বৃষ্টিভেজা আবেগ

বৃষ্টিতে ভেজায় আমার কখনোই রোমান্টিকতার কোন আবেগ ছিল না। কিংবা আনমনে বৃষ্টি দেখতে দেখতে উদাস হয়ে যাওয়ার সুযোগও খুব কম পেয়েছি। যা পেয়েছি তা হল স্টাফের বাশির আওয়াজ। বৃষ্টিভেজা কোন একদিনে একটা ফুটবল নিয়ে পনের বিশ জন কাদা মাখামাখি করতে করতে স্টাফের বাশির আওয়াজ নয়ত সদ্য নামা মুষল ধারে বৃষ্টিতে ভিজতে নামা মাত্রই ওই দূর থেকে নোট খাতা হাতে সাইকেল নিয়ে তেড়ে আসা স্টাফের হুংকার। হয়ত ওই নোট খাতা ভিজে যায়। কিন্তু নাম গুলো আর মোছে না।পরেরদিন ইডি লিস্টে ঠিকই সেগুলো জ্বল জ্বল করে। এমন সুন্দর মুহূর্তে দুই একটা কবিতার লাইন যে মাথায় আসত না তা নয়। তবে তা মুহূর্তেই উবে যেত দূরে কোন। গাছ থেকে আম পরার শব্দে । মাথা তখন কবিতা বাদে ওই আম গুলো সংগ্রহের কাটো কষায় ব্যস্ত। সব সময় যে বৃষ্টি ভাল লাগত তা নয়। জীবনের সবচেয়ে মধুর বৃষ্টি ছিল পিটি টাইমের বৃষ্টি। সেটা যদি ঘুম থেকে ওঠার আগ থেকেই চলতে থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। আবার এমনও হয়েছে।। ঘুম থেকে উঠে দেখি বৃষ্টি, পিটি হবে না ভেবে কোন রকমে প্যান্ট আর শার্ট টা গায়ে চড়িয়ে দাত না মেজেই কভার পাথে দাঁড়ালাম মার্চ আপের অপেক্ষায়। অত:পর মার্চ আপ হতে হতেই বৃষ্টিও নাই। নেমে যাও পিটি গ্রাউন্ডে।। ব্যাপার টা আরো মর্মান্তিক হত যখন পুরো আফটারনুন প্রেপ ধরে ফুটবলের ছক কষে অত:পর গেমস টাইম টা জলে ভেসে যেত।মুখ দিয়ে বেরোত শুধুই অভিশাপ। এত কিছুর মাঝে রোমান্টিক হওয়ার সুযোগ কই? একাদশ শ্রেণীতে তখন। সন্ধ্যার দিকে এতটাই বৃষ্টি হল যে প্রেপে যাওয়া সম্ভব হল না।কারেন্ট নাই। জেনারেটর নস্ট। ডিঊটি টিচার কেউ আসতে পেরেছে, কেউ পারেনি।। ছন্নছাড়া অবস্থা। কয়েকজন রুমে আড্ডায় মেতে উঠলাম। বৃষ্টি থামলে আবিষ্কার করলাম আমরা ক জনই মনে হয় হাউসে আছি। একটু খোজ নিতেই দেখি সবাই আমপাড়ায় ব্যস্ত। পাড়া না ঠিক।।কুড়োনোয় ব্যস্ত।টিচার রা টর্চ জ্বালিয়ে ক্যাডেট খোজে। আর ক্যাডেট খোজে আম।। ডিনার থেকে ডাইনিং হলের সব লবনদানি একে একে গায়েব হতে শুরু করল। সেবার এত কাচা আম খেয়েছিলাম যে মুখ সব সময় টক হয়ে থাকত।এত কিছুর মাঝে রোমান্টিক হওয়ার সুযোগ কই? তবুও জোর করেই না হয় ডায়েরী নিয়ে বসলাম একটা কবিতা লিখতে। ঝুম ঝুম বৃষ্টিতে রুমমেটের ঘুম দেখে তখন আর ঠিক থাকা যায় না। রোমান্টিকতা বিদায় নাও। এটা ঘুমানোর সময়।
জানি অনেক বাধাধরা ছিল। তবুও কেন জানি মনে হয়-

মনের ইচ্ছায় করতাম সবই
হিমালয়,প্রশান্ত যেন কিছুই নয়
আজি এ বর্ষণক্ষণে
আমার এ হৃদয় আবার
ফিরে যেতে চায়।।

১,৯৫০ বার দেখা হয়েছে

১২ টি মন্তব্য : “বৃষ্টিভেজা আবেগ”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    সেই একই পটভূমি, গল্প, গল্পের উপকরণ- খালি চরিত্রগুলো আলাদা!!
    সত্যিই তো ''এত কিছুর মাঝে রোমান্টিক হওয়ার সুযোগ কই?'' 😛

    ভাল লাগল! :clap:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    সব নাটক যেনো সেই একই মঞ্চে ।
    শুধু চরিত্রগুলোর নাম বদলে যায়, সময় বদলে যায়।
    আর হয়তো সময় বা স্থান ভেদে গুটিকয় টার্ম/জারগন পালটায় ।
    আমরা যেমন বলতাম ওস্তাদ । হাউজের ওস্তাদ, কলেজের ওস্তাদ ।
    অন্য কলেজে শুনি স্টাফ ।

    ভালো লাগলো । মনে ভেসে এলো অমন কতো বর্ষা দিনের স্মৃতি ।
    আর আমাদের আবার বৃষ্টি বেশী বেকায়দা রকম না হলে হাইউসের বারান্দায় পিটি হতো অমন দিনে ।

    জবাব দিন
  3. সাইদুল (৭৬-৮২)

    ইশরাক, পাবনা ক্যাডেট কলেজের এই জায়গা গুলি আমারও খুব চেনা।
    একটা ঘটনার কথা বলি, তোমাদের কলেজে বেশ কিছু খেজুর গাছ ছিলো (এখন আছে কীনা জানিনা), শীতকালে গাছ গুলি লিজ দেওয়া হয়েছে এক গুড় ব্যবসায়ীর কাছে। তিনি অভিযোগ করলেন রসের হাঁড়ি গায়েব হয়ে যাচ্ছে তার পোষাচ্ছে না। তিনি রসের নলকায় ( যেখান দিয়ে রস হাঁড়িতে জমা হয়) ওষুধ মেহাবেন। অনেক শিক্ষক মত দিলেন তাঁর প্রস্তাবে। প্রিন্সিপ্যাল বেঁকে বসলেন। না, ওষুধ দেওয়া যাবে না।

    আমি অবাক। তাঁর অফিসে একটা কাজে গিয়েছিলাম, বললেন রসে ওষুধ মেশাতে মানা করেছি কেন জানেন? বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাবে। রসের হাঁড়ি কোথায় যায় আমি জানিনা ভেবেছেন? আমরা পরে দেখবো রসয়ালাকে কী ভাবে পুষিয়ে দেয়া যায়।

    অধ্যক্ষের নাম আবুল আশরাফ নূর, আমার দেখা সেরা অধ্যক্ষদের একজন।

    নিজের কথা বলতে গিয়ে লেখার কথা বলা হয়নি। খুব ভালো হয়েছে


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    খুব পরিচিত এই গল্পগুলো কখনোই পুরোনো হয় না, পুরোনো লাগে না।

    বেশ হয়েছে লেখা :thumbup:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  5. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    ভালো লেগেছে।
    "টিচার রা টর্চ জ্বালিয়ে ক্যাডেট খোজে। আর ক্যাডেট খোজে আম।" - বাহ, চমৎকার বলেছো।
    এমসিসিতে একবার মধ্য জুলাইয়ে প্রবল বর্ষণ হলো। আমাদের ফুটবল মাঠে কখনোই পানি আটকাতোনা। সেই মাঠেই মধ্য হাঁটু পানি। হঠাৎ খেয়াল করলাম, কোথা থেকে আসা যেন এক সাদা ধবধবে বক এক পায়ে দাঁঁড়িয়ে। একদিনের বৃষ্টির পানিতে তো আর মাছ আসার কথা ছিলনা। হয়তো পানিতে ডুবে যাওয়া ঘরবাড়ী থেকে বেড়িয়ে আসা পোকা মাকড়ের প্রতিই তার লক্ষ্য ছিলো।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : মাহবুব (৭৮-৮৪)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।