিঙ্গী, সবাই ঠিক ঠিক বুঝতে পারে। লন্ডনে বসবাসকালীন ওই কয়েক মাসেই কয়েক শতবার এই “বেঙ্গালী নি?” প্রশ্নটা শুনেছি। হ্যাঁ বাচক উত্তর দিলেই পরের প্রশ্ন, “ডাকা না সিলেট?” আমিও মজা করে বলেছি – কোনটাই না। অনেক প্রশ্নকর্তাই এরকম উত্তর শুনে কিছুটা ধন্দের মধ্যে পড়ে যান। ভাব খানা এমন যে, ঢাকা, সিলেট আর লন্ডন ছাড়া বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের আর কোথাও “বেঙ্গালী মানুষ” থাকতে পারে না। কেউ কেউ আছেন নন-সিলেটিদের সবাইকে ঢাকা থেকে আসা বলে মনে করেন এবং তাঁদের প্রতি এক ধরনের বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। তবে সবাই এরকম নন। তাছাড়া এই প্রবাসে এসেও তাঁদের কল্যানেই আমরা বাঙালী জীবনের সব উপাচারই অনায়াসে হাতের কাছে পাচ্ছি – এটাও মনে রাখা প্রয়োজন।

পরের পর্ব: প্রবাসে প্রাকৃতজন (পর্ব ০.৫)

১,৭৮৪ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “প্রবাসে প্রাকৃতজন: পরিবেশ পরিচিতি (১ম ভাগ)”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    “ডাকা না সিলেট?” আমিও মজা করে বলেছি – কোনটাই না। 🙂

    আমার হয় উলটো টা, জানো! সিলেটি কেউ যদি জানতে চায়, তুমার বাড়ী খনে? আমি খুব নিরীহ মুখে বলি, খিতা মাতুইন গো, আফনে? আমরার বাড়ী বিয়ানীবাজার গো, আফা!

    জবাব দিন
    • মুজিব (১৯৮৬-৯২)

      😀 😀 😀 :thumbup: আফা !

      তবে আমি অতদুর সাহস করিনি কখনো, বিশেষ করে কোন 'আফা'গোর সাথে তো ভুলেও না। ভুলভাল উচ্চারণে কি বলতে কি বলে ফেলব, অন্য কোন অর্থ হয়ে যাবে, শেষে পৈত্রিক প্রাণ অক্ষত থাকলেও মান ইজ্জতের বারোটা বেজে যাবে!
      যা হোক, তুমরার অরিঝিনাল বারি খনে গো আফা? গর ই বা খুতায়? :-/ :-/

      PS: auto-initiated-action: :frontroll: :frontroll: :frontroll:


      গৌড় দেশে জন্ম মোর – নিখাঁদ বাঙ্গাল, তত্ত্ব আর অর্থশাস্ত্রের আজন্ম কাঙ্গাল। জাত-বংশ নাহি মানি – অন্তরে-প্রকাশে, সদাই নিজেতে খুঁজি, না খুঁজি আকাশে।

      জবাব দিন
      • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

        আমি সবার সাথে মিশি, জানো! কথা যদিও দুচারটের বেশী কথা বলতে পারি না। কিন্তু বললে আফারা এতো খুশী হয়ে যান কি বলবো! আমার আশেপাশে বাঙ্গালী পরিবার নাই, তাই "খারো সাতে" দেখা সাক্ষাত হলে মজা করে কথা বলি।

        আঙ্গো বাড়ী মুইমনশিং! মুক্তাগাছায় গর আছে, অহন আছি আটলান্টায়, ভাইডি!

        জবাব দিন
        • মুজিব (১৯৮৬-৯২)

          আমি তো ছয় মাস না যেতেই লন্ডন ছেড়ে পালিয়ে পাশের একটা ছোট্ট শহরে এসে উঠেছি, তাই খুব বেশী মেলামেশা করার সুযোগ পাইনি। আচ্ছা আফা, মার্কিন মুলুকেও কি ওনাদের আনাগোনা বেশুমার?

          আঃ হা, শুনছি ময়মনসিং জায়গাডা নাকি বড়ই সৌন্দর্য! কখনও যাওনের ফুরসৎ পাই নাই।


          গৌড় দেশে জন্ম মোর – নিখাঁদ বাঙ্গাল, তত্ত্ব আর অর্থশাস্ত্রের আজন্ম কাঙ্গাল। জাত-বংশ নাহি মানি – অন্তরে-প্রকাশে, সদাই নিজেতে খুঁজি, না খুঁজি আকাশে।

          জবাব দিন
  2. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    চমৎকার লিখা। যাকে বলে ঝরঝরে।
    একটানে পড়ে গেলাম দুইটা পর্ব।
    এবং পাটের আনন্দ বলে যে কথাটা আছে, সেটা পেলাম পুরোপুরিই।
    সাব্বাশ, চালিয়ে যাও তোমার রেসিপি। আমরা তো আছিই চেটেপুটে খাবার জন্য।


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • মুজিব (১৯৮৬-৯২)

      জানিনা, হয়তো আমার ইংলিশ অ্যাকসেন্ট শুনে ভেবেছিল, কেইম ফ্রম ভিলেজ - এর কাছ থেকে খুব একটা বখশিস-টখশিস পাওয়া যাবে না।
      কাউকে আহত না করে এর চেয়ে ভালো কোন ব্যাখ্যা আমি আজও খুঁজে পাইনি। :-/


      গৌড় দেশে জন্ম মোর – নিখাঁদ বাঙ্গাল, তত্ত্ব আর অর্থশাস্ত্রের আজন্ম কাঙ্গাল। জাত-বংশ নাহি মানি – অন্তরে-প্রকাশে, সদাই নিজেতে খুঁজি, না খুঁজি আকাশে।

      জবাব দিন
        • মুজিব (১৯৮৬-৯২)

          পারভেজ ভাই,
          আমি তো শুধু ঢিলটাকে আমার দিকে ঘুরিয়ে দিলাম, আহত যে হবোই এমন নিশ্চয়তা কই? শুরুতেই জানিয়েছি, আমি এক মামুলী প্রাকৃতজন। মনে আমার লালনের বাস, জিনেতে চেঙ্গিস! আমার স্ট্রাটেজি অদ্ভুত মনে হলেও কাজ কিন্তু দেয় ভালো ... 🙂


          গৌড় দেশে জন্ম মোর – নিখাঁদ বাঙ্গাল, তত্ত্ব আর অর্থশাস্ত্রের আজন্ম কাঙ্গাল। জাত-বংশ নাহি মানি – অন্তরে-প্রকাশে, সদাই নিজেতে খুঁজি, না খুঁজি আকাশে।

          জবাব দিন
  3. মোকাব্বির (৯৮-০৪)
    “পয়সা দিয়ে বেজাল কেন কাবেন?

    :khekz: :khekz: :khekz: :khekz:

    এটাকেই কি বলে "thinking out loud?" 😛

    সিম্পলি :pira: হাহাহাহাহাহাহা


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : মুজিব (১৯৮৬-৯২)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।