দুটি বইমেলা ও একটি অতীত প্রেম

কালো শাড়ির অদ্ভুত কুচির ভাঁজে, উদল পেটে
একাদশীর দুষ্ট চাহনি, হাসি বাঁকা ঠোটের কোনে
দ্রুতগামী তরুণী রিক্সা ডিঙ্গিয়ে জ্যাম পার হয়ে চলে গেল
আর আমি হতভম্ব, প্রেম কণ্যার পিছে পিছে-
এগিয়ে দিতে গিয়েছি কার্জন হলের বাসে।

বইমেলা’১০ এর বিকেলটি জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেছি-

আরো একটি বইমেলা মনে খাকবে অনেকদিন
আন্তর্জাতিক বইমেলা,  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের
দুপাশে ফেস্টুনে সাজানো রাস্তার একদিকে, হঠ্যাত
মচকে গেল তোমার পা- উহ!
চমকে গেছি, কেঁপে গেছি ততক্ষণাত।কিন্তু দাড়িয়ে ছিলাম নির্বিকার,
আর তোমার অভিমানের কারণ ছিল আমার নিরবতা।

আমার বুকে পা দিয়ে হাটতে, ধূলা-মাটিতে কেন প্রিয়তমা!!

কতবার ভেবেছি পরে , ঘুমাতে পারিনি অনেক রাতে
-জানতেও চাইনি তোমার ব্যথার খবর, অজ্ঞাত কারণে-
হয়ত আমার অহংবোধ, অথবা আশংকা -আমাকে নিরব রেখেছে লায়লা,

আর ভিতরে হয়েছে তীব্র বিলাপ, পাগল প্রলাপ,

সেটা আড়ালের কথা-
তোমার অভিমানে রং দিয়েছে আমার নিরবতা।

তবে কতটা ক্ষত এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় আমাকে , তুমি জানো না

তুমি জানো না, আমি যতখানি জানি – তোমার মনের গভীরতা
শীতের দিনের মতো রুক্ষতার মাঝে তোমার ভিতরের কোমলতা
দীঘির টলটলে গভীর শান্ত মুখে অশান্ত ঝড়ের সম্ভাবনা,
তোমার একাকিত্বগুলো আর সিদ্ধান্ত নিতে না পারার যন্ত্রণা,

একটা বই আমি দুবার দেখেছি, দুটি আলাদা বই মেলায় –
উজ্জ্বল বইটি আমি হারিয়ে ফেলেছি পরে এক সোডিয়াম সন্ধ্যায়

পুরাতন রাস্তায় এখনো স্মৃতিরা আমায় থমকে দেয়-
একদা তোমার চপলতায়, অথচ কত নিরব আমি ,শান্ত পাঠক হয়ে গেছি.
.

ডন আলীম, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১০

৬৫৮ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “দুটি বইমেলা ও একটি অতীত প্রেম”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    টুকরো টুকরো এক্সপ্রেশনগুলো অনবদ্য, আলাদা আলাদা ভাবে।
    সেই টুকরোগুলো নিয়ে বিমূর্ত ছবি করতে গেলে আরো সুনিপুণতা অভ্যাস করতে হবে।
    প্রথম বাক্যটির কিছুই ঠিক বোঝা গেলোনা: কি অদ্ভুত? কালো শাড়ি, না তার আড়ালের সৌন্দর্য? এছাড়া উদরের তলদেশ বলতে অ্যানাটমিকালি কি বোঝাতে চাইলে? আমি যেটুকু বুঝলাম, তাতে তো সেটি দৃশ্যমান হবার কথা নয়! ফলে এই বাক্যটি পড়ে কল্পনায় যা আসে প্রথমেই, সেটি আমাকে স্বস্তি দেয়না, সৌন্দর্যবোধের কোন ধারণা তো নয়ই!
    আর 'প্রেম কন্যা' ব্যাপারটা কেমন যেন লাগলো।কি জানি, উত্তরাধুনিক টান দিতে চেয়েছো কি না।
    'রক্ত বিলাপ' শব্দবন্ধের মানেও বোঝা গেলো না।
    অথচ, এ লেখাটা যদি এখান থেকে শুরু হতো:

    তুমি জানো না, আমি যতখানি জানি – “তোমার মনের গভীরতা

    অসাধারণ হতো। শুধু এটুকুই একটা দারুণ কবিতা হয়ে উঠেছে।যদি উদ্ধৃতিকমা ছেড়ে দাও তাহলে আরো ভালো লাগবে।
    সবশেষের চারলাইন অনবদ্য :।
    বই হারানো, মেলায়, ঔজ্জ্বল্য, সোডিয়াম বাতি
    আর শান্ত পাঠক হয়ে যাবার এই অনুক্রম
    সত্যি চমকপ্রদ।

    আরেকটি কথা: লেখাটি যেইমাত্র মাথায় আসছে, তাকে লিখে ফেলে আরো কিছুটা সময় দেখো, তাকে জানো । সব শব্দ আর তাদের অন্যতর বিকল্পগুলো নিয়ে ক্রমাগত ভেবে চলো। তাহলে দেখবে যে ছবিটা তুমি দেখছো আর যে ছবিটা পাঠক দেখছে তার মধ্যে অল্পই ব্যবধান থাকবে।

    বানানের ব্যাপারে একটু মনোযোগী হবে প্লিজ?
    কণ্যা : কন্যা
    সোহরাওয়ার্দী
    দীঘী: দীঘি
    হঠ্যাত: হঠাৎ
    ব্যাথা : ব্যথা
    'নির্বাকতা' কি ব্যবহৃত হয়? 'নীরবতা' নয়?

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।