উপলব্ধিঃ মায়ের ভালবাসা

সবাই বলে সময়ের সাথে সাথে মানুষের ব্যস্ততা বাড়ে কিন্তু আমার কাছে কেন যেন মনে হয় ব্যস্ততা না দায়িত্ত বাড়ে।

বাবা-মা সবসময়ই তার সন্তানদের জন্য চিন্তা করেন, সে বড় হোক আর ছোট। যখন থেকে নিজেকে বড় মনে হয়েছে তখন থেকেই আমি সবসময় এই জিনিস গুলো নিয়ে খুব বিরক্ত হতাম। রাতে বাসায় আসতে দেরি হলে আম্মু বার বার ফোন দিত। কখন আসবি, আর কতদুর, আর কতক্ষন এইসব।তখন মেজাজটা কেন যেন খুব খারাপ হত। মাঝে মাঝে আম্মুর সাথে অনেক রাগ করতাম। তখন বুঝতে পারিনি কেন মার এই চিন্তা? বিয়ের পরও কোথাও গিয়ে একটু দেরি হলেই আবার ফোন, আবারও সেই একই প্রশ্ন? আম্মুকে অনেক কড়া গলায় বলতাম আম্মু তোমরা কি মনে কর আমি এখনও সেই ছোট্ট ফয়সালই আছি? আম্মু শুধু বলত নিজের যখন ছেলেপেলে হবে তখন বুজবি। তখনও বুজতে পারিনি কেন মার এই চিন্তা?

বিয়ের ৩ বছর পর এক সকালে আমার মেয়ের জন্ম হল। বিকালে শিশু বিশেষজ্ঞ এসে একটি এন্টিবায়টিক ইনজেকশন লিখে দিলেন। সিস্টার এসে হাতে ক্যানুলা  লাগাচ্ছে। সেই দৃশ্য দেখে আমি আর সামনে দাড়িয়ে থাকতে পারিনি। কেবিনের বারান্দায় চলে গিয়েছিলাম। আর আমার দুচোখ বেয়ে শুধু অশ্রু পড়ছিল। সেইদিন সেই স্থানে দাঁড়িয়ে আমি মায়ে কাছে করা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গিয়েছিলাম। তারপর সেইখানে দাঁড়িয়ে আরও অনেকক্ষণ কেঁদেছি। সেই কান্না ছিল এতদিন না বুঝে মার সাথে করা খারাপ ব্যবহারের জন্য। সেইদিন থেকে জীবনের খাতাটাকে নতুন করে সাজাতে শুরু করলাম। মা সত্যি তোমাকে অনেক অনেক অনেক ভালবাসি, অনেক অনেক অনেক মিস করি।

৫০৪ বার দেখা হয়েছে

১টি মন্তব্য “উপলব্ধিঃ মায়ের ভালবাসা”

মওন্তব্য করুন : হারুন

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।