রাজনৈতিক ছড়া- ‘ছাত্রনেতা’

এক চুমুকে চা শেষ করে, কষে দেবো বক্তৃতা
হাত-পা খিঁচে, ঝাড়বো কেশে- রাজনীতির ঐ ছককথা।
ডিম-পরোটা, ডাল-ভাজি, সাথে কলিজা আর লটপটি
সকাল বেলার নাস্তা আমার, মিষ্টি-ঝালে চটপটি।
পেটটি আমার খালি গেলে- হারিয়ে ফেলি কথার খেঁই
কথার ঝাঁঝে আগুন জ্বালাই- পড়লো পেটে খাবার যেই।
‘আগুন জ্বালো’, ‘আগুন জ্বালো’- জ্বালাই আগুন চারিধার
দিচ্ছে আলো প্রদীপখানা, গোড়ায় কিন্তু অন্ধকার।
মাস পেরিয়ে বছর গেলো, দিইনে টাকা কেন্টিনের
চায়লে টাকা মধু ভাইয়ে, হাতটি গোটাই আস্তিনের।
হল দখলের শক্তি খেলায় পেশীর জোরে কুপোকাত
করতে আমার নেই যে জুড়ি প্রতিপক্ষের মুন্ডুপাত।
এক ইয়ারেই পাঁচটি বছর, পড়ালেখায় আদু ভাই
কলাভবন, টিএসসিতে সদলবলে চষে বেড়াই।
‘লাইলী’ ধরা সহজতো নয়, মজনু হবার ভান করি
লম্ফ দিয়ে, দৃষ্টি কেড়ে, হেঁড়ে গলায় গান ধরি।
জামার নীচে ‘মালটি’ গোঁজা, বেরতো সেটা করতে বারণ
ফট করে তা বের যে করি- কারন নাকি অকারন।
রাজাধীরাজ ভাবখানা মোর, হবেই বা না কেন তা?
নেত্রী বড্ড স্নেহ করেন, আমি যে তার ছাত্রনেতা।

আব্দুর রহমান আবিদ
রচনাকালঃ মে, ২০১০

৪৯০ বার দেখা হয়েছে

১৮ টি মন্তব্য : “রাজনৈতিক ছড়া- ‘ছাত্রনেতা’”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    এর আগে আপনার ব্লগ কখনো পড়া হয়নি। নানাকারণে মাঝে মাঝে আসা হয়ে ওঠেনা।
    মেডিকেল, বুয়েট, ভার্সিটির এই ছাত্রনেতাদের দেখে দেখে কত যে অভিসম্পাত দিয়েছি নিজের ভাগ্যকে আর আমাদের এই ব্যবস্থাকে। আপনার এই এক লেখায় তার সবটাই কি নির্মমভাবে তা ফুটে উঠলো।
    জানিনা আজকালকার ভার্সিটিগুলোতে কি অবস্থা। একই রকমই আছে বলেই তো মনে হয়।
    আপনার আরো লেখাগুলোও পড়ে নিচ্ছি এই বেলা। মুগ্ধতা জানিয়ে রাখলাম এইখানে।
    ভালো থাকুন।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : আব্দুর রহমান আবিদ (৮০-৮৬)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।