ফিরে ফিরে আসি-২
লিখেছেনঃ কামরুল হাসান (৯৪-০০) | বৃহঃ, ২১/০৮/০৮ ৫:২৩ পূর্বাহ্ন
৩.
ক্লাস শেষ হওয়ার পর এক স্যার চলে গিয়ে অন্য স্যার আসার আগে মাঝে মাঝে দুই এক মিনিট সময় পাওয়া যায়। সেই সময় আমরা খুব মজা করতাম। একজন অন্যজন কে পচানো, হিট-ফ্লপ রস করা সব হতো ওই সময়। কেউ গলা ছেড়ে গান গাইতো, কয়েকজন টয়লেটে যাবার জন্য দল বেধে বেরিয়ে যেতো। শুধু দু একজন তখনো ঘুমিয়ে থাকতো। কে আসলো, কে গেলো, কার ক্লাস এই সব তাদের কাছে কিছুই মানে রাখে না। তাদের প্রধান কাজই হলো ঘুম।
এই রকম একদিন ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমাদের আশরাফ উঠে লেকচার ডায়াসের সামনে গিয়ে তপংকরের দিকে তাকিয়ে নেচে নেচে গান গাইছিল,-“তোমায় নিয়ে নাও ভাসিয়ে যাবো তপংকর।” আর হাত দিয়ে নাও ভাসানোর খারাপ ইঙ্গিত করছিল। হঠাত করে শিকদার স্যার এসে পরলেন। হাতেনাতে ধরা। স্যার স্কেল নিয়ে আসলেন।
-কি গান গাইতেছিলা বল?
-স্যার এমনেই গুন গুন করতেছিলাম
-কি গুন গুন করতেছিলা?
-স্যার এমনেই গুন গুন স্যার
-এমনেই কি? এমনেই কি?
বলে স্যার পিটানো শুরু করলেন। স্কেল আশরাফের পিঠে মারছেন আর বলছেন
-বলো, বলো কি গান গাইতেছিলা?
মাইর সহ্য করতে না পেরে শেষে আশরাফ বলল
-স্যার গাইতেছিলাম… “বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি যদি দাও।”
৪.
ক্লাস সেভেনে যেদিন প্রথম কলেজে যাই সেদিন রাতে ক্লাস টুয়েলভের ভাইয়ারা আমাদের ডাকলেন, আমাদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য। আমরা ভয়ে ভয়ে গেলাম। ভাইয়ারা অনেক আন্তরিক হয়ে আমাদের সাথে কথা বলছেন, কে কোথা থেকে এসেছে জানতে চাইলেন, কার হবি কি? কে কি খেলা পছন্দ করে এই সব। আমরা কেও বললাম ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি, কেও গান গাইতে, কেও ঘুরতে। বলতে বলতে এক সময় একজন আমাদের সিদ্দিকী কে জিজ্ঞেস করলেন
-তোমার প্রিয় খেলা কি?
-ভাইয়া ফুটবল
-তুমি ফুটবল খেলো?
-জি ভাইয়া
-কোন পজিসনে খেলো
-ভাইয়া কর্নার পজিসনে।
-অ আচ্ছা আচ্ছা ।
ভাইয়ারা কয়েকজন একসাথে হো হো করে হেসে উঠলেন। আমরা বুঝতে পারলাম না কেও কর্নার পজিসনে খেললে হাসির কি আছে?
৫.
আমাদের ডাক্তার স্যার কে আমরা সবাই ডাকতাম মদন। সিক রিপোর্ট করে কেউ হাসপাতালে গেলে উনি অনায়াসে তার লাইফ হেল করে দিতেন। প্রথমত তার সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে হতো। ডাক্তার স্যার জিজ্ঞেস করতেন ,-হোয়াট হেপেন্ড?
তখন যার যা সমস্যা ইংরেজিতে সেই রোগের নাম বলতে হতো। এখন সব রোগের নাম তো আর ইংরেজিতে বলা সম্ভব না। তখন এডমিট, পিটি এক্সকিউস তো দুরের কথা উল্টা ঝারি এবং ক্ষেত্রবিশেষে মাইর খাইতে হতো।
তো আশরাফের একবার পেট খারাপ হলো। সিক রিপোর্ট করার আগে একে ওকে জিজ্ঞেস করে ও পেট খারাপের ইংলিশ শিখে নিলো, লুজ মোশান। আমরা ওকে বার বার মনে করিয়ে দিলাম, “লুজ মোশান, দেখিস ভুলিস না কিন্তু, লুজ মোশান, লুজ মোশান।“ ও বলল, “না না ঠিক আছে, লুজ মোশান”। তারপর সিক রিপোর্ট করে স্মার্টলি ডাক্তার স্যারের রুমে গেল। আমাদের ডাক্তার স্যার তার বিখ্যাত মদন মার্কা হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন
- হোয়াট হেপেন্ড আশরাফ?
-স্যার আমার স্লো মোশান হইসে। আই হেভ গট স্লো মোশান। আশরাফ স্মার্টলি উত্তর দিল।
-ইউ ব্লাডি শিট, হোয়াট ইজ স্লো মোশান?
-স্যার হোয়েন আই গো টু টয়লেট অনলি লিকুইড কামস আউট,নো সলিড। দেট ইজ শ্লো মোশান।
এর পরে কি হইছিল সেইটা আর আশরাফ আমাদের বলে নাই।























আগস্ট ২১, ২০০৮ , ৪:০৬ অপরাহ্ন
কার ? তোর?
দেশে চইলা আয়।
[জবাব দিন ]
আগস্ট ২১, ২০০৮ , ৭:২১ অপরাহ্ন
মামূ বদনা আছে তো…………………।
[জবাব দিন ]
অক্টোবর ১৫, ২০০৮ , ৫:২৩ অপরাহ্ন
বদনা আছে। তবে তলা ফুটা।

খুব খিয়াল কইরা কাম সারতে হবে
[জবাব দিন ]