ছবি ব্লগ – জল্লাদখানা বধ্যভূমি, মিরপুর

১৯৭১ সালে গণহত্যার মহোৎসবে মেতে ওঠা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনি, তাদের দোসর বিহারীরা এবং কুখ্যাত এ দেশীয় দোসর রাজাকারদের নৃশংসতার ছাপ ছড়িয়ে আছে আমাদের সারাদেশ জুড়েই। সেইসময়কার মিরপুর বিহারী অধ্যুষিত এবং কিছুটা নির্জন এলাকা হওয়ার সুবাদে এখানে ব্যাপক হারে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে সেই সময়ের জল্লাদরা। মিরপুরেরই একগাদা বধ্যভূমির একটি এই জল্লাদখানা বধ্যভূমি। ৭১ এ ওয়াসার পরিত্যক্ত একটি পাম্প হাউসে এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় যার দুটি কূপের একটিতে খন্ডিত মস্তক এবং অন্যটিতে বাকি দেহাংশ ফেলা হত। ১৯৯৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যেগে এর অন্যতম ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনির একট ইউনিটের সহযোগিতায় এর খনন কাজ শুরু করেন।

তখনকার খননকার্যে পরিত্যক্ত পাম্প হাউসটির কূপ থেকে ৭০টি মনুষ্যখুলি এবং ৫৩৯২টি বিভিন্ন হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে সববয়সী নারী-পুরুষেরই দেহাংশ ছিলো। এছাড়াও ঐ সময়টাতে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তাদের অনেকের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য্য জিনিসপত্রও পাওয়া যায় কূপদুটোতে।

যাহোক, জল্লাদখানা সহ আরো বধ্যভূমিগুলো নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে। আজ শুধু কিছু ছবি সবার সাথে শেয়ার করছি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যেগে জল্লাদখানা বধ্যভূমিটির পাম্প হাউস এবং এর পুরো স্থাপনাটি নতুন করে একটি স্মৃতি ম্যুরাল সহ তৈরি করা হয় স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইনের পরিকল্পনায়। এটির অবস্থান মিরপুর ১০ নম্বর সেক্টরের ঝুট পল্লীর শেষে। বেনারশী পল্লীর রাস্তা যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে ঠিক সেখানটাতেই।


১. প্রবেশ পথের সিড়ি

২. প্রবেশের পর সিড়ি থেকে

৩. ঢুকার পরপরই যেদিকে যেতে হয়

৪. প্রদক্ষিণ পথ

৫. রফিকুন্নবী এবং মুনিরুজ্জামান কর্তৃক নির্মিত ম্যুরাল ‘জীবন অবিনশ্বর’

৬. দুঃখবৃত্ত শোভিত কূপের ঘরটিতে ঢুকার আগের রূপক ঘন্টা

৭. পাম্প হাউসের কূপ

৮. কূপের ভেতর

৯. দেয়ালে অংকিত বিভিন্ন সময়ে বিশ্বে সংগঠিত সব গণহত্যার তথ্য

১০. দেশের বিভিন্ন বধ্যভূমি থেকে সংগৃহিত মাটি

১১. ত্রিকোণাকৃতি মধ্যবর্তী সবুজ উঠোন

১২. বিভিন্ন কোণ থেকে তোলা পুরো প্লাজা

১৩.বিভিন্ন কোণ থেকে তোলা পুরো প্লাজা


১৪.বিভিন্ন কোণ থেকে তোলা পুরো প্লাজা

আজ শুধু কয়েকটি ছবি দিলাম। জল্লাদখানা বধ্যভূমিটি নিয়ে বিস্তারিত পরবর্তী পোস্টে দেয়ার আশা করছি।
সকল শহীদকে স্মরণ করছি এই মুহুর্তে।

৫,৪৯৬ বার দেখা হয়েছে

৪২ টি মন্তব্য : “ছবি ব্লগ – জল্লাদখানা বধ্যভূমি, মিরপুর”

  1. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    চমৎকার সব ছবি :boss: :boss: :boss:
    আপনারে :salute: :salute: :salute:
    ইয়েস আমি ফার্স্ট। :guitar: :guitar: :guitar:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  2. জিহাদ (৯৯-০৫)

    সত্যি বলতে কি, ছবি গুলো দেখে এক অর্থে আমার মোটেও ভাল লাগেনি। এই সব সাদাকালো স্মৃতিগুলো আমাদের জাতিকে যদি কোনদিন বয়ে না বেড়াতে হত তাহলেই সবচে খুশি হতাম।

    ছবিগুলোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি ফেসবুকে শেয়ার করে দিলাম।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
    • কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

      ওখানে গেলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়রে। দর্শনার্থীদের মন্তব্য বইয়ের একটি মন্তব্যের ঘটনা চিন্তা করলে এখনো চোখে পানি চলে আসে। আমি সেই মন্তব্যটাই তুলে দিচ্ছি।

      জল্লাদখানা বধ্যভূমির সাথে আমি পরিচিত অনেক আগে থেকেই। শিশুকাল থেকেই এর ঘাস ও মাটির সাথে ছিল অনেক চেনা স্মৃতি। খুব সম্ভব ১৯৮৮ সালের দিকে এখানে লোকালয় বলতে কিছুই ছিল না। বর্তমানে এর পাশে যে সোয়েটার গার্মেন্টস অবস্থিত তাও ছিল না। দিন ও রাত সব সময় এখানে শূন্যতা বিরাজ করত। মনে পড়ে সেই শৈশব স্মৃতি যখন এখানে এক বুড়ি বাস করত। বর্তমানে যে দুটি কূপ পুরু বর্গাকার গ্লাস দিযে ঢাকা সেখানে তিনি মানে ওই বুড়ি কূপ দুটির উপরে মোটা কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে তার উপর কোরআন শরীফ রাখতেন। তখন যদি একমাত্র এই বধ্যভূমিতে কারো আসার সাহস থাকত সে ছিল একমাত্র তিনিই। শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে যাঁর লালনে এই বধ্যভূমি কিছুটা হলেও সুরক্ষিত ছিল। এখন যতদূর জানি তিনি পরপারে চলে গেছেন। খোদা তার আত্মার পরম প্রশান্তি দান করুক এই দোয়া করি।


      সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

      জবাব দিন
    • কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

      লাবলু ভাই, অনেক ধন্যবাদ ভাই।

      যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবো না।

      এবার এই প্রচারণাটি অন্যান্যবারের চেয়ে বেশিই হচ্ছে। দেখা যাক আমরা নিজেরা কতটা শুধরে এই অমানুষগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে যেতে পারি।


      সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

      জবাব দিন
  3. আহ্সান (৮৮-৯৪)

    আমরা কি একবারও ভাবি যে এই একই পরিণত হতে পারত আমার পরিবারের কারো সাথেও...
    পরিজন হারানোর ব্যথা কি এত সহজেই ভূলে যেতাম আমি বা আমরা?
    পৃথিবীর সব ধন-দৌলত দিলেও কি তার ক্ষতিপূরণ পোষানোর মত?
    তাহলে কেন আমরা সেইসব জানোয়ারগুলোকে এখনো বাঁচিয়ে রাখি? নিয়ে যাই ক্ষমতার মসনদে??

    ...উত্তর খুঁজে পাইনা

    ফৌজি (কাইউম),
    অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া ছবিগুলো শেয়ার করার জন্য।

    জবাব দিন
    • কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

      আহসান ভাই, বস্ অনেক ধন্যবাদ।
      এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ইনশাল্লাহ আমরাই খুঁজে বের করবো। একটু সময় হয়তো লেগে যাবে, কিন্তু হবেই।

      পরিজন হারানোর ব্যথা কি এত সহজেই ভূলে যেতাম আমি বা আমরা?
      পৃথিবীর সব ধন-দৌলত দিলেও কি তার ক্ষতিপূরণ পোষানোর মত?

      আসলেই এখন এর উত্তর নেই 🙁


      সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

      জবাব দিন
  4. মূল লেখা কই? কই কই কই?

    আপনার এই লেখাটার লিংক পেস্ট করার পর সচলের একজন খুব আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন জায়গাটা দেখতে যাবেন বলে। আজকে গিয়ে ছবি তুলেছেন।

    //photos-e.ll.facebook.com/photos-ll-snc1/v1948/15/72/1019208663/n1019208663_253668_5175.jpg

    জবাব দিন
  5. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    লেখাটা খুব ভাল লাগলো।
    ইতিহাস জানা দরকার- আমাদের নইলে বর্তমান এর উপর ভিত করে ভবিষ্যত গড়া কখনোই সম্ভব হবে না।

    ছবি গুলোও সুন্দর হইছে।
    প্রিয় তে নিলাম।


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : ফৌজিয়ান

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।