আমার প্রথম ই,ডি,
লিখেছেনঃ বাহলুল (৯৩-৯৯) | রবি, ২৪/০৮/০৮ ৪:০৭ অপরাহ্ন
আমাদের কলেজে ইডি খাওয়ার ঘটনা খুব কম ছিল। খুব গুরুতর অপরাধ করলে ইডি ইসু করা হত। আমাদের ১৯৯৩ ইনটেকের সিলেট ক্যাডেট কলেজের অনেকে নাকি ২৫-৩০ টা ইডি খাইছে। কিন্তু রংপুরে আমাদের ব্যাচের কেউ মনে হয় ৫ টার বেশি ইডি খায়নি ৬ বছরে। অধিকাংশ ক্যাডেট ৬ বছর ইডি না খেয়েই ক্যাডেট কলেজ পার পেয়েছে। যেই সামান্য কয়েকজনের ইডি খাওয়ার সৌভাগ্য হয়, আমি ছিলাম তাদের মধ্যে একজন। শুধু তাই না, আমার প্রথম ইডি আমি খাই ক্লাশ ৯ এ। ৬ বছরে আমার কপালে জুটে মোট ২টি ইডি। আমি মনে হয় আমাদের ব্যাচের প্রথম ৩-৪ জন ইডিখোরের মধ্যে একজন ছিলাম।
আমার প্রথম ইডি খাওয়ার ঘটনাটা বলি। ঘটনাটা রিভার্স ওর্ডারে বললে মনে হয় বেশি ইন্টারেস্টিং হবে। কলেজ থেকে আমার আম্মার কাছে চিঠি আসে। চিঠির প্রথমেই যা লিখা ছিল তা ছিল অনেকটা এইরকম- “আপনার ছেলের কাছে অবৈধ জিনিস পাওয়া গেছে। আপনার ছেলেকে শেষবারের মত সতর্ক করা হচ্ছে”। চিঠির প্রথম অংশ পরেই আমার আম্মা অনেক ভয় পায়। ভাবছিল যে আমার কাছে মনে হয় কলেজ কর্তৃপক্ষ অস্র-টস্র পাইছে। পুরা চিঠি পরার পর বুঝতে পারল যে আমার কাছে অবৈধ চকলেট পাওয়া গেছে। হে হে।
আসল ঘটনা হইল, প্যারেন্টস ডে এর পর আমার এক মামাত ভাইকে বলছিলাম দেয়ালের বাইরে থেকে আমাকে চকলেট ঢিল দিয়ে দেয়ার জন্য। কথামত আমার সেই ভাই প্যারেন্টস ডে শেষে আমাকে চকলেট ঢিল দেয়। “পরবি পর মালির ঘাড়ে, সে ছিল গাছের আরে”। ধরা খাই ইসলামিয়াতের আনিস স্যারের কাছে। স্যার তখন মাত্র জয়েন করছে আমাদের কলেজে। বয়স মাত্র ২৮-৩০। আমার মনে হয় স্যার আমাকে ধরে অনেক আনন্দিত হয়েছিল। ক্রিকেটে ক্যাচ ধরার পর খেলোয়াররা যেইরকম আনন্দ করে ঠিক সেইরকম আনন্দিত হয়েছিল স্যার। স্যার পরে ক্লাসে সবসময় বলত ” বয়েজ বাহলুলকে আমার ইডি দেয়ার কোন ইচ্ছা ছিলনা, কিন্তু my hands are tied”। সেই ইডি ছিল আমার জীবনের খাওয়া প্রথম ইডি এবং স্যারের জীবনে দেয়া প্রথম ইডি।
আনিস স্যার আসলে আমদের অনেক স্নেহ করত। বিশেষ করে আমাকে অনেক স্নেহ করত। স্যারের সাথে ক্যাডেট কলেজ পাস করার পর দেখা হয় আই, ইউ, টির সামনের প্রিন্স রেস্টুরেন্টে। আমি তখন ৪র্থ ইয়ারে পরি আই,ইউ,টি তে। স্যার বিসিএস দিয়ে সরকারি কলেজে জনেয় করে। কলেজের কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিল। আমকে প্রথম দেখাতেই স্যার চিনতে পারে আর সবার সামনে চিল্লাইয়া বলে ” আমার বাহলুল”। অনেকে ছিল রেস্টুরেন্টে, তাই লজ্জা পেয়েছিলাম।
বছর ২/১ আগে শুনলাম স্যার হার্ট এটাকে মারা গেছে। ইন্না লিল্লাহ ……। অনেক কষ্ট পাই শুনার পর। বয়স ছিল ৪০ এর নিচে। স্যারের আত্তার মাগফিরাত কামনা করি।




















। আমি আছি মেমোরিয়ালে, অন্টারিওতে পিএইচডি করতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে :P, বাকি আল্লাহর হাতে। আপনার পিএইচডি যাত্রা শুভ হোক…আমিন।

হেভি মজা পাইলাম! 




)।তাই আমারে লগ ধরায় দিত।আরো দুষ্কের কথা, লগ ধরার কথা দুই ক্যাডেটের কিন্তু উনার ধারনা ছিল আমার আসলে ২ জন, খোদা অজানা কারণে একটা কইরা পাঠাইছে।ইয়া বড় লগ আমার কান্ধে একা নিয়া দৌড়াইতে হইত…আগে কি কষ্টে দিন কাটাইতাম…
আগস্ট ২৪, ২০০৮ , ৮:৪৪ অপরাহ্ন
সি,আই,টি, ৯৯ ব্যাচ। সি,আই,টি ডিপার্টমেন্টের লেকচারার ছিলাম ১ বছর।
[জবাব দিন ]