হারানো গল্পের ডায়েরি থেকে

আমার কেমন লেগেছিলো সেদিন তা আমিই কেবল বলতে পারবো।। আর কেউ হয়তো জানবেনা।।কতো ইচ্ছা ছিলো একসাথে জ্যোৎস্না দেখবো।।তোমায় পায়েল পড়িয়ে দেওয়ার খুব শখ ছিলো আমার।।কোনো ১টি বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে একসাথে ভিজতে চেয়েছিলাম।।খুব কি বেশি কিছু ছিলো?তোমার চোখের পানি আমি নিতে পারতাম না।।এখোনো পারিনা নিতে।আমি সেদিন যা ছিলাম আজ ও তাই আছি।।আমি আর জ্যোৎস্না দেখিনা।।দরজা বন্ধ করে কাদি।।বৃষ্টি হলেও টিনের ঘরটাতে যাইনা আর আজ।।আর অপেক্ষা করিনা,কোনো আশাও বাকি রাখিনি।।
কিন্তু কি জানো,তোমার জন্য রাখা জায়গাটা কাউকে দিতে পারিনি।।সেদিন তোমাকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলাম।।শুধু হাসিটাই দেখেছিলে তাইনা?পেছন ফিরে যে কেঁদেছিলাম তা দেখোনি তাইনা??জানি আমি ভীতু,বলতে পারিনি কতোটা ভালোবাসি তোমায়,তবে না বললেও তো ভালোবাসায় তো কোনোদিন কোনো কার্পণ্য করিনি।।তুমি বুঝতে।।আমি জানি।।তবে কি জানো,আগে যেমন ছিলো,এখোনো তাইই,তোমার সুখ টাই ভাল্লাগে নিজের খারাপ লাগাটার থেকে।।
আমার সামনে দিয়ে চলে যাওয়াটা আমি আজ ও ভুলতে পারিনি।।একটাবার যদি হাত টা ধরতে দেখতে,পুরোটা জীবন চলার পথে ১টা বারের জন্যেও ছাড়তাম না।।কিন্তু সে সুযোগ ই দিলে না।।তার আগেই চলে গেলে।।জানো আমি আজো জ্যোতস্না,ব্রিষ্টি,পথ হাটা ভালোবাসি।।ভালোবাসি অনিশ্চিত পথ চলা।।কিন্তু আর এসব করিনা।।কেননা ভালোবাসার ব্যাপারগুলোই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।।সেসবে যে মিশে আছো তুমি!!তোমায় ছাড়া আমি পারিনা,আমি পারবোনা।।
আচ্ছা পাগল গুলো আমাকে অন্য কাউকে খুঁজতে বলে।।বলো তা কি হয়?তুমি তো তুমিই।।আমি জানি জ্যোতস্না রাত গুলোতে ইকটু হলেও আমাকে মনে পড়ে তোমার।।কিন্তু বড্ড তাড়া ছিলো তোমার।।তাই কখনো বোঝার চেষ্টাও করোনি।।তোমার সেই গান আজ ও আমার প্রতিরাতের ঘুমের সাথী,ফোন এ রেকর্ড করা আছে।।সেই যে খোঁপায় গোজা ফুল টা!!মনে আছে তোমার??নাও থাকতে পারে।।তার প্রতিটি পাপড়ি আজ শুকিয়ে গেছে,যেমনটি তোমাতে আমি শুকনো।।তবে এই ডাইরিটার পাতাগুলোর ভাঁজে ভাঁজে আমি তাদের আজ ও জিইয়ে রেখেছি,যতোদিন বেচে আছি থাকবে।।
আমার অবসরগুলো কাটে এই ডাইরির সাথে আর স্বপ্নগুলো তোমার সাথে।।বটতলার সামনে দিয়ে প্রতিদিন হেটে গেলেও ওখানে আর বসিনা।।তুমিতো নেই।।তোমার আমার কমন প্রিয় গান গুলো ও গাইনা আর।।খুব গাইতে ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে।।হয়তো মনের অজান্তে ২-১ লাইন গেয়েও ফেলি।।যখনই দেখি পাশে থেকে কেউ মিষ্টি কন্ঠে আমার গানগুলোকে কেড়ে নিচ্ছেনা নিজের অজান্তেই চোখের নিচে রাখা হাতটাতে একটা উষ্ণ তরল অনুভূতি পাই।।নিজে থেকেই কণ্ঠ থেমে আসে।।অনেকে পারে,আমি পারিনি,আমি পারবোনা তোমায় ছাড়া।।
যেদিন তুমি চলে গেলে না,আমার অর্ধেক টা সেদিনই হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি।।আর খোজার চেষ্টাও করিনি।।জানো সেদিন সবাই যখন তোমাদের দুজনের ছবি তুলেছিলো আমি সেটা করিনি।।কেবল তোমার ছবি তুলেছিলাম।।আজ ও আছে আমার কাছে সবগুলো ছবি।।ক্যাম্পাসের সেই মামাটি আজ ও আগের মতোই হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে।।আমি খেতে পারিনা।।আমার তুমিময় সত্ত্বা বারবার তোমায় খোঁজে আর নে পেয়ে অজান্তেই হারিয়ে যায়।।সামান্য কিছু স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছি।।কি অদ্ভূত না!!
তোমার ছেলেমানুষিগুলো বড্ড বেশি মিস করি।।শীতকালে আইস্ক্রিম খাওয়ার অন্যায় আবদার,টিজ নামে ডাকা,লাঞ্চ না করেরাস্তায় হেঁটে বেড়ানো,ক্লাস ফাকি দিয়ে বটতলায় যাওয়া সব কটি মুহূর্ত পাগল করে দেয় আমাকে।।জানি তুমি অনেক সুখে আছো,অনেক অনেক ভালো আছো তুমি।।এটুকুই যথেষ্ট।।আর আমার চাওয়াটাকে যা আমি কোনোদিন বলতে পারিনি আর পারতাম ও না সেটাকে তুলে রেখেছি।।অবশ্যই চাইবো,তবে প্রথম মৃত্যুর পরে,সোজা সৃষ্টিকর্তার কাছে থেকে।।তবু পারবোনা আমি ছাড়তে তোমায়।।আমি পারবোনা।।আমি পারবোনা।।অনেক অনেক ভালো থেকো।।কখনো চোখের জল দেখে সামলাতে পারিনি আর পারবো ও না।।
ভালো থেকো,ভালো রেখো……।

২,৭৬৫ বার দেখা হয়েছে

২ টি মন্তব্য : “হারানো গল্পের ডায়েরি থেকে”

মওন্তব্য করুন : সিয়াম(২০০৭-২০১৩)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।