জায়গার নাম বিবিসি বাজার। তাই বলে জায়গাটা কিন্তু লন্ডনে নয়। এমনকি সেখানে কোন বেতার কেন্দ্র কিংবা বেতার উপকেন্দ্রও নেই। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ আর সেই যুদ্ধে বৃটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি)-এর গৌরবময় স্মৃতি ধারণ করে ধন্য আজকের বিবিসি বাজার। ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপূর বাজারের নাম হয়েছে বিবিসি বাজার। এই বাজারের নেপথ্য নায়কের নাম আবুল কাশেম মোল্লা।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রূপপুর এলাকাটি বেশ জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। এর সন্নিহিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং পাকশী পেপার মিল- দুটোই ছিল পাকবাহিনীর বিশাল বহরে সজ্জিত।ঘন গাছগাছালিতে আচ্ছাদিত অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থান রংপুর কড়ই তলায় গ্রামের যুবক আবুল কাসেম মোল্লা এপ্রিল(১৯৭১) মাসের প্রথম দিকে একটি চায়ের দোকান দেন।
জঞ্জাল থেকে কুড়ানো…
বাসার বুকশেলফের নিচের তাকটায় পুরাতন জিনিসপত্রের জঞ্জাল বেড়ে যাওয়ায় পরিষ্কার করার অভিযানে নেমেছিল বউ। আমি ভাদাইম্মা মানুষ, আমারে দিয়ে ওইসব হয় না। তবে পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে দেখছিলাম কি করা হচ্ছে। অনেকদিন আগের একটা স্ক্র্যাপবুক পেলাম, আর একটা ত্রৈমাসিক কলেজ ম্যাগাজিন। সাদা-কালোতে ছাপা। খুলে একটু স্মৃতিকাতর হয়ে গেলাম। সেই স্মৃতিকাতরতায় আপনাদের সামিল করতে আমার নিবেদন-
এখানে-ওখানে
-ক্যাডেট ওমর/১৮৩৫
(কবিতাটা আমার লেখা না,
বন্ধু – এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প
কঠিনেরে ভালবাসিলাম
ইস্পাত-মোড়ানো বেতের লাঠির শপাং শপাং শব্দ হচ্ছে। শব্দের শেষ প্রান্তে আঘাতের থপ্ থপ্ আওয়াজ। আঘাতগুলো পড়ছে ইমুর গায়ে। হাতে, কাঁধে, কোমরে, কোমরের নিচে, পিঠে, নখে। প্রতিটা আঘাতের সঙ্গে ইমু কেঁপে উঠছে, কিন্তু ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার চেহারা দেখে আঘাতের তীব্রতা বোঝার উপায় নেই। প্রিন্সিপাল নিজেই মারছেন। আমরা বাকি একান্ন জন যারা এ দৃশ্য দেখছি আর রাগী মন নিয়ে আঘাতের শব্দ শুনছি,
বিস্তারিত»আরো একবার
আরো একবার ফিরে আসবো লোকালয়ে
যখন দুঃখ দুঃখকে ছোঁবেনা,
সুখ সুখকে
মাথার ওপর আকাশ থাকবেনা,
পায়ের নীচে শিশির
গোধুলী শেষে গোকুল ফিরবেনা,
থাকবেনা চুলোর ওপর কলমিলতার গন্ধ।
আরো একবার ফিরে আসবো তোমাদের কপাটে
যখন যুদ্ধ ফেরত স্বপ্নেরা
ডানা মেলবেনা,
শহীদের ভালবাসার ফুল কাঁদবে
শুধু’ই এক বীরাঙ্গনার হাতে,
তাকে বাঁচাতে তোমাদের ছেলেরা
আর কখোনো যুদ্ধে যাবেনা।
সুঁই
“ক্যাডেট সব পারে” পর্বে আমাদের বন্ধু X কে নিয়ে লিখেছিলাম। আর এবার লিখছি ওর রুমমেটকে নিয়ে। ওর রুমমেট ছিল সাদাত আর রাশেদ। এবারের ঘটনাটা রাশেদকে নিয়ে লিখা। সময়টা মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই। পরীক্ষা তখন দরজায় কড়া নাড়ছে। সবার দৃষ্টি তখন টেষ্ট পেপারের পাতলা নিউজপ্রিন্ট কাগজেই বেশিরভাগ সময় আবদ্ধ থাকে। আমরা তখন সাদা পোষাক পরিহিত দল। যা হোক, যতদূর মনে পড়ে তখন আমরা সন্ধ্যার পর হাউসে পড়াশুনা করতাম।
বিস্তারিত»শ্যাল উই ডান্স?
আলোর সামনে বসে আছে জয়তী। চুল আঁচড়াচ্ছে। বুকের কাপড়টা ঘাড় থেকে পিছলে বুকের মাঝে কোনোমতে বিঁধে রয়েছে। জয়তীর বুকের ছোট ছোট সোনালী লোম আর লোমকুপগুলো দেখা যাচ্ছে। মাটিতে নতুন ঘাসের মতো। আলো পড়াতে সেগুলো আরও উজ্জ্বল লাগছে। জয়তীর নিঃশ্বাসের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে তার বুকটাও ওঠানামা করছে। সোনায় ঝলসানো লোমগুলোর দিকে শুভ অপলক তাকিয়ে আছে। চেষ্টা করেও পলক ফেলতে পারছে না-পাছে এই দৃশ্য জীবনে আর যদি ফিরে না আসে!
বিস্তারিত»সিসিবি থেকে হারিয়ে যাওয়া এক যুবরাজ
আপনারা যারা এই ব্লগের পুরাতন মেম্বার তারা অনেকেই যুবরাজ নামের একজনকে চিনেন নিশ্চয়। হ্যাঁ, আমার বন্ধু যুবরাজ (ছদ্দ নাম)। সায়েদ এবং আমার মাধ্যমে যে কিনা এই ব্লগের সদস্য হয়েছিল। তার লেখার হাত ছিল চমৎকার। ছিল বলছি এ কারনে যে, সে এখন আর সিসিবিতে লিখে না। সে কোন এক্স ক্যাডেট নয় কিন্তু ক্যাডেটদের সাথে তার প্রচন্ড মিল। আর এ কারনেই তার বেশিরভাগ বন্ধুই এক্স ক্যাডেট।
সচলে তার লেখা অনেকেরই প্রশংসা কুড়িয়েছিল,
বিস্তারিত»আমরা কি মধ্যযুগে বসবাস করছি?
প্রাচীনকালে আমরা দেখতাম রাজা-বাদশাহদের পায়ে পড়ে ক্ষমাভিক্ষা চাইতে হত-রাজা ক্ষেপেছেন মানেই তাই-দোষ হয়েছে কি হয়নি সেটা বিচার্য নয়।আজ সামহোয়ারইনব্লগে একটা ছবি দেখে(কালের কণ্ঠে প্রকাশিত) মনে হল আমরা আসলেই মধ্যযুগে বসবাস করছি-যেখানে নিজের আত্মসম্মানের কথা মুখ ফুটে বলার অপরাধে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা জাতীয় দলের অধিনায়ককে আক্ষরিক অর্থেই বোর্ড সভাপতির পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইতে হয়।যাঁরা দেখেননি তাঁদের জন্যে এই ছবি-দেখুন এবং উপলব্ধি করুন যে বাংলাদেশে যদি জন্মান তাহলে কেঁচোর মত মেরুদন্ডহীন হয়ে থাকাটাই আপনার নিয়তি।
বিস্তারিত»৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ৭ম পর্ব
আর সবার আমার এই ব্লগ পড়ে কেমন লাগছে তা জানিনা তবে আমার লিখতে খুবই ভাল লাগছে। প্রতিটি ব্লগ লিখতে বসে যখন পুরনো স্মৃ্তিগুলো লিয়ে চিন্তা করি সেই অনুভূতিটাই অন্যরকম। মনে হই এই সেদিনই কলেজে ঢুকলাম আর আজ প্রায় ১০ বছর হতে চলল। তো স্বভাবতই ক্লাস সেভেনের ক্যাডেট হিসেবে আমরা দৌড়ের উপরে থাকতাম। মোটামুটি সবাই আমাদেরকে পাঙানি দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকত। আর আমাদের শুরু হল এই পাঙানি কিভাবে বাঁচা যায় তা নিয়ে লুকোচুরি খেলা।
বিস্তারিত»দিনলিপি: প্রতিক্রীয়াশীল রাজনীতির বিষবাষ্প
বাংলাদেশ সহ পশ্চাৎপদ দেশ সমুহে একটি সাধারন বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করা যায়। গনতান্ত্রিক মানসিকতার তীব্র অভাব সেই সাধারন বৈশিষ্ঠ্য শোষিত এবং ক্ষুধায় কাতর জনতা নিজেকে রাষ্ট্রের কাঠামোতে নিজেকে গুরুত্বপূর্ন ভাবতে পারে না। তাই বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার অভাব থেকেই উৎসারিত হয় একরকম ছদ্ম গনতান্ত্রিক রাজনীতির যার কংকাল হয় স্বৈরতান্ত্রিক আর চামড়া ফ্যাসিবাদের।
বাংলাদেশে এই সংকট প্রকট আকারে দাড়িয়েছে। আমার প্রেমিকার প্রিয়দল বিএনপি কারন খালেদার শাড়ী খুব সুন্দর।
বিস্তারিত»নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকঃ পর্ব ৫ (শেষ পর্ব)
রাইন,
হ্যাঁ, ঘুমান। (বাবা-মায়ের সাথে নাশতা খাওয়ার প্ল্যান বাতিল?)
আপনাকে সারা রাত জাগিয়ে রাখলাম আজকে। অবশ্য এজন্য আমার একটুও দুঃখ লাগছে না… অপরাধবোধও না! কারণ আমি জানি আমার কাছে লিখতে আপনার ভালোই লাগলো, আমারও যেমন। না? 🙂
লর্ড অফ দ্যা রিংস আমারও খুব প্রিয় একটা মুভি। আমরা প্রত্যেকটা হলে গিয়ে দেখসি। কয়েকটা দৃশ্য আছে এতো সুন্দর।
বিস্তারিত»আমার খুব শীত লাগছে
বাংলাদেশে এখন শৈত্য প্রবাহ বইছে বলে আমার এক বন্ধু আমাকে জানিয়েছে। আমেরিকাতেও বর্তমানে চলছে শৈত্য প্রবাহ। এই মুহুর্তে ঘরের বাইরের তাপমাত্রা ফ্রিজিং পয়েন্টের নীচে। আমাদের বাড়ীর নিকটের পর্বতচূড়াগুলি সাদা তুষারাবৃত হয়ে আছে। এমনিতেই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০০ ফিট উচ্চতায় থাকি আমরা। শীতকালে ঠাণ্ডা পড়াটাই স্বাভাবিক। সেন্ট্রাল হিটিংয়ের বদৌলতে ঘরের মধ্যে শুধু একটা জামা পড়ে আছি এবং সাটেলাইট টিভিতে বাংলাদেশের চ্যানেলে উত্তর বাংলার মানুষের কষ্ট দেখছি। এমন সময় মনে পড়লো মেরীর কথা।
বিস্তারিত»শীতের আমেজে………..
এই হাড়কাঁপানো শীতের বিকেলে
গোসলটা দুই ডুবে সেরে
চাচার চায়ের দোকানের আড্ডা
উফ! কল্পনায় হিমালয়ের পাদদেশে
বসে চায়ের ভাড়ের উষ্ণতা খুঁজে পাই।
৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ৬ষ্ঠ পর্ব
আজকে লিখতে বসে বেশ অনেকখন ধরে বসে ছিলাম। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথম পাঙানি যেদিন খেলাম সেইদিনের কাহিনী বর্নণা করব। এই পাঙানি খাওয়া ছিল জীবনের একটা বড় অভিজ্ঞতা।
যাইহোক ঘটনার দিন-তারিখ মনে করতে পারছি না, কিন্তু এটুকু বলতে পারি দিনটি ছিল সোম-বৃহস্পতিবারের মধ্যের যেকোন একটি দিন। ক্লাসে ৭ম পিরিয়ডে আমাকে জানানো হল যে লাঞ্চের পর ৩০৮ নং রুমে থাকতে হবে। ভয়ে ভয়ে শেষ পিরিয়ড করলাম এবং লাঞ্চে ঠিকমত খেতে পারলাম না।
বিস্তারিত»গল্প: অন্ধকার যাপিত এই সব রাত্রি
শেষ বিকেলের ক্লান্ত রৌদ্রের চুম্বনে একটু একটু করে চোখ মেলার চেষ্টা করি। শীর্ণ গলির জীর্ণ দালান ঘেরা আমার কামরাটিতে সূর্যের আলো আসার এই একটাই সময়। উঁকি মেরে রবি সাহেবের চেহারা দেখে সময় বুঝার চেষ্টা করি। ক্লান্ত রবিবাবু তেজ কমিয়ে দিয়েছেন কিন্তু অন্ধকারের কাছে আত্মসমর্পণের আগে যে রাঙা হয়ে যান তার আভাস মেলেনি এখনও। মটকা মেরে পড়ে থাকার চেষ্টা করি ঘাড় ঘুরিয়ে। তারপরে বসে গাঢ় করে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করি।
বিস্তারিত»