জীবিতদের গালগল্প
লিখেছেনঃ তৌফিক (৯৬-০২) | শুক্র, ২২/০৮/০৮ ৫:৫৬ অপরাহ্ন
তখন আমরা বসে আছি ঢাকা মেডিকেলের লাশকাটা ঘরের সামনে। ভেতরে লাশ হয়ে পড়ে আছে আমার বন্ধু, আমাদের বন্ধু -আলম। ওর বুক আর করোটি ফুড়ে দিয়ে গেছে যে বুলেট দুটো, ডাক্তাররা তার খোঁজ করছেন ওর শরীরের ভেতর হাতড়ে হাতড়ে। আমি ভেতরে যাই না, বুকে জমে থাকা ভালো লাগা অজস্র স্নৃতির ভীড়েই থাকুক ও, লাশকাটা ঘরে শুয়ে থাকা চিরে ফেলা শরীরটাকে ওই স্নৃতিগুলোর সাথে নাই বা যোগ করলাম। কী এসে যায় এখন আর…
দূর থেকে আন্টি আংকেলের শোক দেখছিলাম, কাছে যাওয়ার সাহস হয়নি। থেমে থাকা সময়টা একসময় শেষ হয়, সাদা কাপড়ে মোড়ানো বন্ধু আমার ট্রলিতে করে বেরিয়ে আসে। সারাজীবন যেমন দেখেছি ওকে ঘুমাতে, প্রশান্ত আর নিষ্পাপ, তেমনি ঘুমিয়ে আছে ট্রলির উপর। এইঘুম আর ভাঙবে না, এ কথাটা মনে হতেই আমার সব বাধ ভেঙে যায়…এইভাবে চলে যায় কেউ? এম্বুলেন্সের জানলায় পড়া নিজের ছায়ার ভেতর দিয়ে দেখি আধো অন্ধকারে ওর মুখটাকে। না কামানো দাড়ি, কান পর্যন্ত জুলফির পরিচিত মুখটার কপালের পাশে বুলেটের ক্ষতটাকে বড় বেমানান লাগে। এম্বুলেন্সটা আর দেরি করে না, আস্তে আস্তে সামনে বাড়তে থাকে। পেছনে পড়ে থাকি আমরা, পাথরের মতো মুখ করে থাকা কিছু ছেলেপেলে। একটু পর কে যেন একজন বিষন্ন গলায় বলে, চল যাই…
আধাঘন্টা পর, আমি বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের কোন একটা ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আলমের টুনি বউ হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছে। চোখের জল কখন শুকিয়ে গেছে, আর কাঁদতে পারছে না, শুধু ফোপাচ্ছে। ডাক্তার এসে কড়া সিডেটিভ দেন ওকে, ফোপাতে ফোপাতেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও।
সবকিছু শুনশান হয়ে এলে আমি গিয়ে দাড়াঁই বারান্দায়। আকাশ ভাসিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। অবোধ অনুভূতিহীনতায় বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলাম, ঘোর ভাঙলো পায়ের শব্দে। পাশে এসে মাশরুর দাড়াঁয়, মোস্তফা দরজায় হেলান দেয়া। বাক্যহীন কেটে যায় কিছু মুহূর্ত, হঠাৎ মাশরুর এসে জড়িয়ে ধরে আমাকে। টের পাই কাদঁছে ও, আমি স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করি। মুখ দিয়ে একটা কথাও বের হয়না আমার। ডুবন্ত মানুষ যেমনি খড়কুটো ধরে, তেমনি আমাদের দুজনকে আকঁড়ে ধরে মোস্তফা। আমি আর নিজেকে সামলাতে পারি না, কান্না জিনিসটা বড় সংক্রামক। আমরা তিনজন একে অন্যের কাঁধে মুখ লুকিয়ে কাদঁছি আর বৃষ্টির ছাট এসে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল আমাদের।
শোক বা বৃষ্টি কোনটাই সেদিন আমাদের বেশি ভেজায়নি, যেটাতে আমরা হাবুডুবু খেয়েছিলাম তার নাম- বন্ধুত্ব।





















আগস্ট ২২, ২০০৮ , ৬:৫৮ অপরাহ্ন
@বাহলুল ভাই,
আমিন(১৯৯৬-২০০২)- এর “ক্যাডেট নম্বর ১৮৬২” এই সিরিজটা কষ্ট করে একটু ফলো করবেন। আসলে ওর লেখাটা পড়েই আমি এটা লিখেছি। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
——————————–
আশিক, সময় সত্যি বড় তাড়াতাড়ি যায়।
[জবাব দিন ]
আগস্ট ২২, ২০০৮ , ৮:২৪ অপরাহ্ন
Thank you vai.
[জবাব দিন ]
আগস্ট ২২, ২০০৮ , ৯:১০ অপরাহ্ন
ক্যাডেট নম্বর ১৮৬২তে তো আলমের ঘটনার ডিটেইলস পাইলাম না।
[জবাব দিন ]
আগস্ট ২২, ২০০৮ , ৯:৩১ অপরাহ্ন
সরি বাহলুল ভাই, ওই সিরিজটাতে মনে হয় ডিটেইলস আসবে। তার আগে পর্যন্ত সংক্ষেপে বলে রাখি, আলমের পুরো নাম এইচ.এম. আরিফিন আলম রুশো। ২০০৭ সালের ২৩শে মে ধানমন্ডীতে ছিনতাইকারীদের গুলিতে মারা যায় ও, বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪। বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। মরে না গেলে ওই সপ্তাহের শুক্রবার এনগেজমেন্ট হয়ে যেত হয়ত। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ছিল, উচ্চতর পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ড যাবার পরিকল্পনা করছিল।
[জবাব দিন ]
আগস্ট ২৩, ২০০৮ , ৬:৫৪ অপরাহ্ন
ধন্যবাদ।
[জবাব দিন ]
আগস্ট ২৪, ২০০৮ , ৯:৫৪ অপরাহ্ন
তৌফিক, তুমি কি আই,ইউ,টি তে পড়তা নাকি। কেমন চিনা চিনা লাগতেছে তোমার চেহারা।
[জবাব দিন ]
আগস্ট ২৪, ২০০৮ , ১০:৫৯ অপরাহ্ন
জ্বি বাহলুল ভাই, মেকানিক্যাল ০২।
[জবাব দিন ]