আমার ভিতর-বাহিরে অন্তরে অন্তরে…
লিখেছেনঃ কামরুল হাসান (৯৪-০০) | মঙ্গল, ২৬/০৮/০৮ ৩:৩২ পূর্বাহ্ন
কালবেলা ভাইয়ার পোস্টটা পড়ে একটু মন খারাপের মতো হলো। কমেন্ট দিতে গিয়ে দেখলাম অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে আলাদা পোস্ট লিখতে হলো।
ভাইয়ার বেশ কিছু বিষয়ের সাথে একমত হতে পারছিনা।
“ক্যাডেট কলেজে ক্যাডেট রা হল রাস্তার পাশে সারি সারি পাতাবাহারের মত…………………… পাতাবাহার গাছ গুলোকে কি করা হয় কিছুদিন পর পরই? কাঁচি দিয়ে ছেটে দেয়া ………………………এখানে নিজের মত করে বড় হবার সুযোগ নেই। নিজের মত থাকার সুযোগ নেই”।
আমি জানিনা ভাইয়া কোন বাংলা স্যার কথাটা বলেছিলেন। নামটা জানতে পারলে আমি নিজে স্যারকে ফোন করে বলতাম “স্যার আপনি পুরোপুরি ঠিক বলেননি”।
ক্যাডেটরা কখনোই রাস্তার পাশে সারি সারি পাতাবাহারের মতো না। ক্যাডেট কলেজেও নিজের মতো করে বড় হবার সুযোগ আছে। নেই কে বলেছে? হ্যা, কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়, মাঝে মাঝে একটু বেশিই হয়তো। কিন্তু সেটা তো সব জায়গাতেই। আমরা যে পরিবারে বড় হই, আমাদের বাবা মা’রা তো আমাদের কিছু নিয়ম নীতির মধ্যেই বড় করেন। নাকি সব বাবা মা ছেলে মেয়েকে যা খুশি তাই করতে দেন? সব বাবা-মা ছেলে মেয়েদের এক ভাবে মানুষ করেন না, সেজন্যে সবার ছেলে মেয়ে একরকম হয়ও না। ক্যডেট কলেজে ভর্তি হবার আগে আমরা যে স্কুলে পড়তাম, বা ক্যডেট কলেজে ভর্তি হতে না পারলে যে স্কুল গুলিতে পড়তাম সেখানেও কি সবাইকে নিজের মতো করে সব করতে দেয়া হয়? মনে হয় না ভাইয়া। কিছু নিয়ম-নীতি সবাইকেই মেনে চলতে হয়। ক্যাডেট কলেজে হয়তো একটু বেশি কিন্তু সেটা কখোনই “একটি মেধাবী ছেলেকে সারা জীবনের জন্য অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার মতো” নয়।
এক টু আগে আমাকে বিশ্বজিত ভাইয়া বলে একজন ফোন করলেন। আমার সাথে তার পরিচয় নেই। কোনদিন নামই শুনিনি। বললেন,
-কামরুল বলছ ?
-জি
-আমি বিশ্বজিত, পিসিসি, টেনথ ব্যাচ
-স্লামালিকুম ভাইয়া
-আচ্ছা সিসিবি গেট টুগেদারটা কখন কোথায় হবে আমাকে বলতো
বুঝলাম জিহাদের কল্যানে আমি আর আমার ফোন নাম্বার বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাইয়াকে জিহাদের দেওয়া সময় আর জায়গা বললাম। তারপর নানা আলাপ সালাপ। ভাইয়া ‘কেয়ার বাংলাদেশে’র অনেক বড় কর্মকর্তা। শুধুমাত্র গেট টুগেদারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসবেন। আমি কি করি, নাটক বানাতে কেমন লাগে এইসব।
কি সহজ-সরল, জড়তাহীন সম্পর্ক। উনি পিসিসি, টেনথ ব্যাচ বলার সাথে সাথে আমি বুঝি আমি উনার জুনিয়র, তাই শুরুতেই ‘আপনি’ আর উনিও শুরু থেকেই ‘তুমি’।
কোনদিন যাকে চিনতাম না, এক ফোনেই তাকে কতো আপন করে ফেলা।
এটা শুধু ক্যাডেট বলেই সম্ভব। অন্য কোথাও নয়। তাইনা কালবেলা ভাইয়া?
“আবার কেউ বা ৬ ছয়টা বছর ধরে চোখের আড়ালে কিছু জল আর বুকে পাথর চেপে নিয়ে পার করে দিয়েছে চুপিচুপি সময়”।
একটু বেশি নিষ্ঠূর হয়ে গেলো না ভাইয়া? ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের মতো এমন বন্ধু দুনিয়ার কোথায় পাবেন বলেন তো? এতো মায়া, এতো ভালোবাসা আর কে দিবে আপনাকে? চোখের জল মুছে দিয়ে, বুকের পাথর সরিয়ে দেওয়ার মতো বন্ধু আছে বলেই না আমি আপনি ক্যাডেট কলেজে পড়ার জন্য গর্ববোধ করি।
“কলেজের সবচেয়ে বড় একটিভিটি হচ্ছে পড়াশুনা। কলেজে লেখাপড়ায় যে ভালো সেই ই রাজা। এখানে ভালো করতে না পারলে সবদিক দিয়েই কষ্ট। একধরনের হীনমন্যতা কাজ করা শুরু করে। ক্লাসমেটদের মধ্যে চার-পাঁচ ধরনের অদৃশ্য স্ট্যাটাস/লেয়ার তৈরী হয়ে যায়। ভালো রেজাল্ট করা পোলাপান গুলো একদিকে, মিডিয়াম গুলো একদিকে, এক্কেবারে খারাপ করা গুলো হয়ত আর এক দিকে। ক্রমে ক্রমে সে নিজেকে নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলতে শুরু করে। ভালো করতে না পারলে স্যার-ম্যাডামরাও তেমন একটা চেনে না ভালো করে”।
এটা কি ঠিক হলো ভাইয়া? অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্টানের চেয়ে ক্যাডেট কলেজে পড়াশুনাটা বরং একটু কম ইম্পর্টেন্স দেয়া হয়। আমাদের এক বড় ভাইয়া ছিলেন, অনেক দুষ্ট। শেষ পর্যন্ত কলেজ আউট হলেন দুষ্টামির কারনে, কিন্তু কিছুদিন পরে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হল কারন উনি কলেজের সেরা বাস্কেটবল খেলোয়ার। স্পোর্টস, কালচারালের এতো ইম্পর্টেন্স আর কোথায় দেয়া হয় বলেন তো? ভালো ছাত্রদের ছাড়া অন্যদের স্যার ম্যাডামরা চিনেনা কথাটা একদম ভুল। আপনি বাংলা স্যারের নাম ভুলে যেতে পারেন কিন্তু গিয়ে স্যারের সামনে দাড়ান, আমার ধারনা স্যার আপনাকে ঠিকই চিনতে পারবে।
তার জলন্ত প্রমান আমি নিজে। আমার রেজাল্ট শুনলে আপনি হার্টফেল করবেন তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। এই আমি যখন কলেজে যে স্যারটি আমাকে সবচেয়ে বেশি মারতেন তার সামনে গিয়ে দাড়াই তখন উনি কি পরম স্নেহে আমাকে বুকে টেনে নেন।
এই জীবনে আমি আমার ক্যাডেট কলেজের স্যারদের ছাড়া আর কারো পা ছুয়ে সালাম করিনি। কারন আমি তো জানি উনি আমাকে সেই বয়সে অন্যদের চেয়ে কতোটা এগিয়ে দিয়েছিলেন। এখনো তাই আমি আমার সেই স্যারদের মিস করি আর একা একা বলি “কোথায় পাবো তাদের”।
আশিকের কমেন্টটা সবচেয়ে মনে ধরেছে আমারঃ
বাবা মার কথা রাখার জন্য দিনে তিনটা করে প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ে যে ছেলেটা তার কৈশোরটাকে নষ্ট করে দেয়, তার থেকে বেড়িয়ে আসার সুযোগ করে দেয়। যে পড়তে চায়, সে পড়তে পারে। যে খেলতে চায় সে খেলতেও পারে। যার এক্সট্রা কারিকুলারে উৎসাহ থাকে সে সেটারও চর্চা করতে পারে। দেশের কটা স্কুল কলেজ এ সুযোগ করে দিতে পারে? পড়াশোনায় ভালো হয়ে বোর্ডে ফার্স্ট স্ট্যান্ড করাটাকে কিন্তু কিছুতেই সার্থক জীবন বলা যেতে পারে না। আমি তা মনে করি না।
আমিও না। ক্যাডেট কলেজ সবচেয়ে ফিটেস্ট মানুষ তৈরী করতে চেষ্টা করে। সেটা খুব একটা সহজ না। একটু কষ্ট তো করতেই হবে। আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে খারাপ রেসাল্ট ছিল যে ছেলেটার সে এখন দুনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বহুজাতিক ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা। ওই পর্যন্ত সে যেতে পেরেছে কারন ক্যাডেট কলেজ তাকে ওই ভাবে তৈরী করেছে।
আপনার লেখা পুরোটা শেষ হয়নি। তার আগেই এটা দেয়া বোধহয় ঠিক হলো না। ক্ষমা করবেন।
পুনশ্চঃ
কিছুদিন আগে আমার কলেজের এক বড় ভাইয়া(আমার ১০ ব্যাচ সিনিয়র)’র সাথে একটা বিষয় নিয়ে বিতর্ক করছিলাম। উনি একটা বলেন, আমি অন্যটা বলি। শেষে উনি রেগে গিয়ে আমাকে বললেন, Let me remind you, you are dealing with a different kind of animal here –‘Cadets’. One of the smarter groups of human species, if not the smartest!
কথাটা আমার খুব মনে ধরল। আমিও তাকে বললাম
ভাইয়া Let me remind you, you are also dealing with a different kind of animal here-Cadets. One of the smarter groups of human species, if not the smartest!
তারপর দুই জন হাসতে হাসতে সিগারেট ধরালাম।

























আগস্ট ২৬, ২০০৮ , ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
টাইপিং বিভ্রাট
ক্তহা = কথা।
রক্ত মানুষের মানুষ= রক্ত মাংসের মানুষ।
দুঃখিত।
[জবাব দিন ]
সেপ্টেম্বর ৯, ২০০৮ , ১১:৩১ অপরাহ্ন
আর
কৃত্রিম এর আগে ও একটা ‘অ’ বাদ গেছে দেখতেছি।
[জবাব দিন ]