ঘটনাবলী-১

বিঃদ্রঃ নিচের প্রতিটি ঘটনার সকল চরিত্র বাস্তব এবং ঘটনা গুলো সত্য। এই ঐতিহাসিক ঘটনা গুলোর বর্ননা শুধু আমার। তাই ঘটনা গুলোর দায়িত্ব নিতে আমি অস্বীকৃতি জানাচ্ছি। শুধু বর্ননার হেরফেরের দায়িত্বটুকু আমার।

ছেলেপেলের কামকাজতো কিছু হয় না খালি অকাম কইরা বেড়ায়, কয়ডা অকামের কাহিনী কই,

১) আমার বাসায় কিছু পোলাপাইন আসছে। সবাই আমার ব্যাচের ক্যাডেট। তো আমাদের তানজিল যখন আমার বাসায় পৌছাইছে যে সময় আমার বাপ আমাদের বর্তমান কাম-কাজ ও আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে বিশদ জ্ঞান দিচ্ছিল। তো মাল ভেতরে ঢোকা মাত্র পরিস্থিতি বুঝে আম্মুকে বলল “আন্টি জায়নামাজ টা দিবেন? যোহরের নামাজটা এখনো পড়া হয় নাই।” আমরা অত্যাশ্চার্য হয়ে ওর দিকে তাকাইয়া আছি। ও নির্বিকার ভাবে ওজু করতে চলে গেল। বাপজান এমন চোখে আমাদের দিকে তাকাইল যে, এত ভাল একটা ছেলে আমাদের সাথে থাকতেও আমরা এত জালিম হইলাম কেমনে? ঘটনার পরে দীর্ঘদিন আজান হলেই আমাকে বাসায় তানজিলের উদাহরন শুনতে হইছে। আমার নামাজী বন্ধু।

২) মশিউর পরিচয় করাইয়া দিল ওর প্যারেন্টস এর সাথে। ওর প্যারেণ্টস এর সাথে কিছুক্ষন কথা বললাম। আংকেল অনেক কিছু জিজ্ঞেস করল, আমি ভাল ভাল উত্তর দিলাম। জায়গায় অজায়গায় কিছু বাড়াইয়াও বললাম। তো এক সময় মশিউরের বাপ মশিউরকে ডেকে বলল “নিজেতো নষ্ট হইছই,এখন এসব ভাল ছেলে গুলাকে নষ্ট কইর না।” আমি বুঝলাম কোথাও নিশ্চয়ই ভেজাল কইরা ফেলছি। আস্তে করে কেটে পড়লাম।

৩) রাজীব আর রেজওয়ান নীলখেত থেকে বাসে উঠছে। রেজওয়ান বাজী লাগছে যদি রাজীব বাসে ভাড়া না দিয়ে নামতে পারে তাইলে ওকে কোক খাওয়ানো হবে। তখন নীলক্ষেত থেকে কলাবাগানের ভাড়া ২টাকা। কন্ট্রাকটার ভাড়া চাওয়ার জন্য কাছে আসা মাত্র রাজীব বলল “অই মামা ৬টাকা ফেরত দাও। দুই জনের ১০ টাকার নোট দিলাম।” কন্ট্রাকটারের কাছ থেকে ৬ টাকা নিয়ে দুইজন নেমে আসল বাস থেকে। তারপর কোক কেনার সময় রাজীব ৬টাকা ইনভেস্ট করছিল।

৪) ১৭ ব্যাচের ইমরান ভাই, রেস্টুরেন্টে ঢুকছে। বেসিনে এক মধ্য বয়স্ক লোক হাত ধুচ্ছে, মুখ ধুচ্ছে, চুলে পানি দিচ্ছে। বেশ কিছুক্ষন দাড়াইয়া থাকার পর ইমরান ভাই আর পারলো না। উনাকে বলল “আংকেল একটা তাওয়েল এনে দেই গোসলটা সেরেই ফেলেন।” লোকটা বড়ই আহত চোখে তাইকায়া সরে গেল বেসিন থেকে।

৫) ১৭ ব্যাচের ফেরদৌস ভাই। বাসে অফিস থেকে ফিরতেছে। পাশে একটা টি-শার্ট পরা মেয়ে। বিজয়সরনী থেকে উস্খুস করতেছে। ফেরদৌস ভাই জিজ্ঞেস করল,

“আপনি নামবেন?”

মেয়েটাঃ হ্যাঁ, আসাদগেট আড়ং-এ নামব।
ফেরদৌস ভাইঃ ও, তাইলে দেরী আছে।
মেয়েটা ফোনে কথা বলতেছে। আবার খামারবাড়ি পৌছাইতেই উস্খুস।
ফেরদৌস ভাইঃ আপনি কি এই রাস্তায় নতুন?
মেয়েটাঃ ছিঃ, নিজে যেমন সে সবাইকে তেমনই ভাবে।
ফেরদৌস ভাইঃ আমি জানতে চাইছিলাম তুমি(সচেতন ভাবে আপনি থেকে তুমিতে নেমে) উত্তরা-নিউমার্কেটের এই রাস্তায় নতুন আসতেছ কিনা। তবে এখন বুঝতেছি তুমি দুই লাইনেই নতুন। এই রুটেও আর যে কাজে যাচ্ছ তাতেও।

মেয়েটা গাধার মত তাকাইয়া বাস থেকে নেমে গেল।

৬) ১৪ ব্যাচের সাঈদ ভাই আর রাব্বানি ভাই(এই নামটা ভুল হতে পারে,অনেক দিন আগে সাঈদ ভাইয়ের মুখে শুনছিলাম ঘটনাটা।) রাতে বের হইছে সিগারেট খাইতে। হঠাত এক কনস্টেবল দেইখা রাব্বানি ভাই আগাইয়া গিয়া জিজ্ঞেস করছে “ভাই একটা কথা আপনার বন্দুকে কি গুলি আছে?” কনস্টেবল “কেন?” রাব্বানি ভাই ” না, যদি না থাকে তাইলে একটু ফাইজলামী করতাম আপনার সাথে।” বইলাই দৌড়।
[“Don’t try this at home.” পুলিশের বন্দুকে গুলি না থাকতে পারে, বন্দুকের বাঁট টা কিন্তু কাঠের। তাই দৌড়াইয়া ঠিক মত পালাইতে না পারলে কিন্তু আমার দোষ নাই।]

৭) কলেজ থেকে বের হওয়ার আগে আগে আমাদের কামরুল গেছে তসলিম স্যারের(পৌরনিতী ডিপার্টমেন্ট) কাছে। “স্যার আমি অনেক ভুল করছি। মাফ কইরা দিয়েন। আমিতো আপনার ছেলের মতই।” স্যার অনেক্ষন তাকাইয়া থাকার পর কামরুল কে বললেন “না, না, তুমি এটা কি বললা? তোমার মত ছেলে আমার দরকার নাই।” কামরুল চলে আসল স্যারের সামনে থেকে।

৮) বাসের সুপারভাইজারের থুতনিতে একটু ছাগলা দাড়ি। রাজীব ডাক দিল অই “সুপারভাইজার কেহেরমান” এদিকে আস। সুপারভাইজার তেড়ে আসল।  “কে বলল এটা?” আমরা আট জন উঠে দাড়ালাম এক সাথে। সুপারভাইজার বলল “বলেন কি হইছে? ডাকলেন কেন?”

২,০৭৮ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “ঘটনাবলী-১”

মওন্তব্য করুন : মোর্শেদ (৯৮-০৪প.ক.ক)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।