কেন ‘দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প’ লেখলাম

dushtu22
বাইরে থেকে ক্যাডেট কলেজগুলোকে অনেকের কাছে স্বপ্নপুরী মনে হয়। ওখানে বাচ্চারা খুব ভাল থাকে। আবার কেউ-কেউ মনে করেন ইট-পাথরের দালানের মধ্যে কিছু রুক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর বসবাস। আসলে এই কলেজগুলোতে যারা বেড়ে ওঠে তাদের তৈরী করা হয় সশশ্রবাহিনীর উপযুক্ত করে। তিনশো-ষাঠ ডিগ্রি শিক্ষায় তাদের গড়ে তোলা হয়। সবাই হয়তো সশশ্রবাহিনীতে যোগ দেয় না, তবে তিনশো-ষাঠ ডিগ্রি শিক্ষা লাভ করে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরে। এই ইট-পাথরের রুক্ষ দালান-কোঠাই এই ক্যাডেটদের কাছে স্বপ্নপুরী হয়ে যায়, যা তারা সারা জীবনেও ভুলতে পারে না। বার-বার ফিরে যেতে চাই তাদের কলেজে। এই মানসিকতা তাদের ভেতর কেন জন্ম নেয় তা কিছুটা আঁচ করা যাবে এক দুষ্টু ক্যাডেটটির এই গল্প পড়ে।

ক্যাডেট কলেজে পড়াকালীন অনেকেই আমাদের বেশ ক’জনকে খারাপ ক্যাডেট বলেই জানতো। স্যার’রা, সিনিয়র ভাইরা, এমন’কি আমার বন্ধুরাও। একটা বারো বছরের ছেলে কি করে ‘খারাপ’ হতে পারে তা আমি এখন’ও বুঝি না। তারা দুষ্টু হতে পারে, কিন্তু খারাপ কি? সেই ছেলেদের নিয়ে একটা উপন্যাস লিখেছি। “এক খারাপ ক্যাডেটের গল্প” নাম না দিয়ে, নাম দিয়েছি “এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প”।

ক্যাডেট কলেজের সুখের স্মৃতির কোনো তুলনা হয় না। লাখ লাখ আনন্দঘন মুহূর্ত কাটে ক্যাডেটদের। এরই সঙ্গে বেদনার স্মৃতিও আছে। তবে সুখের স্মৃতির প্রভাব এতটাই প্রবল যে বিমর্ষ সময়ের কথা তারা ভুলে যায় অথবা তা নিয়ে কোনো কথা বলে না। এই উপন্যাসটিতে কিছু সে রকম ঘটনার সন্নিবেশ। এ গল্পে যে ঘটনাগুলোর উল্লেখ আছে। যে চরিত্রগুলো ঘটনাগুলোকে টেনে নিয়ে যায়, তারাও সত্য। শুধু সত্য নয় তাদের নামগুলো। তবে গল্পের খাতিরে একটি ঘটনার বা ঘটনার কিছু অংশ আরেকটি ঘটনায় বা ঘটনার কিছু অংশে সন্নিবেশ করা হয়েছে।

এ গল্পের প্রধান চরিত্র জনৈক কোনো ক্যাডেট নয়, প্রতিটা ক্যাডেট এটির প্রধান চরিত্র। একজন বালক শারীরিক প্রতিকূলতা, মানসিক পতন আর পারস্পরিক বৈরিতা অতিক্রম করে কিভাবে একজন সোনার মানুষ হয়ে ওঠে, এটি তারই গল্প। নিজেকে আবিষ্কার করে একজন আরেকজনের বন্ধু হিসেবে। বন্ধু হয় ভাইয়ের চেয়েও আপন। হয়তো সারা জীবনের জন্য।

এ গল্প বন্ধুত্বের বিজয়ের গল্প।

স্মৃতিচারন করতে চাইনি। আমরা ক্যাডেটরা উঠতে-বসতে-খেতে সারাক্ষনই স্মৃতিচারন করছি। কলেজে থাকতে আমার মনে হয়েছে আমাদের কলেজগুলোর বেশ কিছু রীতি-নীতি’র পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে। অনেক ঘটনা সেখানে ঘটে যা ক্যাডেট হিসেবেও পুরোপুরি মেনে নিতে আমি পারিনি; এখনো পারি না। তাই ঠিক করেছিলাম স্মৃতিচারন করবো না; একটা উপন্যাস লিখবো। সেই ছিন্তা থেকেই আমার এ’বই লেখা।

পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলায় অন্নেষা প্রকাশনের স্টলে। এবং মূল্য ধরা হয়েছে ১৬০ টাকা। তবে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাচ্ছে ১২০ টাকায়। প্রচ্ছদ করেছেন সোহেল আমান।

উপন্যাসটি পড়ে মতামত জানালে খুশি হব। আমি আমার ভাষা এবং চরিত্র চিত্রায়ন নিয়ে জানতে চাই।

৫,০৬৫ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “কেন ‘দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প’ লেখলাম”

  1. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    ইকরাম ভাইকে অভিনন্দন বইটার জন্য। :clap:

    আমার আমাকেও (এই ব্লগে প্রথম হওয়ার জন্য) :grr:


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  2. একদুষ্টু ক্যাডেটের গল্প বইটি ক্যাডেট জীবন নিয়ে লেখা অন্যতম সেরা একটি বই। শাহাদুজ্জামানের "খাকি চত্বরের খোয়ারি" শাকুর মজিদের "ক্লাস সেভেন ১৯৭৮" এর পর এই বইটি সব থেকে বেশি ভাল লেগেছে।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : Kafi

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।