সিসিবি’টা গল্প: টোকা।

(মজার জন্য লেখা। ফাজলামি করে লেখা। কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না আশা করি।)
এক:

চিত্রনায়িকা কুয়েলিকা তার ছিপছিপে দেহে হাসির ঝলক তুলতে তুলতে বলে, “যাহ, কামরুল ভাই!”

পরিচালক কামরুল হাসান জর্দা দেয়া পান মুখে পুরে দিয়ে বিড়ি ধরান। আয়েশ করে একটা টান দিয়ে বলেন, “আরে চিন্তার কিছু নাই। ছেলে আমার ছোট ভাইয়ের মত। ভেরি গুড বয়। এইএইসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে।”

কুয়েলিকার মুখ লজ্জায় লাল হয়। ঠোঁটে মাখানো লিপস্টিকের প্রায় সমতলে এসে পৌঁছে, “ওকে কামরুল ভাই। আপনি যখন বলছেন! তো আমাকে কী করতে হবে?”

“তোমাকে কিচ্ছু করতে হবে না। তুমি চেয়ারে বসে থাকবা। ও তোমাকে শুধু একটু ছুঁয়ে দেখবে। জাস্ট এ লিটল টাচ।” কামরুল হাসান বিড়িতে জোরেশোরে একটা টান দিয়ে তার চেয়েও জোরেশোরে একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করেন, ” বুঝলা না? ছোটভাইরা এসে একেকটা আবদার করে, না করতে পারি না। আফটার অল, আমাকে তো বাংলা ছবির হাতেম তাই বলতে পারো। এই তো সেদিন, মুহাম্মদ আইসা বলে- কামরুল ভাই- একটা চিত্রনাট্য লিখছি। সায়েন্স ফিকশান। আপনি না করতে পারবেন না। আপনার বানানোই লাগবে। কী আর করি? কোনমতে বানাইয়া দিলাম। দেখস তো বোধহয়। ছবির নাম, “মহাকাশে লাভলু ভাই।” আরেকদিন রায়হান আবীর নামে এক ছোট ভাই এসে ধরলো- কামরুল ভাই, আমি অভিনয় করতে চাই, আপনার সিনেমাতে আমারে পার্ট দেয়া লাগবে। আমি বললাম, ওকে, তুই নায়কের বাপের ড্রাইভারের পার্ট করিস। পোলায় মুখটা অন্ধকার করে ফেলল। বললাম, কী পার্ট চাস তাইলে? সে বলে, নায়ক হইতে মন চায় গো কামরুল ভাই! বোঝ অবস্থা? আরে ব্যাটা তোর যা সাইজ, তোর মতন পাঁচটা রায়হান আবীর মিলে কী একটা নায়িকারে কোলে তুইলা নাচতে পারবে?”

“তার মানে?” কুয়েলিকার মুখের বাত্তি নিভে যায়।

“আরে না না। তোমার কথা বলছি না। তোমার ফিগার দেখলে তো স্বয়ং মনিকা বেলুচ্চিরও লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাবে।”

এ কথায় কুয়েলিকার মুখের বাত্তি পুনরায় জ্বলে ওঠে। কামরুল হাসান বলেন, ” হলিউডে আমার যে মুভিটা বানাবো, তাতে নায়িকা কে হবে জানো? নো এঞ্জেলিনা জোলি, নো সালমা হায়েক।” হাতের বিড়িতে শেষ টান দিয়ে, সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে, পরিচালক কামরুল হাসান, বাংলা ছবির ডাকসাইটে পরিচালক কামরুল হাসান চিত্রনায়িকা কুয়েলিকার দিকে আংগুল নির্দেশ করেন, “ইউ। কুয়েলিকা। ইউ!”

দুই:

“শোন্। জাস্ট একটু টাচ করে সোজা চলে আসবি। নো লটর পটর। নইলে কিন্তু আমার মান ইজ্জত সব শেষ হয়ে যাবে। ” বেনসনের প্যাকেট বের করে কামরুল ভাই আমার দিকে একটা সিগারেট বাড়িয়ে দ্যান। ” নে, বিড়ি খা। ঘটনার আগে বিড়ি খাইলে সাহস বাড়ে।”

আমি মিন মিন করে বলি, “ধইন্যবাদ, কামরুল ভাই।”

“কুয়েলিকা ড্রয়িংরুমে বসে আছে। চল্। ও ভালো কথা, কোথায় ছুঁয়ে দেখবি ঠিক করছস?”

আমি মাথা নীচু করি, “এসব কথা বড় ভাইয়ের সামনে বলতে লইজ্জা লাগে!”

কামরুল ভাই রীতিমত বজ্রহুংকার করেন, “আস্তাগফিরুল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ। তার মানে? তোর মনে এই ছিলো? শোন একটু উল্টা পাল্টা করবি, পান্থপথ টু এফডিসি ফ্রণ্টরোল চলতে থাকবে। বুঝছস?”

আমি এবার ভয় পেয়ে যাই, “ঠিকাছে কামরুল ভাই। কুয়েলিকার গালে একটা টোকা দিয়ে দৌড় দিব।”

‘গুড বয়। ভেরি গুড বয়। দৌড় দেয়ার দরকার নাই। হাঁইটা হাইঁটা আসিস।” কামরুল ভাই কমান্ডের ভংগিতে বলেন, “ওকে, লেট্স গো।”

তিন:

কুয়েলিকা ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে। সামনে মেকআপ বক্স। এখন তো ছবির শ্যুটিং নেই। মেকআপ বক্স নিয়ে কি করে কে জানে?

আমাদের দেখে কুয়েলিকা মুখ তুলে চায়, “হাই!”

কামরুল ভাই হাসেন, “এই হইলো ছোট ভাই। খুব ভালো ছেলে।” এরপর আমার দিকে তাকান, “যা।”

আমি গুটিগুটি পায়ে কুয়েলিকা পানে এগোতে থাকি। বুকের ভেতর দড়াম দড়াম শব্দ হয়। কুয়েলিকা হাসে। যার মানে হলো- ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একটু ছুঁয়ে দেখাই তো।

কুয়েলিকার খুব কাছে আসি।

কুয়েলিকার মুখে যেন সুন্দরবনের মধু আছে, “আরে,এত লজ্জা পাচ্ছো কেন? এই যা! তোমাকে তুমি করে বলে ফেললাম। কিছু মনে করোনি তো!”

আমিও মুখে হাসি আনবার চেষ্টা করি, “না না। ঠিকাছে। তুমি করেই তো বলবা। এই যা! তোমাকেও তুমি করে বলে ফেললাম। ”

ছোট্ট কথোপকথনে বুকে বল পাই। বিসমিল্লাহ বলে কুয়েলিকার মুখমণ্ডলে টোকা দিতে যাবো এমন সময় দুপদাপ শব্দে ড্রয়িং রুমের দরজা প্রায় ভেংগে পড়ে। তাকিয়ে দেখি, সবাই এসে হাজির হয়েছে। সিসিবির সব পোলাপাইন লাইন ধরে দাঁড়িয়ে। মাসরুফ ভাই আর তুহিন প্রায় যৌথ কণ্ঠ বলে ওঠে, “আমরা কী দোষ করছি। আমরাও কুয়েলিকা ম্যাডামের গালে একটা টোকা দিতে চাই।”

ঠিক এমন সময়। ভোজবাজির মত দিহান ভাবী এসে হাজির হন। সবার সামনে। সব দাঁত বের করে বলেন, “আমি কিন্ত লাইনে ফাশট”

৯,১৪৩ বার দেখা হয়েছে

১০৭ টি মন্তব্য : “সিসিবি’টা গল্প: টোকা।”

  1. রাশেদ (৯৯-০৫)

    মুহিব কি লিখলি এইটা :)) দারুণ মজা পাইলাম 🙂

    ঠিক এমন সময়। ভোজবাজির মত দিহান ভাবী এসে হাজির হন। সবার সামনে। সব দাঁত বের করে বলেন, “আমি কিন্ত লাইনে ফাশট”

    এইটা জব্বর হইছে 😀


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  2. দিহান আহসান
    ভোজবাজির মত দিহান ভাবী এসে হাজির হন। সবার সামনে। সব দাঁত বের করে বলেন, “আমি কিন্ত লাইনে ফাশট”

    :khekz: :khekz: :khekz:

    মুহিব ভাই কি পরের পর্ব নামানোর চিন্তা করছো নাকি? :-B

    জবাব দিন
  3. রবিন (৯৪-০০/ককক)

    ওরে কি লিখলি এইটা। :)) :)) অনেকদিন পর মিরা যাওয়ার দশা। এমন টাইমে সানা ভাই মহাকাশে। কামস। ব্যাচমেট হিসাবে আমাদের তো একটু টোকা ছাড়া এক্সট্রা দাবী আছে, না কি? 😉

    জবাব দিন
  4. তানভীর (৯৪-০০)

    হাহাহাহা......হাসতে হাসতে পিরা গিয়া মিরা যাবার দশা......... :goragori: :goragori:

    আমাদের ডিরেক্টর সাহেব কই? উনারে তো দেখা যাইতেছে না!

    লাবলু ভাইকে মহাকাশে পাঠায়ে দেয়া কি ঠিক হইল মুহিব? আরেকটু চিন্তা-ভাবনা কইরা দেখ!

    দারুণ হইছে! একদম কোপানি...... :duel: :duel:

    জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    কামরুল, জলদি আমারে দেশে ফিরাইয়া আনো। আইজ মুহিবের একদিন কি তোমার একদিন!! x-(

    অফটপিক : মহাকাশে আমার লগেও একজন আছে! দুনিয়াত না ফিরলেও ক্ষতি নাই!! নায়িকার নাম কমু না। :shy:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  6. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    :khekz: :khekz:

    সেইরকম।
    হাসতে হাসতে সত্যি সত্যি গড়াগড়ি দিলাম। =))
    লাস্টে লাইনে আইসা পুরা মারা যাবার দশা হইছে! :grr:

    মহিব হারামি , আমারে দিয়া পান না খাওয়াইলেও পারতি, আমি পান খাইনা। (অবশ্য দাওয়াতে গেলে হেভি খানাপিনার পর একটা মিষ্টি পান খাই মাঝে মাঝে)। 😀

    কুয়েলিকা'র সাথে তো তোর একটা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেই হয়। খবর নিলাম, ও আমাদের মামুন ভাইয়ের 'প্রভাতী সবুজ সঙ্ঘে'র শ্যুটিং করছে নরসিংদী, শ্যুটিং দেখতে যাবার ব্যবস্থা করতে পারি, কিন্তু ওইখানে টোকাটুকি করা যাবে না। :grr:


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  7. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    এ্যাই পোলাপাইন,
    এইদিকে আমি কিন্তু গ্রীনরুমে বসা।
    আইজকা আমিই কুয়েলিকার মেক-আপ ম্যান। 😀 .
    তাতারি টোকাটুকি সারো। আমার দেরী হয়া যাইতেসে। 😉

    জবাব দিন
  8. বন্য (৯৯-০৫)

    চ্রম চ্রম.... :goragori: :goragori: :goragori: :goragori:

    অফটপিক: এইবারের সুপার হিরো সুপার হিরোইন না কি একটা অনুষ্ঠানের টপটেনে নাকি শম্পা নামে এমজিসিসির একজন আসে??জানেননি কেউ???

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : হাসান (১৯৯৬-২০০২)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।