১৭ই এপ্রিল, ১৯৮৭ (ফকক)

২৮ বছর অনেক সময়, কিন্তু মনে হচ্ছে এইতো সেদিন। প্রায় ১২ বছর বয়সী একদল কিশোরের যাত্রা শুরু ক্যাডেট কলেজ জীবনের। দিনটা ছিল ১৭ই এপ্রিল, ১৯৮৭ আজ থেকে ঠিক ২৮ বছর আগের একদিন। আমিও ছিলাম তাদের একজন। আমার মেঝ ভাই আমার প্রায় ৬ বছর বড়। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ আমাদের চট্টগ্রামের বাসা থেকে ৭ মাইলের মত দুরে। ১৯৮১ সালে আব্বা বললেন, ভাইয়াকে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াবেন। ভাইয়া বেশ ভাল ছাত্র ছিল, টিকে গেল। মাত্র ১১/১২ বছর বয়সে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেল এই আধা সামরিক বোর্ডিং স্কুলটাতে। ভাইয়া যখন ছুটিতে বাড়ি ফিরত, ক্যাডেট কলেজের দারুন সব গল্প করত। আমি আর আমার পরিবার মুগ্ধ হয়ে সে গল্প শুনতাম। আমার বয়স খুব কম ছিল কিন্তু অল্প সময়ে ক্যাডেট কলেজ আমার মাঝে একটা ফ্যান্টাসী তৈরী করেছিল। প্রতি মাসে বা প্রতি দুমাসে একটা “প্যারেন্টস ডে” হত, ওইদিন তিন চার ঘন্টার জন্য বাবা-মা তাদের সন্তানদের সাথে ক্যাডেট কলেজে গিয়ে দেখা করতে পারত। আমাদের গাড়ি ছিল না, প্যারেন্টসডে তে যাওয়া ছিল ভীষন ঝক্কির। খুব সকালে টেক্সী অনেক সময় অত দুরে যেতে চাইতো না অথবা ভাড়া চাইত অনেক বেশি, বাসেই যেত হত বেশির ভাগ সময়। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে বাস পাওয়া যেত, তবে সবচেয়ে ঝামেলা হত প্যারেন্টস ডে শেষে ফিরে আসতে। ক্যাডেট কলেজগুলো সাধারনত শহর থেকে বেশ দুরে অবস্থিত হয়। তাই বাস, টেক্সী পাওয়া বেশ কষ্ট ছিল। আমি অনেক ছোট ছিলাম, আমার খুব কষ্ট হত। তাই আমার খুব অপছন্দের ছিল এই প্যারেন্টস ডে তে যাওয়া আসার ব্যাপারটা। প্যারেন্টস ডের দিনে আমার মা সেই ভোর রাত থেকে রকমারী খাবার রান্না করতো ভাইয়ের জন্য। আমার ক্যাডেট কলেজের ছয় বছরেও মা এই কাজ করে গেছেন। প্যারেন্টসডেতে আমি ক্যাডেট কলেজকে কাছ থেকে দেখতাম, স্বপ্ন দেখতাম একদিন আমিও এখানকার ছাত্র হব। ভাইয়া যা যা করেছে সেরকম একটা জীবন হবে আমারও।

হিন্দি ছবির নায়ক/নায়িকার সন্তান যেমন জানে তার গন্তব্য একটাই সেটা হচ্ছে নায়ক নায়িকা হওয়া, তেমন স্কুল শিক্ষক বাবার সন্তান আমার একটাই লক্ষ্য ছিল পড়াশুনা করে মানুষ হওয়া। বাবা আমাদের মধ্যে এই জিনিস ঢুকিয়ে দিয়েছেন। সেই গন্তব্যের জন্য প্রথম সোপান হচ্ছে ক্যাডেট কলেজের ছাত্র হওয়া। যখন ষষ্ট শ্রেনী শেষ হল, আমি শুরু করে দিলাম ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। বাবার কাছে পড়ি খুব মন দিয়ে, লক্ষ্য পূরন করতে হবে। লিখিত ভর্তি পরীক্ষা হল খুবই ভালো, এত প্রস্তুতির পর খারাপ হওয়ার কথা না এবং লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে গেলাম। ভাইভা নিয়ে ভালোই টেনশন ছিল, কথা তো ভাল বলতে পারি না। আমি খানিকটা লাজুক ছিলাম, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার অভ্যাস ছিল, সপ্রতিভ ছিলাম না মোটেও আর ছিলাম বেশ ভীতু। ভাইভা আর মেডিক্যালে ধরা খাওয়ার সম্ভবনা ছিল। মেডিক্যাল পরীক্ষায় যথেষ্ট বিব্রত হওয়ার সুযোগ থাকে, বিস্তারিত বিবরনে গেলাম না, শুধু শুরুটা বলি। আমাদের গ্রুপে ২০-২৫ জনের মেডিক্যাল পরীক্ষা হবে। সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে প্রথমে মেডিক্যাল এসিসট্যান্ট বললেন, এই সবাই কাপড় খুলে আন্ডারওয়্যার পরে ওয়েট কর। ঘন্টা দেড়েক ওই কাপড়ে অপেক্ষা করার পরে আমার ডাক আসল, যাই হোক এখানেই থামি। ভাইভাতে পাশ করা মানে ক্যাডেট কলেজে সুযোগ পাওয়া, সে সময়ে ভর্তির ফলাফল পত্রিকাতে দেওয়া হত। যেদিন ফলাফল আসল সেদিন আমরা চট্রগ্রাম সরকারী স্কুলের সপ্তম শ্রেনীর ক্লাশ করছি। পত্রিকার ফলাফল আসল দুপুর বেলা, আমাদের স্কুল থেকে আমরা তিনজন সুযোগ পেয়েছি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে – আমি, সানাউল্লাহ আর সবুজ। আর সামির সুযোগ পেয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজে। সবুজের আনন্দ দেখার মত ছিল, স্কুলের মাঠের মধ্যে পেপার হাতে চিৎকার করে আনন্দে বিহবল হয়ে দৌড়াচ্ছে আর পেছনে আমাদের ক্লাশের বাকী সবাই আনন্দে দৌড়াচ্ছে।

কলেজ থেকে চিঠি আসল কিছুদিনের মধ্যে, জানালো হল আমাদের কলেজ জীবন শুরু হবে ১৭ই এপ্রিল। জানলাম আমার বাৎসরিক বেতন দিতে হবে ৪৮০০ টাকা(ক্যাডেট কলেজের বেতন নির্ধারিত হয় বাবার আয় অনুসারে) কলেজের প্রথম কয়েক মাস চলার জন্য কিছু কাপড় চোপড় কিনে নিতে বলা হল। একটা ট্রাংকে করে এইসব জিনিস নিয়ে যেতে হবে। আমার মেঝ ভাই প্রথম ক্যাডেট কলেজ যাওয়ার সময় একটা ট্রাংক কিনেছিল, সাধারনত এই ট্রাংক প্রথম বার নেয়ার পরে ছেলেরা আর ব্যবহার করে না, এরপরে ছুটিতে আসার সময় সাধারন ব্যাগে করে জিনিসপত্র নিয়ে আসে আর ট্রাংক রেখে দেয় হলের ষ্টোর রুমে (এই ট্রাংক বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হত, যেমন চুরি করে আনা কাঠাল রাখা হত)। ভাইয়া তখনো ক্যাডেট কলেজে, এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ব্যাচ (আমি যখন ঢুকলাম কলেজে তার কিছুদিন পরে ও পাশ করে বের হয়)। তার ট্টাংক আনা হল, ট্রাংকে ভাইয়ার ক্যাডেট নাম আর নাম্বার মুছে আমার নাম আর নাম্বার বসানো হল। যে আমি এত ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার জন্য উতলা ছিলাম, তার হঠাৎ মন খারাপ লাগা শুরু হল। মা-বাবা, ভাই বোন ছাড়া থাকতে হবে এই চিন্তা মাথায় এসে ভর করল। মাঝে মাঝে মনে হল, কেন যে ভর্তি পরীক্ষা খারাপ দিলাম না। তাহলে তো আর মাকে ছাড়া থাকতে হত না। বলাবাহুল্য ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার পরে আমার প্রায় ছয় সাত মাস লেগেছিল ঠিক হতে। খালি কান্না পেত, মায়ের কথা মনে হত, বাবার জন্য খারাপ লাগত, ভাই বোনের জন্য খারাপ লাগত। কলেজের ছুটি শেষে বাসা থেকে কলেজে ফিরে আসতে ইচ্ছে করতো না। তাও আমাকে জোর করেই পাঠানো হত, আমার বাবা একবার নরম হয়ে গিয়েছিলেন এবং আমাকে ক্যাডেট কলেজ থেকে চিরতরে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। আমার মেঝ ভাইয়ের কারনে বোধ করি তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ভাগ্যিস করেছিলেন, নাহলে আমি স্বর্নালী ছয়টা বছর পেতাম না, বন্ধুত্ব আর ভাতৃত্বের এমন চমৎকার অভিজ্ঞতা পেতাম না।

প্রথম দিন যখন পৌছলাম আমাকে আমার গাইড অভ্যর্থনা জানাল। সপ্তম শ্রেনীর ক্যাডেটের গাইড হচ্ছে অষ্টম শ্রেনীর ক্যাডেট। আমার গাইডের নাম হচ্ছে জিয়া ভাই, নাম শুনে বেশ মজা পেলাম। কারন আমার মেঝ ভাইয়ের নাম ও জিয়া। জিয়া ভাই আমাকে আমার দুইতলা রুমে নিয়ে যাচ্ছে আমার বাবা মা ভাই বোন সহ আর আমি ঘুরে ফিরে আমার ফজলুল হক হাউসের (অদ্ভুত ব্যাপার, আমার বুয়েটের হল ছিল শেরে বাংলা) নিচের তলার রুমগুলোর ভেতরটা দেখছিলাম বাহির থেকে। উনি হঠাৎ বললেন, কোন রুমের ভেতরে দেখবে না। আমি বললাম, কেন দেখব না। উনি বললেন, এটাই নিয়ম, সিনিয়রদের রুমের ভেতরে তাকানো যায় না। এই শুরু হয়ে গেল নিয়ম, ডাইনিং টেবিলে হাত রাখা যাবে না, (টেবিলে হাত না রেখে চামচ দিয়ে খাওয়া শিখতে হয়েছিল) কোন সিনিয়র ডাকলে এটেনশন পজিশনে কথা বলতে হবে। ক্লাশ টেন থেকে উপরের দিকে সব ভাইকে দেখলে সালাম দিতে হবে, এটা করা যাবে না, ওইটা করা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। সব জায়গায় কিছু নিয়ম থাকে, এইখানের নিয়ম হচ্ছে এগুলো। বাহির থেকে শুনে অদ্ভুত মনে হতে পারে কিন্তু নিয়মের মধ্যে একবার ঢুকে গেলে আর অস্বাভাবিক লাগে না। কিছুক্ষন পরে বাবা মা আমাকে রেখে চলে গেল, আমার ক্যাডেট কলেজ জীবন শুরু হল। আমার হলে আমাদের ব্যাচের ১২ জনের সাথে পরিচয় হল, কিছুক্ষনের মধ্যে বেশ কিছু নতুন নিয়ম কানুন রপ্ত করে ফেললাম। শার্ট-প্যান্ট আর টাই পরে রাতের খাবারের জন্য ডাইনিং টেবিলের দিকে রওনা দিলাম। ডাইনিং হলে অন্য হলের নতুন মুরগিদের দেখতে পেলাম, তখনো জানি না এরাই হবে আমার বাকি জীবনের বন্ধু। কাঁটাচামচ, চামচ আর ছুরি দিয়ে তো খাই নি কখনো, আমার হাউস ক্যাপ্টেন (আমরা বলতাম হাউস প্রিফেক্ট) আমাদের দেখিয়ে দিলেন কিভাবে খেতে হয় (মোটামুটি কষ্ট করে কিছুদিনের মধ্যে এই বিদ্যা আয়ত্ত করেছিলাম)। ক্যাডেট কলেজে গাইড একটা বিপদে থাকে, তার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তার অধীনস্ত নতুন সপ্তম শ্রেনীর ক্যাডেটকে কলেজের নিয়ম কানুন শিখানো, কখন কি করতে হয়, কিসের পরে কি করতে হয় তা শিখানো। এত নিয়ম যে ভুল করার সম্ভবনা থাকে, ধরা যাক আমি ভুল করলাম কোন কিছুতে এবং দশম শ্রেনীর কোন বড় ভাই দেখল সেটা। উনি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার গাইড কে? আর কিছু না। এর কিছুক্ষন পরে দেখি জিয়া ভাই ফ্রন্ট রোল দিচ্ছে আর বিভিন্ন পানিশম্যান্ট খাচ্ছে। একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, কোন বড় ভাই পানিশম্যান্ট খেলে দেখা একেবারে নিষিদ্ধ। আমার দোষে গাইড বেচারা পানিশম্যান্ট খাবে আর সে পরে এসে আমার উপর ঝাল ঝাড়বে না তা তো হয় না। তাই নিয়ম শিখতে বেশি সময় লাগে নি।

ক্যাডেট কলেজে বাবা মা থাকে না, ভাই বোন থাকে না, শুধু থাকে বন্ধু, বড় অথবা ছোট ভাই আর শিক্ষকরা। তাই এরাই আমাদের পরিবার। এক পরিবারে শাসন থাকে আর ভালোবাসাও থাকে। বাহিরের মানুষের কাছে ক্যাডেট কলেজের শাসনের গল্প বেশি যায়, ভালবাসার গল্প খুব একটা যায় না। যে সিনিয়র ভাই আমাদের অনেক পানিশম্যান্ট দিয়েছেন, তিনিই যেদিন চলে গেলেন কান্নাকাটি করে তিনি আর আমরা একাকার। কলেজের সবচেয়ে সহায় হচ্ছে বন্ধুরা, এদের প্রধান কাজ হচ্ছে নিজেদের মধ্যে হাসিঠাট্টা করা, দুষ্ট বুদ্ধি বের করা আর নিক নেম দেয়া। আরেকটা কাজ এরা দারুন আগ্রহের সাথে করে, বিপদে বন্ধুর সাহায্যে ঝাপিয়ে পড়া। আমার বন্ধুদের গল্প লিখব আরেকদিন। প্রত্যেকের এত গল্প যে শেষ করা কঠিন। দুই একজনের গল্প বলি। ক্যাডেট কলেজে সাধারনত উপজাতীয়দের একটা কোটা থাকে। আমাদের ব্যাচে যে ছেলে আসলো সে কোটার ভিত্তিতে আসে নাই এটা আমি নিশ্চিত। কারন ক্যাডেট কলেজের ইতিহাসে এত ভাল চাকমা ছেলে এসেছে কিনা সন্দেহ আছে। এস এস সি আর এইচ এস সি তে ডাবল স্ট্যান্ড, কলেজ দাবায় বছরের পর বছর চ্যাম্পিয়ান, খেলাধুলায় দুর্দান্ত এই ছেলের নাম জুনান। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে ও বাংলায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেত, ব্যাটা আমাদের জন্য কিছুই রাখলি না। দারুন হাসিখুশি একজন ছিল আমাদের এক বন্ধু নাম না হয় নাই বললাম। ক্যাডেট কলেজ শেষ করে যখন বের হলাম তখন ওর সব মিলিয়ে একশোটা নিক নেম। যে কোন কিছুতেই তার একটা নিকনেম দেয়া আমাদের নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। আরেকজন বন্ধু ছিল আমাদের যে প্রতিবার ছুটি থেকে এসে দুর্দান্ত সব গল্প বলত। সবই ছিল ওর মামাদের গল্প, মোটামুটি মাসুদ রানাকেও হার বানায় এমন সব দুঃসাহসিক গল্প। বানিয়ে বানিয়ে সব গল্প এমনভাবে বলত মনে হত সত্যি।
ক্যাডেট কলেজের কাছে আমার অনেক ঋন। সত্যি বলতে কি ছোটবেলা থেকে আমি খুব আদরে বড় হয়েছি, আমার ভাই বোনেরা আমাকে আগলে রাখত, আদরে মাথায় তুলে রাখত। আমার বউ বলে এ কারনে আমি বখে গেছি। একটা আপেল কাটা হয়েছে, দেখা গেল কেউ না কেউ নিজেরটা আমার জন্য রেখে দিয়েছে। আমি জুতার ফিতা বাঁধতে জানতাম না, কারন বোন বেঁধে দিত। শার্টের বোতাম ছিড়ে গেলে নাকি নিজের লাগাতে হয়, এটা প্রথম শিখলাম ক্যাডেট কলেজে। বেশি আদরের কিছু সমস্যা আছে, এত বেশি যত্ন করা হত যে, স্বাধীন ভাবে কিছু করা হত না পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলাম ভাই বোন আর বাবা মার উপর। প্রথমবারের মত স্বাধীনভাবে কিছু করতে হল কলেজে গিয়ে, আত্ননির্ভরতার প্রথম শিক্ষা বলা যেতে পারে। আর শিখলাম বন্ধুদের কাছে, বড়দের কাছে, ছোটদের কাছে, শিক্ষকদের কাছে। হরেকরকমের প্রতিভাবান এই ছেলেগুলো, এদের কাছে শেখার শেষ নেই। কারো কাছে শিখলাম জটিল সময়কে কিভাবে সামাল দিতে হয়, কারো কাছে শিখলাম কিভাবে সুন্দর করে শ্রোতার আগ্রহ ধরে রেখে গল্প উপস্থাপন করতে হয়, কারো কাছে শিখলাম ঠিক কিভাবে ভালো ছাত্র হওয়া যায়। একটা কথা বললে নিজেদের ঢোল পেটানো হয় হয়ত কিন্তু ঘটনা সত্য। আমার ক্যাডেট কলেজের বন্ধু, সমসাময়িক সময়ের বড়, ছোটভাই প্রায় সবাই বেশ ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আমার সর্বোচ্চপ্রাপ্তি হচ্ছে সারা জীবনের জন্য পাওয়া কিছু বন্ধু। ক্যাডেট কলেজের কাছে এই একটা বিষয়ের জন্য আমার ঋনের শেষ নেই। জীবন যদি কখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়, সবাই যদি অবহেলাও করে, ভীষন বিষন্নতায় যদি আক্রান্ত হই তাও জানি তোরা আছিস। ফিরে যাওয়ার একটা জায়গা আছে। বন্ধুত্বের ২৮ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন প্রিয় ফকক ৩৪তম ব্যাচ। ভালো থাকো বয়েস।

১৭ই এপ্রিল, ২০১৫

৭ টি মন্তব্য : “১৭ই এপ্রিল, ১৯৮৭ (ফকক)”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    🙂 🙂 🙂 🙂

    সিসিবিতে স্বাগতম, ভাইয়া!

    কলেজের স্মৃতিচারণ মানেই হলো নষ্টালজিয়ায় ডুবে যাওয়া; তুমি সেই কাজটি করেছো খুব যত্ন নিয়ে। ভাল লাগলো পড়তে। আমাদের সাথে থেকো, ভাইয়া। আরো অনেক গল্প শুনবার অপেক্ষায় রইলাম।

    জবাব দিন
  2. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    ভাই, সিসিবিতে আপনাকে স্বাগতম! :clap:
    আপনাদের ইনটেকের খুব কম মানুষ এই ব্লগে এসেছেন। রংপুরের ফয়েজ ভাই এক সময় নিয়মিত ছিলেন। কিন্তু উনি এখন আর আমাদের মাঝে নেই... 🙁
    না...মানে সুস্থই আছেন...কিন্তু ব্যস্ততার জন্য আর আসেন না, আর কি! O:-)

    আশা করি নিয়মিত থাকবেন। ;;)


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ব্লগে স্বাগতম ভাই, কলেজের এই স্মৃতিকথা গুল্প কখনোই পুরোনো হয় না।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  4. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    বশির,
    তোমাকে এখানে দেখে ভালো লাগছে। তোমাদের ব্যাচকে, বিশেষত আমাদের হাউজের ক'জনকে সাথে পাবার জন্যে নিজেঁকে সৌভাগ্যবান মনে করি। এমন একঝাঁক মেধাবী এবং বিনয়ী কিশোর একসাথে আর কোথায়ই বা দেখা যায় বল? সেই তোমাদেরকেই কত ফ্রন্টরোল আর পানিশমেন্ট দিয়েছি আমরা -- তাই না? অবশ্য একাডেমিকস এ তোমরা যে পরিমাণ পয়েন্ট আনতে তার জন্যে তোমাদের প্রতি আমাদের স্নেহ আর পক্ষপাতটা খুব বেশি ছিল।

    আরো লিখো প্লিজ। নিয়িমিত হলে ভালো লাগবে। ঈদের শুভেচ্ছা!

    জবাব দিন
  5. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    বশির ভাই,

    চমৎকার একট লেখা দিয়ে শুরু হওয়া আপনার 'সিসিবি জীবন' দীর্ঘ হোক।

    জীবন যদি কখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়, সবাই যদি অবহেলাও করে, ভীষন বিষন্নতায় যদি আক্রান্ত হই তাও জানি তোরা আছিস। ফিরে যাওয়ার একটা জায়গা আছে।

    ক্যাডেট কলেজ থেকে পাওয়া সবথেকে অমূল্য প্রাপ্তি এটাই।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  6. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    সিসিবিতে সুস্বাগতম!
    ৪৮ বছরের পুরনো কথা মনে করিয়ে দিলে। এসব কথা এখন উঠে আসছে আমার 'জীবনের জার্নাল' এ। পারলে একবার পড়ে দেখো।
    ক্যাডেট মাত্রই লেখাটা পড়ে নস্টালজিয়ায় ভারাক্রান্ত হবে।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।