একজন কিংবদন্তীর কথা বলছিঃ ক্লাইভ লয়েড (শেষ পর্ব)

প্রথম পর্ব

শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়া

লয়েড সে সময় সম্ভবত জীবনের সেরা ফর্মে ছিলেন। সেরা ফর্ম দেখানোর জন্য তিনি বেছেও নিলেন সেরা প্ল্যাটফর্ম, প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ! মাত্র ৮৫ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো তাঁর দৃষ্টিনন্দন ১০২ রানের ইনিংসটি আজও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ইনিংস বলে স্বীকৃত। তিনি যখন মিড উইকেট দিয়ে অবলীলায় অসি বোলারদের পুল করছিলেন তা দেখে প্রখ্যাত সাংবাদিক জন আরলট লিখেছিলেন, The stroke of a man knocking a thistle-top with his walking stick! বৃটিশদের উপমা বাংলা করা সহজ নয়, তবুও অনেকটা এভাবে বলা যায়, ‘তাঁর স্ট্রোক দেখে মনে হচ্ছে যেন হাঁটার সময় ব্যবহৃত ছড়ি দিয়ে ছোট কাঁটা গাছের মাথা ছেঁটে দিচ্ছে!’

এমনকি ইনিংসের শুরুর দিকের কিছু স্ট্রোক, বিশেষ করে লয়েড যখন ডেনিস লিলিকে হুক করে ছয় মারলেন- এটা দেখে ইংরেজ সাবেক ক্রিকেটার গাবি এলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জেফ স্টলমেয়ারের দিকে ঘুরে বলেছিলেন, ‘লয়েড আজ দারুণ টাচে আছে। অস্ট্রেলিয়ার খবর আছে!’

লয়েড যখন ব্যাট করতে নামেন দল তখন ৫০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। যখন আউট হলেন তখন স্কোর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৯/৪। এরপর ভিভ অল্প রানে আউট হলেও বয়েস, জুলিয়েন এবং মারে’র কার্যকরী ইনিংসে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯১ রান। অসিদের পক্ষে গিলমোর দারুণ বল করে ১২ ওভারে মাত্র ৪৮ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট দখল করেন।

২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে অসিরা শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করতে সমর্থ হয়। অসিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন গ্রেগ চ্যাপেল। কিথ জয়েসের দারুণ বোলিং এবং ক্যারিবিয়দের অসাধারণ ফিল্ডিং প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখে। বয়েস একাই চার উইকেট নেন, এছাড়া ফিল্ডারগণ ৫ অসি ব্যাটসম্যানকে চমৎকার ফিল্ডিং করে রান আউট করেন। বাকি উইকেটটি দখল করেন ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক ক্লাইভ লয়েড, তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত মিডিয়াম পেসের সাহায্যে। বলা বাহূল্য, ম্যান অব দ্যা ফাইনাল হন ক্লাইভ লয়েড।

amb3-v735-jpg-1

এ সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি কাউন্টি ক্রিকেটেও দারুণ পারফর্ম করতে লাগলেন। ১৯৭৮ সালের এক সীমিত ওভারের ম্যাচে প্রতিপক্ষ দল গ্লুচেস্টারশায়ার সাদিক মোহাম্মদ, জহির আব্বাস এবং মাইক প্রক্টোরের ব্যাটে ভর করে ২৬৭ রানের বড় স্কোর করল। লয়েড যখন ব্যাট করতে নামলে ল্যাঙ্কাশায়ারের সংগ্রহ ৩ উইকেটের বিনিমিয়ে ৩৩ রান। ক্যাপ্টেন ডেভিড লয়েড অন্য প্রান্তে রয়েছেন। প্রক্টোর তেড়েফুঁড়ে এসে বল করলেন এবং লয়েডের মিসটাইম শটে বল কানায় লেগে ছয় হয়ে গেল। প্রক্টোর ক্ষোভে লয়েডকে উদ্দেশ্যে কিছু কটু কথা শোনালেন। এরপর ডেভিড লয়েড তাঁর কাছ গিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করতেই ক্লাইভ উলটো জানালেন, ‘ব্যাটা আমার মাথা গরম করে দিয়েছে! ওকে মেরে আমি এবার প্যাভিলিয়নে পাঠাবো!’ ক্যাপ্টেন বুঝতে পারলেন তাঁর আর কিছু করার নেই শুধু বললেন, ‘যদি মারতেই চাও খেয়াল রেখো যেন ঠিক মত লাগে!’ বলে নিজের ক্রিজে ফিরে গেলেন। পরের বলে ঠিকই প্রক্টোরকে প্যাভিলিয়নের উপর দিয়ে ছক্কা মারলেন ক্লাইভ। যে প্রক্টোরকে খেলতে অন্যরা হিমশিম খায় তাকেই কিনা অবলীলায় বলে-কয়ে ছক্কা মারলেন!

অধিনায়কত্বের পরিপক্কতা

লয়েডের অধিনায়কত্ব নিখুঁত হবার পেছনে অস্ট্রেলিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি।
ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল অস্ট্রেলিয়া সফরে গেল। ক্লাইভ লয়েড ভবিষ্যতবানী করলেন, ‘প্রতিভা এবং দক্ষতার দিক দিয়ে দুই দলের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই, সিরিজটি যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এটা জানার জন্য জ্যোতিষী হবার প্রয়োজন নেই!’
লয়েডের ভবিষ্যতবানী একেবারেই ঠিক ছিল না!

গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বে এক দল দয়ামায়াহীন নির্দয় সৈন্যের মতন অসি বোলারগণ ক্যারিবিয়দের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যাদের অন্যতম ছিল লিলি-থমসন জুটি। তরুণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে অসিরা হারালো ৫-১ ব্যবধানে!

সিরিজ শেষে গর্ডন গ্রিনিজ লয়েডকে দুষেছিলেন এই বলে যে তিনি অধিনায়ক হিসেবে দলকে প্রয়োজনীয় অনুপ্রেরণা যোগাতে পারেন নি। যদিও, ব্যাট হাতে লয়েড খারাপ করেন নি-৪৭ গড়ে মোট ৪৬৯ রান করেছিলেন যার মধ্যে পার্থ এবং মেলবোর্নে করা দুটি শতক রয়েছে। যাই হোক, দলগত ভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঠিকমতন অসি পেস এটাকের মোকাবেলা করতে পারে নি। ওপেনারদের ব্যর্থতায় বল নতুন থাকা অবস্থাতেই মিডল অর্ডারকে খেলতে হয়েছে। এছাড়া অসি গতিদানবদের গতির কোন জবাব ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যানদের ছিল না।

পার্থ টেস্টে লয়েড নিজেই লিলির বলে চোয়ালে আঘাত পেয়েছিলেন, ব্রেনার্ডের বৃদ্ধাঙ্গুল ভেঙে গিয়েছিল, কালীচরণের নাক ফেটেছিল। এছাড়া অনেকেই লেন্থ না বুঝে হুক শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন। তার উপর সফরকারীরা আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তেরও শিকার হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ইয়ান চ্যাপেলের নিশ্চিত আউট না পেয়ে খেলার মধ্যেই তরুণ মাইকেল হোল্ডিং কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন!

নিখাদ ফাস্ট বোলিং কতটা কার্যকর-এই চরম শিক্ষাটি ক্লাইভ লয়েড এই সিরিজ থেকেই পেয়েছিলেন এবং সারাজীবন তা মনে রেখেছিলেন।
ক্লাইভ লয়েডের অধিনায়কত্ব চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল ১৯৭৬, যখন ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গেল। বার্বাডোজে হওয়া প্রথম টেস্ট জিতে আত্মবিশ্বাসী লয়েড পোর্ট অব স্পেনে ৪০৩ রানের লিড পেয়েচ কিছুটা আগেই ইনিং ঘোষণা করলেন। কিন্তু দলের মূল স্পিনার অ্যালবার্ট প্যাডমোর, রফিক জুমাদিন এবং ইমতিয়াজ আলী ১০৫ ওভার বল করে মাত্র ২ উইকেট দখল করতে সক্ষম হলেন। বিশ্ব রেকর্ড করা লক্ষ্য তাড়া করে ভারত ৬ উইকেট জিতে গেল!

ম্যাচ শেষ লয়েড স্পিনারদের ডেকে বললেন, ‘জেন্টলমেন, তোমাদেরকে ৪০০ রান দিলাম তাও তোমরা ম্যাচ জেতাতে পারলে না! তোমরাই বল, ম্যাচ জিততে তোমাদের ঠিক কত রান প্রয়োজন?!’

পরবর্তীতে আর কখনোই স্পিন বোলিং লয়েডকে হতাশ করে নি, কেননা তিনি সেই সুযোগই দেন নি। এর পর থেকেই তিনি নির্ভর করেছেন ফাস্ট বোলিং এর উপর- ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলিং! জ্যামাইকা টেস্টেই মাইকেল হোল্ডিং এবং ওয়েইন ড্যানিয়েল ভারতীদের কাঁদিয়ে ছেড়ে দেন। নেপোলিয়ান যেভাবে রাশিয়া থেকে পালিয়ে এসেছিল, ভারতীয় ব্যাটসম্যানগণ সেভাবেই ম্যাচে রণভঙ্গ দেয় এবং অসহায় পরাজয় মেনে নেয়!

এবং এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে আর পেছনে তাকাতে হয় নি!

১৯৭৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ড সফরে গেল। ইংরেজ দল নেতা টনি গ্রেগ দম্ভের সাথে ঘোষণা দিলেন ক্যারিবিয়দের মাটিতে হামাগুড়ি দিতে (পা ধরে মাফ চাওয়া অর্থে) বাধ্য করবেন! এটা ছিল টনি গ্রেগের দীর্ঘ ক্রিকেট জীবনের অন্যতম সেরা ভুল। ইংল্যান্ড দলকে তাদের দলনেতার বড় বড় কথার খেসারত দিতে হয়েছিল। কেননা, ক্যারিবিয়রা জবাবটা দিয়েছিল ক্রিকেট মাঠেই। স্বাগতিকদের ব্রায়ান ক্লোস এবং জন এডরিচ অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, ম্যানচেস্টারের পিচে ক্যারিবিয় ফাস্ট বোলারগণ এমনই আগুন ঝড়ানো বল করলেন। লয়েডকে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে হয় নি। টপ অর্ডারের গ্রিনিজ, ভিভ এবং রয় ফ্রেডেরিকই দলের সিংহভাগ রান করে করে কাজ সহজ করে দিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ জিতল ৩-০ ব্যবধানে!

বিদ্রোহী সিরিজের ধাক্কা!

কেরি প্যাকারের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি দেখানো যাবে। তবে, সত্যি কথা হচ্ছে খেলোয়াড়দের আর্থিক মূল্য সে সময়ে যতটা ভাবা হত তার চেয়ে কতটা বেশি ছিল, সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন ঐ প্যাকারই! টাকা ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্যাকার সিরিজে খেলার কোন কারণ ছিল না। বোর্ড থেকে খেলোয়াড়দের একেবারেই অপ্রতুল বেতন দেয়া হত, বেশিরভাগ পেশাদার ক্রিকেটারকে আটলান্টিকের এপাড়ে এসে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া লীগ খেলে সংসার চালাতে হত! ক্যারি প্যাকারের বিদ্রোহী টুর্নামেন্টে তাঁরা নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাওয়া শুরু করলেন। ইংল্যান্ড সফরের অভাবনীয় সাফল্যের পর লয়েড প্যাকারের কাছ থেকে পারিশ্রমিকের প্রস্তাব পেলেন তা ছিল তাঁর এক মৌসুমের বেতনের তিন গুণেরও বেশি! অর্থের তারতম্যটা ছিল চোখে পড়ার মতন। এ কারণে, লয়েড নিজেই ক্যারিবিয়দের অনেকে প্যাকার সিরিজে খেলার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

তবে, এই টুর্নামেন্টের ক্রিকেট ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়েও বহু গুণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ! ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ সারা পৃথিবীর নাম করা অনেক ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলার নাম লিখিয়েছিলেন। তবে, প্যাকারের নেতিবাচক প্রভাবও ছিল। জাতীয় দলগুলোর মধ্যে ছোট ছোট উপদল তৈরি হয়েছিল, খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হয়েছিল বিভেদ এবং সন্দেহ।

বিদ্রোহ দমনে সবচেয়ে কঠোর ছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। তারা অনেক খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। দলকে নেতৃত্ব দেবার জন্য অবসর ভেঙে ডেকে আনল ববি সিম্পসনকে। দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ববি গেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। লয়েডের দল দুর্বল সফরকারীদের বিরুদ্ধে খুব সহজেই প্রথম ২ টেস্ট জিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও ভাঙনের সুর বাজছিল। জ্যামাইকা টেস্টের আগে নির্বাচকরা হঠাৎ করে কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে দল ঘোষণা করল, যাদের প্রত্যেকেই ওয়ার্ল্ড সিরিজের সদস্য। এমনকি ডেরিক মারে’কেও সহ-অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হল! ক্লাইভ লয়েড নির্বাচকদের কাছে দল নির্বাচনের ব্যাপারে প্রশ্ন করেও কোন সদুত্তর না পেয়ে নিজ থেকে অধিনায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড বেকায়দায় পড়ল! জোর করে কিছুদিন কালীচরণের নেতৃত্বে দল চালাবার ব্যর্থ প্রয়াস অবশ্য বোর্ড করল। তবে, ভারতের কাছে সিরিজ হেরে সব শর্ত মেনে পুনরায় লয়েডকে অধিনায়ক করতে তারা বেশি দেরী করলেন না। রাজা যেন আবার তাঁর সিংহাসনে আরোহন করলেন!

আপাত দৃষ্টিতে ক্যারি প্যাকার সিরিজ দলের মধ্যে ভাঙন ধরালেও পুনর্গঠিত হবার পর দলটি আগের চেয়েও বেশি সংগঠিত হয়ে উঠল। প্রত্যেকেই বুঝতে পারল দলনেতা তাদের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারেও পিছপা হবে না। ওদিকে ডেনিস হোয়াইট দলের ফিটনেস ট্রেইনার হিসেবে যোগ দিলেন এবং পেস বোলারদের নিজের সন্তানের মতন যত্ন নেয়া শুরু করলেন। সব মিলিয়ে দল হয়ে উঠল একটি অসম্ভব সুসংগঠিত এবং অজেয়! প্রমাণ স্বরুপ ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপে সবাইকে উড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মতন শিরোপা জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। এরপর, অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে চার বছর আগের সিরিজ হারের মধুর প্রতিশোধ নিল ২-০ ব্যবধানে জিতে।
সাফল্যের মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এবং ক্লাইভ লয়েডের ক্যারিয়ারে কালিমা লেগে গেল ১৯৭৯-৮০ সালের নিউজিল্যান্ড সফরের সময়। নানা কারনে কুখ্যাত সেই সিরিজটি তারা ১-০ ব্যবধানে হারল। এটাই ছিল লয়েডের নেতৃত্বে দ্বিতীয় ও সর্বশেষ সিরিজ হার। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পরের গল্প শুধুই সাফল্যের!

সাফল্যের গল্প

নিউজিল্যান্ড সফরের পরের প্রায় পুরোটাই সাফল্যের গল্প। নিজের মাটি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড দুই জায়গাতেই সিরিজ হারল। লিলির অসামান্য বোলিং নৈপুণ্যে ভর করে অসিরা একটি সিরিজ ড্র করতে সমর্থ হলেও আরেকটি সিরিজে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করল। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে ভারতকে নিজের মাঠে নাস্তানাবুদ করল ক্যারিবিয়রা। অবশ্য ১৯৮৩ সালের প্রুডেনশিয়াল কাপের (বিশ্বকাপ ক্রিকেট) ফাইনালে ভারতের করা মাত্র ১৮৩ রান তাড়া করতে ব্যর্থ হল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল, যা কিনা সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অন্যতম অঘটন হিসেবে গণ্য করা হয়। যাই হোক, ঐ বছরই ভারত সফরে গিয়ে সেই হারের প্রতিশোধ নিলো তাদেরকে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারিয়ে। শুধু তাই নয় ৫ ম্যাচের ওডিআই সিরিজের সবক’টি জিতল ক্যারিবিয়রা দাপটের সাথে!

সময়ের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পেস এটাক আরও ভয়ংকর এবং অজেয় হতে থাকল। ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং, এন্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার এবং মাঝে মাঝে ওয়েইন ডেনিয়েল, এলডিন বাপতিস্তা সহ অন্যান্য বোলারগণ সারা পৃথিবীজুড়ে সকল ব্যাটসম্যানদের গুঁড়িয়ে দিতে লাগলেন! ভয়ানক বোলিং এর পাশাপাশি ব্যাটসম্যান গণও দারুণ খেলে চললেন। গ্রিনিজ, রিচার্ডস, ল্যারি গোমেজের ব্যাটে রানের বন্যা ছুটতে লাগল। আর ক্লাইভ লয়েড? সময়ের সাথে তিনিও নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে লাগলেন!

বয়স যত বেড়েছে তাঁর বিশাল মোচ তত ঘন ও বড় হয়েছে, চশমার লেন্সও সম্ভবত মোটা হয়েছে-একই সাথে খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক হিসেবেও ততটাই পরিণত হয়েছেন। ১৯৮১ সালের পর তিনি মোট ৩২ টি টেস্ট খেলেছেন। ৬ টি শতকের মাধ্যমে ৬১.৬৩ গড়ে রান করেছেন ২,৩৪২। বয়স তাঁর সহজাত স্ট্রোক খেলায় কোন প্রভাব ফেলতে পারে নি, এমনকি শেষ টেস্ট পর্যন্ত তিনি সেরাটাই খেলে গেছেন। দল যখনই কোন বিপদে পড়েছে হেলে-দুলে বিশাল দেহ নিয়ে ক্রিজে নেমেছেন এবং ব্যাট দিয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ম্যাচ ঠিকই নিজেদের করে নিয়েছেন। উদাহরণ স্বরূপ ১৯৮৩ সালের কলকাতা টেস্টের কথা বলা যায়। এক পর্যায়ে ক্যারিবিয়রা ২১৩/৮ ছিল। ভারতীয়দের স্পিন বোলিং কেউ খেলতেই পারছিল না। ঐ পরিস্থিতিতে তিনি অপরাজিত ১৬১ রানের ইনিংস খেললেন! নবম উইকেটে এন্ডি রবার্টস এর সাথে ১৬১ রানের জুটি করলেন।

১৯৮৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মত ব্ল্যাকওয়াশ করল, ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৩-০ ব্যবধানে। খেলা হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে।

শেষ টেস্ট!

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েড তাঁর শেষ টেস্ট খেলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, সিডনিতে। এর আগের ৪ টেস্টের ৩ টিতে জিতে ইতোমধ্যেই তাঁদের সিরিজ জেতা হয়ে গিয়েছিল। জীবনের শেষ ইনিংসেও দারুণ সব স্ট্রোকের সমন্বয়ে খেললেন ৭২ রানের ঝকঝকে ইনিংস। অসিরা লেগস্পিনর বব হল্যান্ডকে ‘সিক্রেট উইপন’ হিসেবে ব্যবহার করলেও ক্লাইভের সামনে তিনি একেবারেই অসহায় ছিলেন। লম্বা স্ট্রাইড নিয়ে লেগস্পিনারকে নাচিয়ে ছেড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্রেইগ ম্যাকডরমেটের বলে অ্যালান বোর্ডারের হাতে আউট হন। শেষ হয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক অন্যতম বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। ক্লাইভ লয়েড ১১০ টেস্টে ৪৬.৬৭ গড়ে রান করেছেন সর্বমোট ৭,৫১৫ রান। সেঞ্চুরি করেছেন মোট ১৮ টি।

অবশ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ টেস্টটি হেরেছিল। তবে, এটাকে দার্শনিকের মতন ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি। ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথম টেস্ট জিতেছিলেন, শেষ টেস্টটি হারলেন। তাঁর মতে পুরো ব্যাপারটাতে একটি ‘ভারসাম্য’ থাকল! যাই হোক, ১১০ ম্যাচের মধ্যে ৭৪ টেস্টে তিনি অধিনায়ক ছিলেন। জয় ৩৬, পরাজয় ১২ এবং বাকিগুলো ড্র। মোট ১৮ টি সিরিজের মধ্যে জয় ১৪, পরাজয় ২ এবং ড্র ২। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ক্লাইভ লয়েড সন্তুষ্টি প্রকাশ করতেই পারেন…

খেলোয়াড় লয়েড

ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার জন আরলট এর ভাষায়, ‘লয়েডের বিশাল রিচ (স্ট্রাইড), প্রচণ্ড শক্তি, সহজাত টাইমিং এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব তাঁকে করেছিল ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও কার্যকর কন্ট্রোল্‌ড হিটার!’ ক্লাইভ লয়েড যখন বোলাদের উপর চড়াও হতেন-দর্শক হিসেবে এর চেয়ে মধুর দৃশ্য খুব কমই ছিল। তাঁর খুনে, শ্বাসরুদ্ধকর এবং সহজাত ব্যাটিং এর মধ্যে এক ধরনের আদিম সৌন্দর্য ছিল। বিশেষ করে আশির দশকে, যখন তিনি সেরা ফর্মে ছিলেন।
ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি কাভার পজিশনের দুর্দান্ত ফিল্ডার ছিলেন। বিশাল এবং অ্যাথলেটিক হবার কারণে তাঁকে এড়িয়ে বল মারা খুবই কঠিন ছিল। পরবর্তীতে একিলিস টেন্ডনে ব্যথা পাবার পর সাধারণত প্রথম স্লিপেই ফিল্ডিং করতেন। সেখানেও দারুণ সফল ছিলেন। সেসব ‘এজ’ স্লিপের পাশ দিয়ে চলে যাবার কথা, সেগুলোকেও তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দিতেন বা ক্যাচ নিতেন।

1413725974689

ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি কার্যকর মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অফ স্পিনও করতেন। ইনজুরিতে আক্রান্ত হবার পর আর বোলিং করেন নি। অবশ্য, তাঁর হাতে এত বেশি শক্তিশালী অস্ত্র ছিল যে বোলিং করার প্রয়োজনও পড়ে নি।

image_20130831105109

তাঁর অধিনায়কত্ব কতটা ভাল ছিল?

এ ব্যাপারে পক্ষে ও বিপক্ষে দু’দিকেই মত আছে। জন আরলট তাঁর ভক্ত ছিলেন। তাই বিশ্লেষণে তিনি মুগ্ধতা লুকানোর চেষ্টাও করেন নি, লয়েডের অধিনায়কত্ব ছিল মর্যাদা, দৃঢ়তা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং বাস্তববাদী কৌশলের সমন্বয়ে তৈরি। কিছু লোক তাঁকে ‘অতিরিক্ত’ আক্রমণাত্মক বলে সমালোচনা করে থাকে। এ ব্যাপারে তাঁর অতি সহজ সরল একটি যুক্তি রয়েছে-তাঁর কাছে বিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেবার অস্ত্র আছে এবং তিনি তা ব্যবহার করবেন। সীমা অতিক্রম করছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব আম্পায়ারের!’

ওদিকে সতীর্থ গ্রিনিজ আবার মোটেই ক্লাইভের অধিনায়কত্বে খুশি ছিলেন না। বিশেষ করে প্রথম দিকে। ১৯৮০ সালে Man in The Middle শিরোনামে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার মতে ক্লাইভের নাম সম্ভবত ইতিহাসের সেরা অনুপ্রেরণাদায়ক অধিনায়কের তালিকায় থাকবে না। ক্লাইভ একজন চমৎকার এবং মেধাবী ক্রিকেটার, যিনি একটি দারুণ বা দারুণ হবার মত যোগ্য দলের অধিনায়ক। আমি কাউকে ছোট করতে চাচ্ছি না, তবে আরেকটু যোগ্য কোন নেতা পেলে আমাদের দলটি হয়ত বিশ্বযুদ্ধের পর খেলা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হতে পারত!’

গ্রিনিজের মতে লয়েডের চেয়ে মাইক বেয়ারলি বা টনি গ্রেগ আরও ভাল অধিনায়ক ছিলেন। গ্রিনিজের মতে লয়েড হেরে যাওয়া দলকে প্রয়োজনীয় অনুপ্রেরণা দিতে পারতেন না। অবশ্য, লেখাটি যদি তিনি আর বছর পাঁচেক পরে লিখতেন, তাহলে হয়ত ভাষা অন্যরকম হত। কেননা, সত্যিকার অর্থে লয়েডের চেয়ে ভাল আসলে কেউই ছিলেন না!

ভিভ রিচার্ডস লয়েডের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, ‘ক্লাইভ আমাদের সবার জন্যই দারুণ অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন।‘
অস্ট্রেলিয়ার লেগ-স্পিন অলরাউন্ডার এবং পরবর্তীতে ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো বলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে যেরকম অধিনায়ক দরকার ছিল ক্লাইভ ঠিক তা-ই ছিলেন। তাঁর মতে, ‘অন্য কেউ ক্যাপ্টেন হলে ওদের মধ্যে খেলার প্রতি দায়িত্বজ্ঞান সেই আগের মত কমে যেত, যে আমলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দারুণ পারফরমেন্স দেখতে পাওয়া যেত কিন্তু দলগতভাবে তেমন কিছু অর্জিত হত না।‘

বব উইলিস আবার ক্লাইভের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার মতে ক্লাইভ মোটেই তেমন ভাল অধিনায়ক ছিল না। অত্যন্ত বিরক্তিকর একটি ফরমুলা (ফাস্ট বোলিং) ব্যবহার করে তাঁর দল বিশ্বের সেরা হয়েছিল!’

১৯৭৬ সালের রক্তাক্ত (Bloodbath নামে পরিচিত) জ্যামাইকা টেস্টের পর গাভাস্কার এভাবে বলেছিলেন, ‘লয়েড ম্যাচ জেতার জন্য একেবারে মরিয়া হয়ে গেছে এবং নিজের অবস্থানকে অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছে। সে আমাদের এগারো জন খেলোয়াড়কেই হাসপাতালে যেত বাধ্য করেছে! এটা ভাল কোন অধিনায়কত্ব নয়, স্রেফ বর্বরতা!’

509387222

সম্ভবত সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণটি করেছেন ডেভিড গাওয়ার, যিনি কিনা নিজেও ১৯৮৪ সালে ক্যারিবিয়দের তাণ্ডবের মুখে পড়েছিলেন। তাঁর মতে, একজন অধিনায়ক হিসেবে লয়েড নিশ্চয়ই দলে কেন এত ভয়ানক বোলিং অ্যাটাক রয়েছে বলে মন খারাপ করে বসে থাকবেন না! ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোন দল চারজন জেনুইন পেসার নিয়ে খেলতে নামে নি। বেশিরভাগ সময়েই লয়েডকে যা করতে হত তা হল পেস বোলারদের চাবি দিয়ে ছেড়ে দিতেন! মাঝে মাঝে রিচার্ডস বা গোমেজ অল্প কয়েক ওভার স্পিন করতেন যাতে দ্বিতীয় নতুন বল নেবার আগ পর্যন্ত পেসারগণ বিশ্রাম পায়। অনেকেই লয়েডের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাঁর সীমাবদ্ধতা আছে বলে প্রমাণ করতে চায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে কার্যকরী এবং সফল অধিনায়কের ব্যাপারে এসব বলাটা একটু হাস্যকরই বটে! সবচেয়ে বড় কথা ক্যারিবিয় দলের অধিনায়ক হবার জন্য ক্রিকেট জ্ঞানের পাশাপাশি রাজনীতিতেও দক্ষ হওয়া প্রয়োজন, কেননা দ্বীপ-দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের নানা চড়াই-উৎরাই রয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্যারিবিয় দলে সবসময়ই এক বা একাধিক এমন খেলোয়াড় থাকে যাকে খুব কম লোকই সামলাতে পারেন। এত কিছু সুনিপুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সাফল্য পেয়েছেন বলেই শুধু নিজের দল ও সমর্থক নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে তিনি সমানভাবে সমাদৃত!

একেবারে নিখুঁত বিশ্লেষণ!

হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে রজার হার্পারের কয়েকটি ম্যাচ বাদে বাকি সবগুলোতেই লয়েড চার পেসার নিয়ে খেলেছেন। তাঁর কৌশল ছিল একই রকম, অনেকের কাছে হয়ত একঘেয়েও মনে হতে পারে। বিপক্ষের প্রতি তাঁর নির্দয় মনোভাবও বেশ কয়েকবার প্রকাশ পেয়েছে। এমনও হয়েছে ফাস্ট বোলারগণ রাউন্ড দ্যা উইকেট এসে ব্যাটসম্যানদের একের পর এক বাউন্সার দিয়ে ঘায়েল করেছে। এ ব্যাপারে আম্পায়ারের সাথেও বেশ কয়েকবার ক্লাইভ লয়েডের বাদানুবাদ হয়েছে। এমনকি ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ে পর ভারত সফরে গিয়ে প্রতিশোধের নেশায় তিনি আম্পায়ারদেরকেও অনেকবার কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিলেন যাতে সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আসে।

তারপরও তিনি এমন একটি বিশাল ভিত্তি ছিলেন যাঁকে ঘিরেই অসামান্য প্রতিভাধর একদল ক্রিকেটার এক হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পথ চলা শুরু করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সব সময়ই সেরা হবার মত সকল যোগ্যতাই ছিল, ক্লাইভ লয়েডই সর্বপ্রথম সেটা সম্ভব করেছিলেন। ইতিহাস ক্লাইভ লয়েডকে এভাবেই মনে রাখবে যে তাঁর নেতৃত্বেই ক্যারিবিয়রা ক্রিকেট বিশ্বকে জয় করেছিল!

৯ টি মন্তব্য : “একজন কিংবদন্তীর কথা বলছিঃ ক্লাইভ লয়েড (শেষ পর্ব)”

  1. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    এই পর্বের অপেক্ষায় ছিলাম। দুই পর্ব মিলিয়ে পড়ে ফেললাম, একটানে পড়া যাকে বলে।
    দূর্দান্ত!

    জুনা, আগেও বলেছি, এবারও বলি- ক্রীড়া লেখাটাকে সিরিয়াসলি নিয়ে ফেল। আরও বেশি বেশি করে লিখ। ব্লগে, অন্যান্য মাধ্যমেও।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  2. তানভীর (২০০১-২০০৭)

    জুনাদা, ১ম পর্বের পর অধীর আগ্রহে বসে ছিলাম শেষ পর্বের জন্য।এমনকি মূললেখার লিংকে যাইনি অনুবাদের স্বাদ নেয়ার জন্য।
    মাহমুদ ভাইয়ের সাথে আমিও সহমত পোষণ করছি।লেগে যান..... মাঝে মাঝে আমি আপনাকে ঠ্যালা দিবো।
    এশিয়া কাপতো চলে এলো....যদিও ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলাটাকে দিনেদিনে ধ্বংস করে চলেছে তবুও দেশ ভালো খেলুক সেই প্রত্যাশায়....
    জুনাদা, আপনার লেখাটা শেষ করার পর ক্লাইভের অনুমিত বায়োগ্রাফি সুপারক্যাট পড়তে খুব ইচ্ছা করছে। যাই ডাউনলোড করি.....


    তানভীর আহমেদ

    জবাব দিন
  3. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    চুইংগাম চিবাতে চিবাতে মাঠে নামা বা মাঠ থেকে বের হবার দৃশ্যটাকে পৃথক স্ন্যাপশটে দেখালে বোঝা মুশিকিল ছিলো ডাক নিয়ে মাঠ ছাড়ছে নাকি একশো বা দেড়শো করে। এমন নির্বিকার তুখোড় খেলোয়াড়দের এক ঝাঁক যেনো সেই সময়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।
    আর নাটি প্রফেসারের মতোন পুরু চশমায় খেলিতে নামা মানুষটাকে ঘিরেই যেনো উদ্দাম উৎসব ছিলো ক্যারিবীয় ক্রিকেটের। সেই সব দিনের স্মৃতির তোরঙ্গ খুলে দিলে যেনো কোন জাদুর চাবিতে।
    ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : তানভীর (২০০১-২০০৭)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।