দিনাজপুর – শিবরামপুরের জোড়া মন্দির

উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে দিনাজপুর জেলায় দিনাজপুর রাজবংশের কীর্তিকলাপ সর্বজনবিদিত। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে প্রাচীন সভ্য জনপদ প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কালের পরিক্রমায় গড়ে উঠেছিল সে ধারাবাহিকতায় ঈতিহাসে দিনাজপুর রাজবংশের একটি আলাদা স্বকীয়তা রয়েছে। শিবরামপুর গ্রামে পাশাপাশি অবস্থিত শিব মন্দিরদ্বয় তারঈ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

জেলা সদর থেকে উত্তরমুখী যে সড়কটি দিনাজপুর – পঞ্চগড় বরাবর চলে গেছে সে রাস্তা ধরে এগোলে চেহেলগাজীর মাযার হতে প্রায় ১ কি.মি. উত্তরে গোপালগঞ্জ বাজার বলে একটি স্থান আছে। বাজারের মাংস-হাটার পাশ দিয়ে একটি রাস্তা পশ্চিমমূখী হয়ে শিবরামপুর গ্রামের দিকে চলে গেছে। এ রাস্তা বরাবর ৪০০ মিটারের মত পশ্চিম দিকে এগোলে হাতের ডানে মন্দির পাড়ায় প্রথম মন্দির ‘পঁচিশ রত্ন মন্দিরটি’র দেখা পাওয়া যাবে। অতপরঃ এ মন্দিরের দক্ষিনে প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে দ্বিতীয় মন্দির ‘পঞ্চরত্ন মন্দিরটি’র দেখা মিলবে।

শিবরামপুর গ্রামটি বেশ বড়। সম্ভবত প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য পুরো গ্রামটিকে পূর্ব শিবরামপুর ও পশ্চিম শিবরামপুর নামে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। শিব মন্দির দু’টি পশ্চিম শিবরামপুর গ্রামের অন্তর্গত। এলাকাটি সদর উপজেলার চেহেলগাজী ঈউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি গোপালগঞ্জ নামে অধিক পরিচিত হলেও সরকারি কাগজ-কলমে এ নামে কোন মৌজা নেঈ। কিভাবে এ নামের উদ্ভব হল তাও স্থানীয়রা জানেন না। ১৭৪৫ খ্রীঃ রাজা রামনাথ বৃহত্তর ভারতের প্রসিদ্ধ তীর্থস্থানগুলো দর্শনান্তে ততকালীন মোঘল সম্রাটের স্বাক্ষাতপ্রার্থী হয়ে দিল্লী গমন করেন। মোঘল সম্রাট কর্তৃক ‘মহারাজ’ উপাধি গ্রহণ করে ফিরতি পথে তিনি শ্রীবৃন্দাবনধামে গমন করলেন। রাজা ছিলেন কৃষ্ণ ভক্ত। তাঈ সেখান থেকে একটি গোপাল মূর্তি ক্রয় করে নিয়ে এসে প্রাণ গোপাল নামক গোপালজিউকে পঁচিশ রত্ন মন্দিরে অধিষ্ঠিত করেন। ধারনা করি সেখান থেকেঈ গোপালগঞ্জ নামের উতপত্তি।

মন্দির প্রাঙ্গন থেকে সংস্কৃত ভাষায় লিখিত একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যা এখন দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত। সে সূত্র ধরে জানা যায়, রাজা রামনাথ ১৭৫৪ খ্রীঃ এ মন্দিরদ্বয় নির্মাণ করেন। এরপর পঁচিশ রত্ন মন্দিরে কৃষ্ণ ও পঞ্চ রত্ন মন্দিরে রাধার বিগ্রহ স্থাপন করেন। শিলালিপির ২য় লাঈনের শেষ শব্দটি ‘রামনাথ’, ৩য় লাঈনের শেষে ‘শ্রীকৃষ্ণের চরণপদ্ম’ এবং ৪র্থ লাঈনের শেষে ‘শকাব্দ ১৬৭৬’ লেখাটি নিশ্চয় পড়তে পারছেন। আর এ থেকেঈ নির্মাণ সনটি নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে (সূত্রটি হলোঃ শকাব্দ+৭৮=খ্রীঃ অর্থাত ১৬৭৬+৭৮=১৭৫৪)।

১৮ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এ রকম সুরম্য অট্টালিকা এ অঞ্চলে নিশ্চয় খুব বেশী ছিল না। রাজবাড়ি থেকে আনুমানিক ২.৫ কিমি. সোজা দক্ষিণদিকে এবং চেহেলগাজী মাযার থেকে ১.৫ কি.মি. এর সামান্য বেশী উত্তর-পশ্চিমে মন্দিরদ্বয় অবস্থিত। বর্তমানে উভয় মন্দিরঈ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় পরিত্যাক্ত। দীর্ঘদিন যাবr এখানে আর কোন পূঁজা নিবেদন করা হয় না, তা কমপক্ষে ৮০ থেকে ১০০ বছর তো হবেঈ। উভয় মন্দিরের পশ্চিমে আনুমানিক ২৫০ মিটার দূরত্বে ‘মনসাগর’ নামে একটি প্রাচীন পুকুরও আছে।

পঁচিশরত্ন মন্দির

বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত ষোড়শ শতাব্দীর পূর্বে নির্মিত কোন মন্দিরের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়নি। বিজ্ঞজনেরা স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশের মুসলিম স্থাপত্যের প্রভাব মন্দির স্থাপত্যেও নিবিড়ভাবে পেড়েছে। এরঈ ধারাবাহিকতায় পঞ্চরত্ন, নবরত্ন, সতেররত্ন, একুশরত্ন ও পঁচিশরত্ন মন্দিরের স্থাপত্যভিত্তি রচিত হয়েছে। আলোচ্য মন্দিরটি বাংলাদেশের একটি ব্যতিক্রমধর্মী স্থাপনা এ কারণে যে, এটি বাংলাদেশের প্রথম পঁচিশরত্ন মন্দির।

তিন তলা বিশিষ্ট মন্দিরটি ভূমি থেকে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার বেদী মূলের ওপর প্রতিটি ১৩ ফুট দৈর্ঘ্যের ১২ ভূজের উপর দন্ডায়মান। প্রথম তলায় ১২টি, দ্বিতীয় তলায় ৮টি, তৃতীয় তলায় ৪টি ও শীর্ষে ১টি রত্ন/চূঁড়া ছিল। মন্দিরের মিনারগুলো অষ্টকোণাকৃতির। সুসজ্জিত মিনার ও জানালাগুলো টেরাকোটার চিত্রফলক দ্বারা অলংকৃত ছিল। বর্তমানে সবগুলো চূঁড়া ভেঙ্গে গেছে আর তাঈ দূর থেকে মন্দির অবয়বটিকে এখন একটি খাঁড়া চোঙ্গার মতো দেখায়।

মন্দিরের উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে দু’টি প্রবেশ পথ রয়েছে। দক্ষিণ প্রবেশ পথ সংলগ্ন এবং গর্ভ কক্ষকে বেষ্টনী করে উপরে ওঠার একটি ঘূর্ণায়মান সিঁড়ি রয়েছে। গর্ভ গৃহের মেঝের ঈট সমূলে আত্মস্যাত তো করা হয়েছেঈ এমনকি এর মাটি তুলে আশে পাশের বাড়ি-ঘরে লেপা/প্রলেপ দেওয়ার কাজে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। গর্ভগৃহে বাতি জ্বালানোর সুবিধার জন্য সাবিবদ্ধ কুলুঙ্গি আছে। অর্ধ গোলাকার গম্বুজের ভিতরের দিকে ফাটল ধরেছে। মন্দিরের ভিতর একটি প্রদক্ষিন পথ বা বারান্দা রয়েছে যা আজ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। লাল ঈট আর চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনীতে তৈরী বাংলাদেশের প্রথম পঁচিশরত্ন মন্দিরটির এহেন বেহাল দশা যে কোন সচেতন নাগরিককে ব্যাথিত করতে বাধ্য।

পঞ্চরত্ন মন্দির

পঁচিশরত্ন অপেক্ষা পঞ্চরত্ন মন্দিরটি আকারে খানিকটা বড়। মন্দিরটি বর্গাকার ও ৫ চূঁড়া বিশিষ্ট। এর প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৪১ ফুট। প্রথম তলার ছাদের ওপর ৪টি ও মন্দিরের মধ্যস্থলে কেন্দ্রীয় চূঁড়াটি অবস্থিত। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার বেদীমূলটি বেশ খানিকটা মাটির ভিতর ঢেবে গেছে বলে অনুমিত হয়। বেদীমূলে কুলঙ্গির ছাপ দৃষ্ট হয়। চতুর্ভূজ আকৃতির মন্দিরে প্রবেশের জন্য চার দিকে ৩টি প্রবেশ পথ আছে, পূর্বদিক ব্যতীত। প্রবেশ পথের দু’ধারে একটি করে দু’টি পথ রয়েছে যা দ্বারা মন্দির চুঁড়ায় ওঠার জন্য ঘূর্ণায়মান সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ি পথ যাতে অন্ধকারাচ্ছন্ন না থাকে সে জন্য প্রতি তলায় ১২/৬ ঈঞ্চি পরিমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জানালা রয়েছে।

গর্ভগৃহটি আনুমানিক ৬/৬ ফুট আয়তনের হবে। সুউচ্চ গর্ভগৃহটির প্রতি দেওয়ালে রাতে বাতি জ্বালাবার জন্য কুলুঙ্গি রয়েছে। পঁচিশরত্ন মন্দির অপেক্ষা পঞ্চরত্ন মন্দিরটির গঠনশৈলীতে পার্থক্য এখনো লক্ষ্য করা যায়। এর দক্ষিণ-পশ্চিাংশে বর্ধিত একটি অংশ রয়েছে এবং সেখানে প্রবেশের জন্য উভয় দিকে প্রবেশ দ্বার রয়েছে। তবে এটি যে কি কাজে ব্যবহৃত হত তা জানা যায় না। মন্দিরের  মিনারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ।

গ্রামের বৌ-ঝিরা যখন নতুন বউ হয়ে এখানে এসেছিলেন তখন তারা বহুবার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেছেন। পড়ন্ত বিকেলে কিংবা সন্ধ্যালগ্নে মন্দির-ছাদের সু-শীতল বাতাসের হিমেল পরশে প্রাণ জুড়িয়ে যাবার স্মৃতি তাদের এখনো হৃদয় নাড়া দিয়ে যায়। মন্দির প্রাঙ্গনে যে ঈদারা ছিল বলে স্থানীয়রা জানালেন তার অস্তিত্ব ঘনবসতিপূর্ণ কোন এক বাড়ির নীচেঈ হয়ত হবে। ঝোপ-ঝাড়ে আবৃত মন্দিরের মিনার ও চুঁড়াগুলো প্রতি বর্ষাকালে একটু একটু করে ধ্বসে পড়ছে।

গ্রামের এক বৃদ্ধা, কোন এক দিন সাত-সকালে মন্দিরের কাছে গিয়েছিলেন এবং যা তিনি দেখলেন তাতে তার বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে গেল। তার মনে হল, কে যে এঈ মাত্র পরিত্যাক্ত এ মন্দিরে পূঁজা সম্পন্ন করে তাকে দেখে হঠাত উধাও হয়ে যায়। কৌতুহলবশতঃ তিনি আরো কাছে গিয়ে দেখলেন পাথরের ওপর ফুল আর সিঁদুর মেখে দূর্গা প্রতিমা বসে আছে, অর্ঘ্য দানের পাত্রগুলো এমনভাবে তখনও ফুল-ফল দিয়ে সাজানো যে অবিশ্বাস হবার কোন কারনঈ তার আর থাকল না। এ মন্দির থেকে কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি পাওয়া যায় যা পরবর্তীতে পুলিশ সংগ্রহ করে থানা হেফাজতে নেয়। তবে বিষয়টির সত্যতা যাচাঈ করা সম্ভব হয়নি।

চুন-সুরকি-ঈট দ্বারা লাল রংয়ের মন্দিরদ্বয় নির্মিত। দেওয়ালে সিমেন্টের পলেস্তরা যে ছিল তার নমুনা এখনো স্পষ্ট। দীর্ঘদিন যাবঈ পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার ফলে মন্দিরদ্বয়ের ঈটসমূহ কোথাও কোথাও খসে পড়ছে। ঈট আহরনকারীদের মাধ্যমেও ঈট খুলে নিয়ে যাওয়া প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সে সব ঈট স্থানীয়রা নিজেদের বাড়ি-ঘরে ব্যবহার করছেন। উভয় মন্দিরের জমি দখল করে এর কোল ঘেঁষে এমনভাবে স্থানীয়রা নিজেদের বাড়ী নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন যে কারো সাহায্য ব্যতীরেখে আজ আর মন্দির পর্যন্ত পৌঁছানো কোন আগুন্তকের পক্ষে সম্ভব নয়। মন্দিরদ্বয় সংযোগকারী এক বা একাধিক পথ নিশ্চয় ছিল কিন্তু সে রাস্তার অস্তিত্ব কোথাও খুঁজে পেলাম না। স্থানীয়রা বললেন, রাস্তা ছিল বটে এবং মাটি খুঁড়লে ঈট বাঁন্ধানো রাস্তার দেখাও মেলে।

আয়তকার টেরাকোটার চিত্রফলক দ্বারা উভয় মন্দিরঈ অলংকৃত ছিল। টেরাকোটায় নকশা, আল্পনা ও মূর্তি দ্বারা চিত্রিত ছিল। সে সব টেরাকোটা অনেক আগেঈ সমূলে উrপাটিত হয়েছে। ঈতিপূর্বে দেশী-বিদেশীরা এখানে এসে ছোট ছোট বাচ্চাদের কাছ থেকে যা তারা খেলার ছলে কুড়িয়ে পেয়েছিল সে সব টেরাকোটার ফলক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। একটি মামুলী ছোট টুকরোর জন্য কেউ কেউ ৫০০ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন।

জনশ্রূতি বলে, রাজা নাকি এক রাতের মধ্যে মন্দির দু’টি তৈরী করেছিলেন। ১৮৯৭ খ্রীঃ ভয়াবহ ভূমিকম্পে মন্দিরদ্বয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ কথাও শোনা যায় যে, কোন এক সময় প্রথম মন্দিরটি যবন (বহিরাগত ভারতীয় বিশেষ করে মুসলমান) দ্বারা অপবিত্র হওয়ায় দ্বিতীয় মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। এটি যে কেবলঈ মন গড়া তার সত্যতা শিলালিপি পাঠে কি বোঝা যায় না?  চারিদিকের বাড়ি-ঘর মন্দিরটিকে আষ্টে-পৃষ্টে চেপে ধরেছে – শ্বাসরুদ্ধকর এক অবস্থা, দম নেবারও কোন সুযোগ নেঈ।

মনসাগর

প্রচলিত বৈশিষ্ট্যানুযায়ী সাধারনতঃ মন্দিরের আশেপাশে একটি পুকুর/দিঘী থাকে। মনসাগরও সম্ভবত মন্দিরের সম-সাময়িক এবং মন্দির উদ্দেশ্য করেঈ খনন করা। খননকালে পুকুরের আয়তন যে বর্তমানের তুলনায় বেশ বড় ছিল তা অনুমান করা যায়। নামের সাথে সাগর যুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেঈ ধারনা করা সঙ্গত যে, জলাশয়টি বেশ বড় ছিল। উত্তর-দক্ষিণে দীর্ঘ পুকুরের উত্তরপাড়ে একটি চাল-কল যে এ পুকুরের উত্তরাংশ ভরাট করে তৈরী করা হয়েছে তাও বেশ বোঝা যায়। সব বাদ দিলে, এখন পুকুরটির দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার ও প্রস্থ ৩৭ মিটার এবং প্রায় ৪ ফুট গভীর। পাড়হীন, জলশূণ্য, শ্রীহীন পুকুর পানে তাকালে কাঙ্গাল-অসহায়ের এক বাস্তব চিত্র যে কারোর মানস-চোখে ভেসে উঠবে।

পুকুরপাড়ে ভূতের থান আছে। রাত্রিবেলা ভূতের দল নাচানাচি করত। ভূতের অত্যাচারে এক বৃদ্ধা তার বাড়ির একাংশে মন্দির তৈরী করে দিতে বাধ্য হয়। মুসলমান একজন মহিলা কেন একটি হিন্দু মন্দির তৈরী করে দিতে সম্মত হলেন, জানতে চাঈলাম বর্নণাকারীদের কাছে। বৃদ্ধার মেয়েও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৃদ্ধাকে কয়েক দফা স্বপ্নাদেশ, ভয়-ভীতি, বিরক্ত-উতপাত করার পরও যখন তিনি ভূতের আদেশ পালনে বিরত থাকলেন তখন এক রাতে তিনি ভীষণ অস্বুস্থ্য হয়ে পড়লেন। জীবণ বাজি রেখে বৃদ্ধা ভূঁতের শাষানো আর উপেক্ষা করতে পারলেন না। স্থানীয়দের মাধ্যমে আরো জানতে পারলাম, রাজা-রাণী এখানে নাকি গোসল করতেন। এসব যে নিছক জনশ্রূতি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মন্দির থেকে মন সাগরে যাওয়ার রাস্তা পূর্বে থাকলেও এখন তা সাদা চোখে ঠাওর করা দুস্কর। পঁচিশরত্ন-পঞ্চরত্ন-মনসাগর নিয়ে ১৮’শ শতাব্দীতে এখানে একটি মন্দির চত্বর গড়ে উঠেছিল। রাজার পৃষ্টপোষকতা আর হাজার ভক্তের পরম শ্রদ্ধায় নিশ্চয় মন্দিরপাড়া কোলাহলমূখর হয়ে থাকত। বাংলাদেশের প্রথম পঁচিশরত্ন মন্দিরকে নিয়ে নিশ্চয় আড়াঈশ বছর আগের মানুষেরাও গর্ববোধ করতেন। দেবতাকে পূঁজার পাশাপাশি মন্দির দর্শনও নিশ্চয় কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। গৌরবময় প্রাচীন এ কীর্তি সংরক্ষণের দায়িত্ব কার… পূর্ব পুরুষদের না উত্তরসূরীদের…!!!!???

০৮ এপ্রিল ২০১৬/খোলাহাটি

 

তথ্যসূত্রঃ

১. দিনাজপুরের লোকসংস্কৃতি, এ.বি.এম. আব্দুস সাত্তার, পৃঃ ১১০/

২. আলোকচিত্রে ঈতিহাস, পৃঃ ২৬/

৩. দিনাজপুরের ঈতিহাস সমগ্র-৫, মেহরাব আলী, পৃঃ ১২৪/

৪. দিনাজপুরের ঈতিহাস, ড. মুহম্মদ মনিরুজ্জামান, পৃঃ ২৬৭-২৬৮/

৫. বাংলাদেশের মন্দির, ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসান, পৃঃ ১০২/

৬ টি মন্তব্য : “দিনাজপুর – শিবরামপুরের জোড়া মন্দির”

  1. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ব্লগে স্বাগতম ভাইয়া। আজকেই ভাবছিলাম বলবো লেখা কই? নাম আর কলেজে অবস্থানকাল বাঙলায় করে দিয়েন ভাই। এবার পড়ে মন্তব্য করি।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    কিছু ছবি যোগ করে দিয়েন ভাইয়া। লেখায় ছবি যোগ করার জন্য টিউটরিয়াল দেখুন। আপনার কিবোর্ডে ই আর ঈ এর মধ্যে প্যাচ লেগে গেছে মনে হয়। ত আর ৎ এর মধ্যেও। আমি নিজেও একসময় ঝামেলা পোহাইছি। আপনি যে সফটওয়ার ব্যবহার করেন গুগলে সেটার লে আউট সার্চ দিন। সমাধান পেয়ে যাবেন।
    প্রত্নতত্ব নিয়ে আপনার আগ্রহ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আপনার লেখালেখি জারি থাকুক। আর ভাইয়া লেখার সময় বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোযোগি হবেন আশা করি। কিছু বিষয় সেখানে আপনি পাবেন এছাড়া নতুন বিষয় যেমন ধরেন পুরাতত্ব, পঁচিশ রত্ন মন্দির, পঞ্চরত্ন মন্দির, মনসাগর ইত্যাদি যোগ করে দিতে পারেন। এতে করে কেউ এই বিষয়ে গুগলে খোঁজ করলে আপনার লেখা পেয়ে যাবে সহজে।
    আশা করছি আমার সমালোচনা ইতিবাচক ভাবে নিবেন।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  3. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    এ ধরণের প্রত্নতাত্বিক বিষয়ে কোন ক্যাডেটের লেখা এই প্রথম পড়ছি। এ বিষয়ে আগ্রহের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি। লেখাটায় উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রতি লেখকের যত্ন মমতা ফুটে উঠেছে, যদিও কিছু টাইপো রয়ে গেছে, সেটাকে কারিগরি অপারগতা হিসেবেই দেখছি।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : অাল-মামুন (১৯৮৫-১৯৯১)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।