স্থবির জড়তা

আমি বারেবার স্থিরতায় জড় হয়ে পরে থাকি। অবাক নিস্পলক চেয়ে থাকি তোমার চোখে। চেয়ে থাকো তুমিও…কিন্ত খুব বেশি সময় থাকতে পার না। তোমার মারাত্মক রকম পরিস্কার চোখটা নিমিশেই ঘোলা হয়ে যায়। ঠিক তখনি সংবিত ফিরে পাও তুমি। ভয়ে কেপে উঠো বারেবার। জানিনা হয়ত একারনেই আমাকে আড়াল করে রাখ এত দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্ত তুমি এ রকম ছিলে না। লাজুক চোখেও তাকিয়ে থাকতে আমার দিকে এত লম্বা সময়, যে আমি মাঝে মাঝে লজ্জায় নিজেই চোখ ফিরিয়ে নিতাম। কে জানে? হয়ত তোমার চোখের সীমাহীন গভীরতায় তল খুজে না পেয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলতাম ভালবাসায়। চোখ নামিয়ে প্রশ্ন করতাম ” কি দেখ অমন করে?” উত্তরে তুমি মুচকি হাসতে। সেই হাসিতে যে কি মহিমা তা আমি বলতে পারি না। ওই হাসিতে প্রেম আর তাচ্ছিল্যেরর কেমন ধাধাময় মিশ্রন ছিল, তা তুমি না দেখলে বিশ্বাস করবে না। ঐ অস্ফুট হাসিটার অর্থ খুজতে গিয়ে আমি কত সুর করেছিলাম তোমার মনে আছে? হয়ত কোনো রেকর্ডে বাধা পরে নি সেই সুর। কিন্ত মনে রেখ তোমার চারিপাশে তারা আজও মৃদু হাহাকারের সুর তোলে। আর তুমি মাঝে মাঝে তা শোনার জন্য বাতাসে কান পেতে বসে থাক। শুনতে থাক সেই ফিস ফিস গুঞ্জন। আর শুন্যতার দীর্ঘশ্বাস ফেল, উষ্ণ, স্থবির। দুরের বাতাসে সেই দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসে আমার হৃদয় পর্যন্ত। কিংবা তার যতটুকু বাকি আছে। কারন তুমি আর তুমি টি নেই। তুমি আর আমার নও। হয়ে গেছ অন্য কারো। তাই আমিও বদলেছি। অনেকটাই। তোমার প্রচন্ড জেদি আর চঞ্চল আমিটা এখন অনেক বেশি স্থির হয়ে গেছি। ছবির ফ্রেমে বাধা পরে গেছি অনন্ত কালের জন্য। এই আমিটা অনেক নির্জীব। আগে তো আমার চোখে অনন্ত কাল তাকিয়ে থাকতে…এখন থাক না কেন? আমি কি খুব বেশি একঘেয়ে হয়ে গেছি? কিন্তু কি করব বল? এই চার কোনা ফ্রেমটা আমাকে বেধে রেখেছে চতুর্দিক থেকে। আচ্ছা তুমি চাইলে আমাকে এই জীবনটা থেকে মুক্তি দিতে পারতে না? আমার না অনেক দুস্টামি করতে ইচ্ছা করে…। তোমার বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমাতে ইচ্ছা করে। আমি এই শুধু একটা মাত্র মুহুর্তে বাধা পরে থাকার জীবন টা থেকে মুক্তি চাই। পারবে দিতে? জানি। উত্তরটা তোমার জানা আছে। আর সেটা আমার না জানলেও চলবে…

৭৫৫ বার দেখা হয়েছে

১২ টি মন্তব্য : “স্থবির জড়তা”

মওন্তব্য করুন : মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।