“সরি বলার মতো কোন কাজ করিনাই”

ক্লাস সেভেন এ সবাই মনেহয় কিছুটা অস্বাভাবিক থাকে! কেউ কথাবার্তায়, কেউ চলাফেরায়, কেউ ব্যবহারে, কেউ বা সবকিছুতেই! আমাদের ব্যাচ এর কথা তো বলাই বাহুল্য! কিসব যে ভয়ংকর ঘটনা ঘটতো, বলার মতো না! আমি নিজেই ভেবে অবাক হই, আমি সেভেনে রীতিমতো একটা গুন্ডা ছিলাম! সবাইকে মারামারির উপরে রাখতাম! একবার কাকে যেন একটা স্টিলের স্কেল ছুঁড়ে মেরেছিলাম, আরেকবার আঠার বোতলের মুখ খুলে কারো চুলে টার্গেট করে মেরেছিলাম!!! বেচারা তার চুল!!!
কথা সেখানে না, আমি একবার সত্যি সত্যি বিপদে পড়েছিলাম এইসব কাজ করতে গিয়ে, সেই কাহিনি আজ বলি।ডলি বরাবরই সেভেন থেকে একটু আজব(সবাই হয়), কেমন জানি, গম্ভির, বড় বড় একতা ভাব তার মধ্যে। একবার সে আমার কাছ থেকে অক্সফোর্ড ডিকশনারি নিয়েছিল কোন কাজে। আর ফেরত দেয়নাই, আমার ও দরকার হয়নাই, তাই ভুলেই গেছিলাম ওটা কোথায় আছে।

একদিন ফর্ম ক্লাসেই সেটা আমার ভয়ংকর প্রয়োজন, কেন তা এখন মনে নেই। আমি অনেক চিন্তাভাবনা ও আশেপাশের কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করে মনে করতে সক্ষম হলাম যে সেটা ডলির কাছে। ওর কাছে গিয়ে চাইলাম, আশ্চর্য! সে শান্ত গলায় আমাকে জানালো যে আমার ডিকশনারি তার কাছে নাই! আমি তো আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা! সে কনফিডেন্টলি বলছে যে তার কাছে নাই এবং খোঁজার কোন উদ্যোগ ও নিচ্ছেনা!ডলি মনেহয় আমাকে নিতান্তই অপছন্দ করতো, ওর কনফিডেন্স দেখে আমি বোকা বনে গেলাম!

পুর ক্লাস আওয়ার আমি সবার মাথা খারাপ করে ফেলেছি, সবার ডেস্খে খুঁজে, সবার কানের কাছে চিল্লাচিল্লি করে আমি যখন ক্লান্ত, তখন ডিকশনারি টা খুঁজে পাওয়া গেল পেছনের ভিজিটর’স ডেস্কে!

এবার আমাকে পায় কে? খুব বীরদর্পে হেঁটে গেলাম, গিয়ে দু’চারটা বকাঝকা করলাম তাকে! তারপর বললাম, সরি বলো! দু তিনবার বলার পর ও কাজ না হওয়ায় আমি একেবারে তার ঘাড় ধরে বললাম, সরি বলো!!!
সে অতি ঠান্ডাভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, “আমি সরি বলার মতো কোন কাজ করিনাই।”

শুনে আমার স্বাভাবিকভাবেই রাগে ফেটে পড়ার কথা, কিন্তু আমি তার ব্যবহারে এতই ভয় পেলাম, যে চুপচাপ এসে বসে পড়লাম!

ডলি আমার রুমমেট, ডর্মমেট গত দু’বছর। সামনের বছর ও থাকবে ইনশাল্লাহ।আজ পর্যন্ত আমাদের এই কাহিনী খুব আয়োজন করে বলা শোনা ও উপভোগ করা হয়!
বলাই বাহুল্য, ডলি আমাকে দেখতে পারেনা কথাটা সত্যি না! সবটাই বয়সের (সেভেন) এর দোষ! সে এখনো নিত্যনতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করায় এই ঘটনার পেছনে!!!

০৭/০৩/২০১০

১,৯৭২ বার দেখা হয়েছে

২৩ টি মন্তব্য : ““সরি বলার মতো কোন কাজ করিনাই””

  1. শরিফ (০৩-০৯)

    যতদূর মনে পরে ক্লাস ৮ এ একবার ইসলাম শিক্ষার একটা গাইড হারিয়েছিলাম ।
    সেই গাইড টা পাই ক্লাস ১০ এ এক বন্ধুর কাছে তার রুম ভিজিট করতে গিয়ে। রীতিমত মেজাজ খারাপ হয়েছিলো ।আমি ছিলাম সিরাজী হাউসে আর ও ছিল তিতুমীর হাউসে ।মজার ব্যাপার হল ওই বন্ধুটি আমার অনেক কাছের বন্ধু । সাময়িক ভাবে বন্ধুর উপর মেজাজ খারাপ হইলেও পরে এটা আপনাআপনি ঠিক হয়ে যায় যদি বন্ধু বড় কোন ক্ষতি না করে ।

    লেখা ভাল হইছে :thumbup: (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ক্লাস সেভেন বিশেষ করে প্রথম দিকটা সবাই আসলেই একটু আজব ধরনের থাকে, মানে পাঙ্গা পালিশ খেয়ে সব এক লাইনে আসার আগ পর্যন্ত 😛

    লেখা ভাল হয়েছে আপু, তবে কিছু বানান/টাইপিং ভুল রয়ে গেছে, শুধরে দিও। লেখা পোস্ট করার আগে একবার প্রিভিউ দেখে নিও, তাহলে দেখবে নিজের চোখেই পড়ছে ওগুলো, ঠিক করে নিতে পারবে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. সন্ধি (১৯৯৯-২০০৫)

    ক্লাস সেভেনটা আসলেই অদ্ভূত সময়। আর কলেজে বই, নোট খাতা হারানো খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। পুরো টার্ম খুঁজে না পেলেও পরীক্ষার পর দেখতাম পিছনের কাবার্ডের উপর তাহারা অবসরযাপন করছেন। 🙁

    জবাব দিন
  4. তপু (৯৯-০৫/ককক)

    পরিখখার আগে গাইড বা দরকারি বই পেতাম না ঠিক এ কিন্তু পরিখখার শেশে কথা থেকে ওরা জেন পেছনের লকারে এশে বসে থাক্ত। আজ অব্ধি আশচরজ্জ হই।

    ভাল হইসে ।মজা পেলাম ।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : tameema

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।