বন্ড

যেহেতু এটা আমার প্রথম লিখা তাই লিখার আগে একটু কথা বলে নেই। এক সিনিয়র ভাইয়ার কাছ থেকে এটার খবর পেয়ে এসে পরীক্ষার মাঝে এসেও ৩ ঘন্টা লাগিয়ে দিলাম পুরান ব্লগ গুলো পড়তে। সত্যি কথা এদের কে বলতে ইচ্ছা করছিল গেমস এর পর ক্যান্টিন এ আসিস একটা কোক খাইয়ে দিব। (ক্যাডেট মাত্রই জানার কথা গেমস এর ১ ঘন্টা কাটিয়ে ক্যান্টিন এর বরফ হয়ে যাওয়ার একটু আগের কোক কি জিনিস) । এরপর দিন থেকেই মাথার মধ্যে ঘুরছে কি লিখি। প্রতিদিনই বিষয় পরিবর্তন হয়ে যায়। কোনটা ছেড়ে যে কোনটা লিখি। শেষ পর্যন্ত যেটা লিখছি ওটা ঠিক ক্যাডেট দের ঘটনা না।গোলাম কিবরিয়া মল্লিক (কুমিল্লা আর সিলেট চেনার কথা)। আমাকে খুবই পছন্দ করত কিন্তু উনি যদি জানত আমার প্রথম লিখা টা ওনাকেই পঁচাবে! ক্যাডেট দের একটা জিনিস সাধারণত সবার ই পরিচিত। বন্ড। না জেমস বন্ড এর কথা বলছি না। কোন একটা অপরাধ করার পর সেটার স্বীকারোক্তি করে যে সাদা কাগজে একটা লিখা লিখতে হত যার শেষে থাকত আমি আর কোনদিন এই কাজ করবনা। আমার কপাল কিভাবে যেন ভাল কখন ও লিখতে হয়নি। কিন্তু মোটামোটি সব ক্যাডেট কেই কখনো না কখনো এইটা লিখতে হয়েছে। এরপর শুরু হত সেটা নিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং। সিনিয়র এর হাতে একটা বন্ড থাকা মানে তো ঐ জুনিয়র ওর হাতের কব্জায়। স্যাররাও এই ক্ষেত্রে পিছ পা হতনা। একটা বন্ড নিয়ে ওই ক্যাডেট কে সবসময় প্রিন্সিপ্যালের হাতে দিয়ে দিবে এই ভয় দেখাত। যাই হোক আমার বন্ড কাহিনি হল গক স্যার কে নিয়ে( গোলাম কিবরিয়া স্যার কে আমরা গক ডাকতাম)। তিনি নিশ্চয়ই তার শিক্ষক জীবনে অনেকের বন্ড নিয়েছেন। ঘটনা টা যখন তাকেই বন্ড লিখতে হল।

আমাদের এক ক্যাডেট আর্মিতে। তখন মিরপুরে আছে ও। গক স্যার মিরপুরে বাড়ি বানিয়ে অবসর নিয়ে সুখেই আছেন। কি কারণে যেন তখন ওনাদের ওদিকে আর্মিদের সাথে পাড়ার লোকদের ঝামেলা হয়ে গেল। আর্মির তত্ত্বাবধানে ওদিকে তখন ওয়াসার কাজ চলছিল। তো আর্মির যা কাজ , পাড়ার সবাইকে ডেকে পাঠাইছে ঝাড়ি দেওয়ার জন্য। সবাই গিয়ে গক এর কাছে গিয়েছে স্যার আপনি চলেন আপনার সাথে তো আর্মি নিশ্চয়ই ভালো ব্যবহার করবে।

ওই খানে সিও ছিল আমাদের ওই ক্যাডেট। সবাই এসে ওর রুমের বাইরে বসে আছে। আর্মিদের যে ভাব থাকে সেটাই ও দেখাল। ঘন্টার পর ঘন্টা সবাইকে বসিয়ে রেখেছে। গক গিয়ে একবার স্টাফ কে বলল আমি ক্যাডেট কলেজের টিচার ছিলাম। স্টাফের উত্তর স্যার টার কাউকে মানা হবে না বসে থাকেন স্যারের যখন সময় হবে তখন কথা বলবে। এরপর স্যারের সময় হয়েছে , স্টাফ কে ডেকে বলল সবাইকে বন্ড লিখতে বল। বন্ড লিখে আমার কাছে নিয়ে আস। আহারে এমন ভাগ্য ওই ক্যাডেট হাউস প্রিফেক্ট ছিল যখন গক আমাদের ভিপি ছিল। বেচারার তখন এই অভিজ্ঞতা হয়ে গেল বন্ড লিখতে কেমন লাগে।

এরপর যখন ওই ক্যাডেট এর কাছে সব বন্ড গেল ও পড়ে দেখে তার মধ্যে গক এর নাম। উনি আবার বুদ্ধি করে নিজের পুরান পরিচয় দিয়ে দিয়েছে ওটার মধ্যে । ও তারপর তাড়াতাড়ি করে স্যার কে ভিতরে ডেকে এনে বসাইছে। ততক্ষণে স্যার দীর্ঘ ৩ -৪ ঘন্টা বসে আছেন। বেচারা । যদিও পাড়ার লোকদের অভিসন্ধি কাজে লেগেছে। স্যারের জন্য সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

একটা ঘটনা লিখতে গেলে অনেক কিছু মনে পড়ে যায়। যেমন এখন আরো কত কিছু মনে পড়ছে। আমি অবশ্য মজা করে বলতে পারিনা। এই ভয়ে কলেজে কখনো রস করতে চাইতাম না। তাও কিভাবে যেন আমি একজন ফ্লপার হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলাম।

১৮ টি মন্তব্য : “বন্ড”

  1. ভাইয়া আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে আপনার লেখা তিনটে আমার চোখে পড়েনি। 🙁
    আসলে আমি কুয়াকাটা গিয়েছিলাম...ফিরলাম আজ।তারপর এত দৌড়াদৌড়ির মধ্যে আর চেক করা হয়ে ওঠেনি কেউ নতুন কিছু জমা দিল কিনা।

    এখন থেকে আপনি পোস্ট করার সাথে সাথেই সেটা ব্লগে প্রদর্শিত হবে।
    দয়া করে নিচের ব্যাপারগুলো একটু মনে রাখার চেষ্টা করবেনঃ
    ১।ব্লগের জন্য লিখা নোট প্যাড অথবা ওয়ার্ড প্রেস এডিটর এ লিখবেন।এম এস ওয়ার্ডে লিখলে অনাকাংখিত প্রচুর ট্যাগ যুক্ত হয়।
    ২। এডিটর প্যানেল এর Code অপশন এ ক্লিক করে লেখার শুরুতে font size=4 এবং একেবারে শেষে /font এই কোড দুটো যোগ করবেন।কোড দুটো অবশ্যই less than এবং greater thanসাইন এর ভিতরে আবদ্ধ করে লিখবেন।এই দুটো সাইন এর মধ্যে যাই লেখা হয় তাই কোড হিসেবে বিবেচিত হয় বলে আমি হুবহু লিখে দিতে পারলাম না।
    ৩।লেখার যে অংশটুকু ফ্রন্ট পেজে দৃশ্যমান করতে চান তার শেষে মাউস কার্সর এনে এডিটিং প্যানেল এর more অপশন এ ক্লিক করুন।
    ৪। উপরের কাজ গুলো করা হয়ে গেলে publish করুন।ব্যাস...

    ভাইয়া, আপনার লেখা পড়ে খুব ভাল লাগলো।আরো ভাল লাগলো এই ব্লগটা পছন্দ করছেন বলে।কোক খাবার ফার্স্ট ক্যান্ডিডেট কিন্তু আমি... মনে রাইখেন 😉

    জবাব দিন
  2. আপনি আমাদের এক বছর সিনিয়র।মামাআআআআআআ......দিন কাল কেমন যাচ্ছে?icclmm 2001এ আমি সিলেট এর বাস এ ঢাকা ফিরেছিলাম।মাহমুদ ভাই সেবার প্রথম হয়েছিলেন extempore speech এ।আমিও একই event এ ছিলাম।আর আসরার ভাই একটা গান লিখেছিল ২২ ***(censored),একটা বিশেষ দল কে নিয়ে।ভয়াবহ জিনিস!!!ফারহান ভাইও বাস এ দুর্দান্ত মজা করেছিলেন।কিন্তু বস সিলেট এর বাস লক্কর ঝক্কর এর দিক দিয়ে এমনকি আমাদের বাস কেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল......খুব এ মজা হয়েছিল.........আমাকে চিনতেও পারেন যদি icclmm 2001 এ তাল গাছ এর মত লম্বা কোন ক্যাডেট কে (class 11) খাওয়া দাওয়া নিয়ে বকবক করতে শুনে থাকেন......

    ভাল থাকবেন বস!!

    জবাব দিন
  3. আসরার আর ফারহান এখন লন্ডনে একসাথে আছে। ২২ এর গানটা মনে হয় ৩ পুরুষ (বাচ্চুর) এর প্যারোডি। মাহমুদ আইবিএ থেকে পাশ করে এখন ফাটাফাটি একটা জব করেছে। ওরা সবাই ব্যস্ত। নইলে ওদেরকেও ডেকে আনতাম এখানে। তাহলে আরো মজার মজার কাহিনী শুনতে পেতে। বিশেষ করে আসরার যদি আসতো। উফফ বিশাল প্রতিভা । সিলেট হাইফাই একটা বাস কিনেছে শুনেছি। আমরা চড়ার চান্স পাইনাই।

    জবাব দিন
  4. রকিব (০১-০৭)
    ক্যাডেট মাত্রই জানার কথা গেমস এর ১ ঘন্টা কাটিয়ে ক্যান্টিন এর বরফ হয়ে যাওয়ার একটু আগের কোক কি জিনিস

    কুনুদিন একলা কুক খাইতে পারি নাই, কম কইরা হইলেও ৪ জন আইসা পড়ত। তারপরো কুন আফসুস নাই, আমরা আমরাই তো 😀 😀 ।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : মাহমুদ ফয়সাল (৯৯-০৫)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।